শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর থেকেই সমর্থকদের সমীকরণ নিয়ে বসে পড়তে হয়েছিল। কোন উপায়ে বাংলাদেশ সুপার ফোরে যেতে পারে, এটি বের করাই ছিল মূল লক্ষ্য। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে জয় পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তো ছিল। তবে তানজিদ হাসানের ব্যাটে ও বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জয়টা ধরা দিলেও সমীকরণের মারপ্যাঁচ এখনও রয়েই গেছে।
তাই ম্যাচ শেষ হলেও ঘুরেফিরে সংবাদ সম্মেলনে এসেছে সমীকরণ মেলানোর প্রসঙ্গ। সংবাদ সম্মেলনে ৩১ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলা তানজিদ হাসান তামিমকে প্রশ্ন করা হয় বড় টুর্নামেন্ট এলেই কেন বাংলাদেশকে সমীকরণ মেলাতে হয়?
উত্তরে তানজিদ বলেছেন, ‘আমরা কখনো এভাবে দেখি না। প্রতিটা ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগের ম্যাচটা হেরে গিয়েছি, কিছু বলার নাই ওই ম্যাচটা নিয়ে। কারণ, ম্যাচটা খুব বাজেভাবে হেরেছি। আমরা যখনই কোনো ম্যাচ খেলতে মাঠে যাই, ১০০ ভাগই দেওয়ার চেষ্টা করি।’
এশিয়া কাপের মিশনটা বাংলাদেশ শুরু করেছিল হংকংয়ের বিপক্ষে জয় দিয়ে। তবে সেই জয়টি ছিল অনেকখানি অতৃপ্তির। এরপর শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বেড়ে যায় বিপদ। গতকাল (১৬ সেপ্টেম্বর) আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৮ রানের জয়ে টুর্নামেন্টের টিকে রয়েছে বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কা আগামীকাল আফগানিস্তানকে হারিয়ে দিলে বাংলাদেশ চলে যাবে সুপার ফোরে। আর শ্রীলঙ্কা হারলে সেটা হতে হবে বড় ব্যবধানে। এই এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে হংকংয়ের বিপক্ষে জয়টা ধীরগতির হওয়ার আক্ষেপ হওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের।
এমন প্রশ্নের উত্তরে তানজিদ তাকাতে চেয়েছেন ভবিষ্যতের দিকেই, ‘এটা নিয়ে আফসোস করতে চাই না। যেটা অতীত, সেটা হয়ে গেছে। এখন আমাদের সামনে যে সমীকরণটা থাকবে, সেটার দিকেই তাকিয়ে থাকব।’
আফগানদের বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতে ৫৯ রান তোলে বিনা উইকেটেই। এরপর অবশ্য সেই গতিতে রান তুলতে ব্যর্থ হয় লিটন দাসরা। শেষ পর্যন্ত থেমেছে ৫ উইকেটে ১৫৪ রান করে। জয় নিশ্চিত হওয়ার পরও তাসকিন শেষ ওভারে দুই ছক্কা খাওয়ায় জয়ের ব্যবধানটাও বড় হয়নি।
রানরেটের বিষয়টি মাথায় নিয়েই কি বাংলাদেশ মাঠে নেমেছিল? তানজিদের উত্তর, ‘অবশ্যই মাথায় ছিল। সুযোগ ছিল আমাদের। আমাদের দলের জন্য ভালো হতো হয়তো (ব্যবধান বড়) হলে। হয়নি, এখন কিছু করার নেই। কারণ, আমাদের ম্যাচ এটা জিততেই হতো। ম্যাচ জিতেছি, এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।’
আগামীকাল একই ভেন্যুতে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বড় প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কাই এখন বাংলাদেশের সমর্থন পেতে যাচ্ছে। কেননা, লঙ্কানরা জিতলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের সুপার ফোর।
নিলয়/