সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে কোনো দলের অন্দরমহলের খবর খুব একটা চাপা থাকে না। খেলোয়াড়দের চোট-সংক্রান্ত বিষয় তো নয়ই। আর নেইমার? তিনি তো বরাবরই এক ধাপ এগিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সব সময়ই সরব। দুদিন আগেই যেমন অনুশীলনের একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করে তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আদতে মাঠের লড়াইয়ের জন্য যে শতভাগ ফিট হয়ে গেছেন, সেই বার্তাটাই ভক্তদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এ তারকা।
এর আগে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিও জানিয়েছিলেন, গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নেইমার খেলবেন। তখন থেকেই খুশির জোয়ার বইছে সেলেসাও সমর্থকদের মনে। ব্রাজিল দলের গত দুই দিনের অনুশীলনে যে দৃশ্য দেখা মিলেছে, তাতে নেইমারের খেলার বিষয়ে আর কোনো সংশয় নেই বলেই মনে হচ্ছে। অর্থাৎ সব ঠিক থাকলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের জার্সিতে দেখা মিলবে সান্তোস ফরোয়ার্ডের। ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৪টায়। ভেন্যু মায়ামি।
সেই মায়ামি, যে মাঠে এর আগেও চোট কাটিয়ে প্রত্যাবর্তন ম্যাচ খেলেছিলেন নেইমার। সেটা অবশ্য ৭ বছর আগের ঘটনা। কলম্বিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ ছিল সেটি। আর এবার তো বিশ্বকাপের মঞ্চ। যে মঞ্চে পৌঁছবার জন্য উদ্বেগে ভরা শত রজনী পার করতে হয়েছে তাকে। ফলে এ দফায় মায়ামিতে মায়াজাল ছড়াতে চাইবেন নেইমার।
এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছে মরক্কোর বিপক্ষে। নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ১-১ ড্র ম্যাচটি বেঞ্চে বসে দেখেন নেইমার। আনচেলত্তির দল তাদের পরের ম্যাচে হাইতিকে হারায় ৩-০ ব্যবধানে। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে নেইমারকে দলের সঙ্গী করা হয়নি। দলের সঙ্গী না হয়ে তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ঠিকঠাক সারুক–এটাই চেয়েছে দল। ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা সেটাই করেছেন। ফল–প্রায় তিন বছরের অপেক্ষা শেষে জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরা হচ্ছে তার।
২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচটিই এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে নেইমারের শেষ ম্যাচ হয়ে আছে। ওই ম্যাচেই হাঁটুতে গুরুতর চোট পান তিনি। যে চোটের ধাক্কা সামলে এখনো ক্যারিয়ারে স্থিরতা খুঁজে পাননি নিজের সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। আরও একাধিকবার তাকে চোটে পড়তে হয়েছে।
উরুগুয়ের বিপক্ষে ২০২৩ সালের ওই ম্যাচের পর পেশাদার ফুটবলে মাত্র ৪৫টি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন নেইমার। গোল করেছেন ১৭টি। সৌদি ক্লাব আল-হিলালে ধুঁকেছেন। পরবর্তী সময়ে ফিরে আসেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। লক্ষ্য ছিল একটাই–থমকে যাওয়া ক্যারিয়ারে গতি ফেরানো। নেইমার কিছুটা পেরেছেনও। কিন্তু বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার পরও চোট তার সবচেয়ে বড় স্বপ্নে জোরালো আঘাত হানে।
হ্যাঁ, এই বিশ্বকাপ তো নেইমারের সবচেয়ে বড় স্বপ্নই। এর আগেও তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। কিন্তু দেশকে ট্রফি দিতে পারেননি। হোক না তিনি দেশের সর্বোচ্চ স্কোলস্কোরার। কিন্তু ব্রাজিলকে একটা বিশ্বকাপ এনে দিতে না পারলে তার মূল্য কোথায়!
নেইমার তাই মনে প্রাণে আরও একটা বিশ্বকাপ খেলতে চান। দেশকে ট্রফি এনে দেওয়ার শেষ চেষ্টা করতে চান। অবশ্য একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেইমার কি শুরুর একাদশে থাকবেন? নাকি তাকে বদলি হিসেবে খেলাবেন আনচেলত্তি?
ব্রাজিল দলের থিঙ্কট্যাঙ্কের শুরু থেকেই ভাবনা ছিল ‘পুরোপুরি ফিট’ নেইমারকে নকআউটে খেলাবেন তারা। তবে নেইমার ভাবনার চেয়েও দ্রুত উন্নতি করেছেন। আর এ কারণেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে কিছুটা ম্যাচ টাইম দিয়ে নক আউটের জন্যই নেইমারকে ঝালিয়ে নিতে পারে সেলেসাওরা। আসলে কী হবে, তার কিছু আঁচ পাওয়া যেতে পারে ব্রাজিল দলের ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে।
যেটাই হোক, নেইমারকে এখন মাঠে দেখতে মুখিয়ে আছেন তার ভক্তরা।