মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অবসর নিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে, এই খবরটা সবাই জেনে গেলেও রেশটা এখনও রয়ে গেছে। কিছুদিন আগে আলাপ উঠেছিল যে রাচিন রবীন্দ্রর পাঁচ শতকের সবকটিই আইসিসি আসরে। মাত্র ১৪ ইনিংসে এই শতকগুলো তিনি করেছেন।
অন্যদিকে, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চার শতকের চারটিই করেছেন আইসিসি আসরে। গতকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো রিয়াদ টেস্টকে বিদায় বলেছেন জিম্বাবুয়ের মাটিতে ২০২১ সালেই। টি-টোয়েন্টি ছেড়েছেন গেল বছর ভারতের মাটিতে।
ক্যারিয়ারের ওয়ানডে সেঞ্চুরির সবগুলোই এসেছে আইসিসি আসরে। যার মানে হলো ওয়ানডে ক্যারিয়ারের শতভাগ সেঞ্চুরিই আইসিসি আসরে হাঁকিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে তিনটি ওয়ানডে বিশ্বকাপে আর একটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। এরমধ্যে দুটি সেঞ্চুরিতে আছে দুই ঐতিহাসিক জয় আর দুটিতে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ।

১০৩
৯ মার্চ ২০১৫, অ্যাডিলেড
বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে স্বরণীয় জয় বললে ভুল হবে না ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচকে। ১৫ রানের জয়ের ম্যাচের শেষটা রুবেল হোসেনের হলেও শুরুটা তো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। ৯৯ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংস মেরামত করেন তিনি। তার ইতিহাস সৃষ্টি করা শতকেই বাংলাদেশ চাপ সামাল দিয়েছিল ইংলিশ বোলারদের সামনে। বিশ্বকাপের বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সেদিন খেলেন ১০৩ রানের এক অনবদ্য ইনিংস। সেই ম্যাচ জিতে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে বাংলাদেশ।
১২৮*
১৩ মার্চ ২০১৫, হ্যামিল্টন
পরের ম্যাচে আবারও শতক মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে। এবারের ইনিংসে আগের চেয়ে দাপুটে। ২৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার ইমরুল ও তামিম যথারীতি ব্যর্থ। পরে সৌম্য সরকারের সঙ্গে ৯০ ও সাব্বির রহমানের সঙ্গে ৭৮ রানের জুটিতে তিনশো ছুঁইছুঁই দলীয় সংগ্রহের পাশাপাশি আদায় করেন নিজের ক্যারিয়ার ও বিশ্বকাপে টানা দুই সেঞ্চুরি। অপরাজিত ছিলেন ১৩৩ বলে ১২৮ রান করে। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ম্যাচটি হেরে যায় ৩ উইকেটে।

১০২*
৯ জুন ২০১৭, কার্ডিফ
২০১৯ বিশ্বকাপ থেকেই বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতে চায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়নি। তবে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারে বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছিল। যেটি সম্ভব হয়েছিল মাহমুদউল্লাহর লড়াকু ইনিংসে। সেই ম্যাচের কথা এলে সাকিব আল হাসানকেও মনে করতে হয়। এই দুইজনের লড়াকু জোড়া শতকেই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমির সম্ভাবনা জাগায় বাংলাদেশ। পরদিন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয়ে নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের সেমিফাইনাল।
পরিস্থিতি বিবেচনায় মাহমুদউল্লাহ এবং সাকিবের এই সেঞ্চুরি মোটেও সহজ ছিল না। কিউইদের ২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা বাংলাদেশ ৩৩ রানেই হারায় ৪ উইকেট। এরপর সাকিবকে সঙ্গী করে ২২৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। জয় থেকে ৮ রান দূরে থাকতে সাকিব আউট হলেও মোসাদ্দেককে নিয়ে বাকি কাজ অনায়াসে সেরেছেন মাহমুদউল্লাহ।

১১১
২৪ অক্টোবর ২০২৩, মুম্বাই
এই ইনিংসটি কেবলই ব্যক্তিগত অর্জন হলেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মনের খুব কাছেই থাকার কথা ইনিংসটি। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন তিনি। ৩৮২ রানের জবাবে বাংলাদেশ ম্যাচটি হারে ১৪৯ রানের বড় ব্যবধানে। সেখানে একাই ১১১ রান করেন রিয়াদ। বিশ্বকাপের আগে তার দলে থাকা না থাকা নিয়ে তৈরি হয় সংশয়। দলে আর ফেরা নিয়ে আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি নিজেও। কিন্তু বাদ পড়েও আবার নিশ্চিত করেন বিশ্বকাপে নিজের জায়গা। তাই এই শতকটা তার যোগ্যতার জবাবও ছিল বটে।