তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এখন আর হারানোর কিছু নেই বাংলাদেশের। বাকি আছে শুধু মান রক্ষা করার লড়াই। প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট আর দ্বিতীয় ম্যাচে ৮১ রানের বড় জয়ে আফগানিস্তান ইতোমধ্যে সিরিজ নিশ্চিত করেছে ২-০ ব্যবধানে। এখন তাদের সামনে ঐতিহাসিক সুযোগ; ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করা। অন্যদিকে বাংলাদেশ চেষ্টা করবে অন্তত শেষ ম্যাচ জিতে সম্মান রক্ষার।
আফগানিস্তানের দারুণ বোলিং আক্রমণ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। ১৯০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মাত্র ১০৯ রানে গুটিয়ে যায় মেহেদি হাসান মিরাজের দল। আফগান বোলাররা শুরুর ধাক্কা দেয় আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের তিন উইকেটে। বাকি পর্বটা ছিল ঘূর্ণি বলে রশিদ খানের ধামাকা। রশিদকে পাঁচ উইকেট দিয়ে আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর স্পিনারদের একজন। বাংলাদেশের ব্যাটাররা একের পর এক ভুল শট খেলেছেন। যেন ‘বোলার নয়, বল’ খেলার দর্শনটাই ভুলে গিয়েছিলেন সবাই।
আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়েও সমস্যা ছিল। ১৯০ রান তুলতে গিয়ে তারা বেশ কষ্ট করেছে। কিন্তু ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান ছিলেন দলের ভরসা। ১৪০ বল খেলে মাত্র চারটি বাউন্ডারিতে ইনিংস গড়ে তুলেছেন তিনি। ধীরগতির পিচে কীভাবে সিঙ্গেল-ডাবল নিয়ে ইনিংস গড়া যায়, তার বাস্তব উদাহরণ দিয়েছেন জাদরান। তার চারপাশে ঘুরে দল ধীরে ধীরে ৪৫তম ওভার পর্যন্ত টিকে ছিল।
বাংলাদেশের ব্যাটিং সমস্যা নতুন কিছু নয়। প্রথম ওয়ানডেতে তারা ২২১ রান তুলেও ৫ উইকেটে হারে। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই ব্যর্থতা আরও প্রকট হয়। টপঅর্ডারে কেউই দায়িত্ব নিতে পারছেন না। মিডল অর্ডারেও ভয়ংকর রশিদ খানের সামনে আত্মসমর্পণ। অথচ দলের বোলাররা দুই ম্যাচেই ভালো বোলিং করেছেন। তাসকিন, মোস্তাফিজ, তানভির ইসলামরা নিজেদের কাজটা করেছেন যথাসাধ্য। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতা ঢাকতে পারেননি কেউ।
তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তানজিদ হাসানের জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন মোহাম্মদ নাঈম। আর ফর্মহীন জাকের আলীর পরিবর্তে ফিরতে পারেন শামীম হোসেন। তরুণ পেসার নাহিদ রানা পেতেও পারেন অভিষেকের সুযোগ।
অন্যদিকে আফগানিস্তান দলে একটি পরিবর্তন প্রায় নিশ্চিত। ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন রহমত শাহ। তার জায়গায় মিডল অর্ডারে আসতে পারেন দারউইশ রাসুলি। এ ছাড়া উইকেটবিহীন বাশির আহমেদের পরিবর্তে দেখা যেতে পারে আবদুল্লাহ আহমাদজাই বা বিলাল সামিকে।
মেহেদি হাসান মিরাজের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দলের মানসিকতা বদলানো। নিজের ব্যাটিং-বোলিং দক্ষতা দিয়ে তিনি ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারেন। কিন্তু পুরো দলকে জাগিয়ে তোলা এখন তার আসল পরীক্ষা। ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবে এটা তার নেতৃত্বের বড় মুহূর্ত।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের উইকেট এখনো ধীর। ব্যাটিং হবে কঠিন। বল টার্ন করবে স্পিনারদের জন্য। এমন কন্ডিশনে ধৈর্য, স্ট্রাইক রোটেশন আর ভুল না করা; এই তিন বিষয়েই নির্ভর করবে ফলাফল। আফগানিস্তানের চোখে ইতিহাস, আর বাংলাদেশের চোখে সম্মান রক্ষা; এই দুই লক্ষ্যই হয়তো ম্যাচটি করে তুলবে জমজমাট।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: তানজিদ হাসান/মোহাম্মদ নাঈম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মেহেদি হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), জাকের আলী/শামীম হোসেন, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব/নাহিদ রানা, তানভির ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান।
নিলয়/