রাবাদা বনাম হ্যাজলউড, জ্যানসেন বনাম স্টার্ক, মহারাজ বনাম লায়ন। ২২ গজের এক প্রান্ত থেকে গতির ঝড় তুলবেন পেসাররা, অপর প্রান্তে ঘূর্ণিঝড় তুলবে স্পিনাররা। যখন শীর্ষ ১০ টেস্ট বোলারের পাঁচজন দুই ফাইনালিস্ট শিবিরে, তখন এমনটাই অনুমেয়। তাই তো বলা হচ্ছে, আজ লর্ডসে শুরু হওয়া অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল কেবল বোলারদের জন্যই, যেখানে চ্যালেঞ্জ জয় করতে নামবে ব্যাটাররা। তবে এটাও বলে রাখা ভালো- দুই দলের চার ব্যাটার রয়েছেন র্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে।
বোলার আর ব্যাটার, দুই র্যাঙ্কিংয়েই এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড এবং নাথান লায়ন মুখিয়ে আছে দলকে টানা দ্বিতীয়বার ঐতিহাসিক গদা জেতাতে। বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে এই ত্রয়ীর অবস্থান তিন থেকে পাঁচে। সেরা দুইয়ের প্রোটিয়াদের ‘মেশিনগান’ কাগিসো রাবাদা, যিনি এই মুহূর্তে আরও তেঁতিয়ে আছেন এক মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে। ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়েছিলেন প্রোটিয়া পেসার। তার সতীর্থ মার্কো জ্যানসেন অবস্থান করছেন সপ্তম স্থানে। দক্ষিণ আফ্রিকার শিরোপা খরা ঘোচানোর মিশনে বড় দায়িত্ব রাবাদা-জ্যানসেনের কাঁধে।
ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে থাকা অস্ট্রেলিয়ার তিনজন হলেন স্টিভ স্মিথ, ট্রাভিস হেড এবং উসমান খাজা। অজিদের শক্তিশালী এই টপ-অর্ডারের বিপক্ষে আগুন ঝড়াতে হবে রাবাদাদের। অপরদিকে এই তালিকায় সেরা দশের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি তেম্বা বাভুবা, যার নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালের পর প্রথম আইসিসি ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে ফাইনাল খেলতে নামবে দল। ব্যাটিংয়ে তিনি ছাড়া প্রোটিয়াদের আরেক অস্ত্র এইডেন মার্করাম। প্রতিপক্ষের তুলনায় কমশক্তির ব্যাটিং লাইনআপ নিয়েই লড়তে হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। মজার বিষয় হলো, ফাইনালের আগে দুই দলই তাদের একাদশ নিশ্চিত করেছে।
লড়তে হবে ডিউক বলে
অবশ্যই, ব্যাটসম্যান এবং বোলারদের মধ্যে প্রধান সাধারণ বিষয় হলো বল। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়া কোকাবুরার সঙ্গে খেলতে অভ্যস্ত। কিন্তু ইংল্যান্ডে ডিউক বলের রাজত্ব এবং ফাইনালে এটিই ব্যবহৃত হবে। কোকাবুরার সিম ডিউকের তুলনায় চ্যাপ্টা এবং এর বার্ণিশ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। এর অর্থ হলো পিচের বাইরে কোকাবুরার নড়াচড়া এবং বাতাসে সুইং ডিউকের তুলনায় কম স্পষ্ট। এটি ব্যাটারদের জন্য ভালো খবর। অপরদিকে ফাইনালে ডিউক বলের ব্যবহার নিঃসন্দেহে বোলারদের জন্য খারাপ খবর।
বলের বিষয়টি মাথায় রেখেই স্টুয়ার্ট ব্রডকে বোলিং পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা। সাবেক ইংলিশ পেসার তার ৬০৪ উইকেটে ৩৯৮টি নিয়েছেন ডিউক বলে, যার ১১৩টি লর্ডসে। যেখানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৭টি উইকেট নিয়েছেন। ব্রড জানেন এই মাঠে এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই বল দিয়ে কীভাবে বল করতে হয়। কিন্তু তিনি কি এত অল্প সময়ের মধ্যে তার অস্থায়ী সতীর্থদের এই রহস্য শেখাতে পারবেন? প্রোটিয়া পেসাররা অন্তত শেখার দিক থেকে কোনো ত্রুটি রাখবে না, এটা বলা যায় কোনো তর্ক ছাড়াই।
পিচ রিপোর্ট
লর্ডসের পিচটি একটি ক্লাসিক ইংলিশ পিচের মতো আচরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ম্যাচের শুরুতে, বিশেষ করে প্রথম দিনে পেসারদের পক্ষে কথা বলবে। ব্যাটিং দল যদি প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নিতে পারে তাহলে পিচটি স্থির হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, ম্যাচ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটাররা শট খেলতে পারবে। চতুর্থ এবং পঞ্চম দিনের মধ্যে উইকেট শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যখন স্পিনাররা সহায়তা পাবে। সামগ্রিকভাবে, এটি এমন একটি পিচ যা ব্যাট এবং বলের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিযোগিতা প্রদান করে।
আবহাওয়া রিপোর্ট
প্রথম দিনের আবহাওয়ার জন্য, পরিস্থিতি নিরবচ্ছিন্ন খেলার জন্য অনুকূল থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে এবং আকাশ আংশিকভাবে রৌদ্রোজ্জ্বল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, সারা দিন কিছু মেঘ থাকবে। বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা খুবই কম (মাত্র ৮%), যা ভক্ত এবং খেলোয়াড় উভয়ের জন্যই চমৎকার খবর। আর্দ্রতার মাত্রা মাঝারি থাকবে এবং পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা মৃদু বাতাস পুরো খেলা জুড়ে আরামদায়ক খেলার পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করবে। সমস্ত লক্ষণই প্রায় আদর্শ আবহাওয়ার অধীনে ফাইনালের একটি রোমাঞ্চকর এবং প্রতিযোগিতামূলক শুরুর ইঙ্গিত দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার একাদশ: উসমান খাজা, মার্নাস লাবুশানে, ক্যামেরুন গ্রিন, স্টিভ স্মিথ, ট্রাভিস হেড, বিয়াউ ওয়েস্টার, অ্যালেক্স ক্যারি (কিপার), প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন এবং জশ হ্যাজলউড।
দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশ: তেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), এইডেন মার্করাম, রায়ান রিকেল্টন, উইয়ান মুল্ডার, ত্রিস্টিয়ান স্টাবস, ডেভিড বেডিংহাম, কাইল ভেরাইনি, মার্কো জ্যানসেন, কেশভ মহারাজ, কাগিসো রাবাদা এবং লুঙ্গি এনগিডি।