দীর্ঘ ১৮ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন মুশফিকুর রহিম। গতকাল রাতে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে বিদায় বলেছেন এই সংস্করণের ক্রিকেটকে। টি-টোয়েন্টি থেকে আগেই বিদায় নেওয়ায় সাদা বলের দুই সংস্করণেই মুশফিক এখন সাবেক। তবে চালিয়ে যাবেন টেস্ট ক্রিকেট।
২০০৬ সালে ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু করা মুশফিকের বিদায়ে তাদের শুভকামনা জানিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তার জাতীয় দলের সদস্যরা।
জাতীয় দলের গতিতারকা তাসকিন আহমেদ মুশফিককে নিয়ে লিখেছেন, ‘একটি অধ্যায় শেষ হলো! মুশি ভাই, আপনাকে ছাড়া বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট কল্পনা করা কঠিন। আপনার প্যাশন, ডেডিকেশন, ফাইটিং স্পিরিট সবকিছুই আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। আপনার সাথে মাঠ শেয়ার করতে পারা এবং শিখতে পারা আমার জন্য দারুণ সম্মানের ব্যাপার ছিল। পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য আপনাকে শুভকামনা – আপনার লিগ্যাসি সবসময় থাকবে।’
জাতীয় দলের আরেক পেসার শরিফুল ইসলাম লিখেছেন, ‘আমার কাছে আপনি সব সময়ই সেরা। ধন্যবাদ বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এতো সুন্দর সময় উপহার দেওয়ার জন্য। আপনার পরবর্তী জীবনের জন্য শুভকামনা।’
জাতীয় দলের তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় মুশফিককে আইডল উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘বগুড়া স্টেডিয়ামে আপনি (মুশফিক) প্র্যাকটিস করছেন শুনে ছোটবেলায় আপনাকে দেখার আশায় স্টেডিয়ামের গেইটের গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকা থেকে শুরু করে, ওডিআই - এর আন্তর্জাতিক ক্যাপ আপনার হাত থেকে গ্রহণ করা এবং একই ড্রেসিং রুম শেয়ার করা:- আমার কাছে রূপকথার গল্পের থেকে কম নয়‼ যদিও আমি বাকরুদ্ধ হয়ে আছি, তবুও আপনাকে অবসরের জন্য শুভকামনার বার্তা, আইডল মুশফিকুর রহিম। যেকোনো কিছুর চেয়ে এবং যে কারও চেয়ে বেশি মিস করব আপনাকে।’
বাংলাদেশ অনেক জয়ের সাক্ষী হয়েছে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাত ধরে। বেশিরভাগ সময়ই ম্যাচের উইনিং শটটা খেলেছেন এই দুইজনের একজন। দুইজনের সম্পর্কটা মাঠ থেকে গিয়েছে আত্মীয়তায়ও।
তাই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মুশফিকের প্রতি বিদায়ের বার্তাটা কিছুটা ব্যতিক্রম হবে তাই স্বাভাবিক। রিয়াদ স্মরণ করেছেন মুশফিকের বীরত্বের কথা, ‘প্রিয় মুশফিক, দুর্দান্ত ওয়ানডে ক্যারিয়ারের জন্য তোমাকে অভিনন্দন। দুবাইয়ে শ্রীলংকার বিপক্ষে পাঁজর ভাঙা সেঞ্চুরিটা আমার এখনও মনে আছে। এটা খেলার প্রতি তোমার শ্রদ্ধা, উৎসর্গ এবং সর্বোচ্চ স্তরে পারফর্ম করার জন্য কঠোর পরিশ্রমী মানসিকতা প্রদর্শন করে। তোমার এই ইনিংসটি যেকোনো ক্রিকেটারকে অনুপ্রাণিত করবে। নিঃসন্দেহে তুমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের রত্ন। লাল বলের যাত্রার জন্য তোমাকে শুভকামনা।’