লক্ষ্যটা ছিল অনেকবড় ৩৪৫। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এমনিতেই জয় পাওয়া কঠিন। তার ওপর লক্ষ্যটা যদি হয় প্রায় সাড়ে তিনশো, তখন জেতার আশা করাই ভুল। এরপরও পাকিস্তান জয়ের জন্যেই এগোচ্ছিল।
বাবর আজম যখন আউট হন দলীয় ২৪৯ রানে, তখন ৪ উইকেটে পতন হয় পাকিস্তানের। জয়ের জন্য ৬৮ বলে ৯৬ রান দরকার সফরকারীদের। এখনকার ক্রিকেটে ৬ উইকেট হাতে রেখে এই রান তাড়া করা কোনো ব্যাপার নয়।
কিন্তু নিজেদের চিরচেনা স্বভাবে ফিরে গিয়ে শেষ ২২ রান তুলতেই সবকটি উইকেট ২৭১ রানে অলআউট হয় মোহাম্মদ রিজওয়ানের দল। ফলে প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের পরাজয় ৭৩ রানের।
স্বাগতিকরা টস হেরে ব্যাত করতে নেমে ৫০ রানে ৩ উইকেট হারালেও সেই চাপ সামাল দেন মার্ক চাপম্যান ও ড্যারিল মিচেল। তাদের জুটি হয় ১৯৯ রানের। মিচেল ৭৬ রানে সাজঘরে ফিরলেও পাকিস্তানের বোলারদের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে ১১১ বলে ১৩২ রান করেন চাপম্যান।
আর শেষ দিকে অভিষিক্ত মোহাম্মদ আব্বাসের রেকর্ড ২৬ বলে ৫২ রানের সুবাদে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৪৪ রান তুলে নিউজিল্যান্ড।
ম্যাচ হারলেও পাকিস্তানের শুরুটাও ছিল দারুণ। দুই ওপেনার উসমান খান ও আবদুল্লাহ শফিক মিলে ১২.৪ ওভারে যোগ করেন ৮৩ রান। সেই জুটি ভাঙে উসমান ৩৩ বলে ৩৯ রানে বিদায় নিলে। উসমানের বিদায়ের পর ৫ রান যোগ করতেই ফেরেন শফিকও। ৩৬ রান করেছেন তিনি।
এরপর দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজম গড়েন ৭৬ রানের জুটি। অধিনায়ক রিজওয়ান ইনিংস বড় করতে পারেননি। ম্যাচের লক্ষ্য বিচারে তার ৩০ রান ভালো স্কোর নয়।
তবে চেষ্টা চালান বাবর। রিজওয়ানের বিদায়ে জুটি গড়েন সালমানকে নিয়ে। সেই জুটিতে পাকিস্তানের বোর্ডে যোগ হয় ৫৯ বলে ৮৫ রান। এই দুইয়ের জুটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে পাকিস্তান। কিন্তু বাবর ৮৩ বলে ৭৮ রান করে ফিরলে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো।
৩৪ বলের মধ্যে ২২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায় ২৭১ রানে। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের শেষ ছয়জন মিলে করেন স্রেফ ৩ রান।