২০২২ ফিফা বিশ্বকাপটি ইতিহাসের অন্যতম সুসংগঠিত এবং ভ্রমণবান্ধব টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। কাতারের ছোট আকার এবং সব ভেন্যুর সুবিধাজনক দূরত্বের কারণে সারা বিশ্বের ভক্তদের জন্য এটি সহজলভ্য ছিল। ফিফা কাতারের ২০২২ বিশ্বকাপকে সর্বোত্তম বলে বর্ণনা করেছে, যেখানে ১.৪ মিলিয়নেরও বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল যে ভক্তরা এক দিনে একাধিক ম্যাচ দেখতে পারতেন, সব ভেন্যুই ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ছিল। শক্তিশালী পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমও পরবর্তী টুর্নামেন্টের জন্য মান নির্ধারণ করেছিল।
তবে পরবর্তী ফিফা বিশ্বকাপ ভিন্ন হবে। উত্তর আমেরিকার বিশাল ভূখণ্ডে- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে এটি অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ৪৮ দলের টুর্নামেন্ট হিসেবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হবে, যা সঙ্গে নিয়ে আসবে নতুন চ্যালেঞ্জ। অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, যা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য বড় মাথাব্যথা।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ভিসার ক্ষেত্রে আরও বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা করছে। এটি শুরু হয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে, যিনি গত বছর ১৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর পুরো বা আংশিকভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। এরপর থেকে তালিকায় আরও দেশ যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের ভিসা আবেদনকারীরা বিশেষভাবে দীর্ঘ অপেক্ষার অভিযোগ জানিয়েছেন। এ সবই ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রভাব ফেলবে, যার বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে।
ডিসেম্বরে ট্রাম্প আরও কিছু দেশকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করেছেন- যাদের মধ্যে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনকারী দেশও রয়েছে। এতে আয়োজনকারীদের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পূর্ণ ও আংশিক নিষেধাজ্ঞার তালিকা ৩৯টি দেশে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের স্বীকৃত মোট দেশ ও সদস্য সংখ্যা ১৯৫, অর্থাৎ পৃথিবীর প্রায় ২০ শতাংশ দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। এই মাসে যুক্তরাষ্ট্র আরও ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। ফিফার র্যাংকিং অনুযায়ী ২১১টি পুরুষদের আন্তর্জাতিক দল ও অঞ্চলের মধ্যে এর প্রভাব পড়বে।
কোন দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা?
পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
আফগানিস্তান, বার্মা, চাদ, রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইকুয়েটোরিয়াল গিনিয়া, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন, বুরকিনা ফাসো, লাওস, মালি, নিগার, সিয়েরা লিওন, সাউথ সুদান, সিরিয়া।
সীমিত প্রবেশাধিকার
বুরুন্ডি, কিউবা, টোগো, ভেনেজুয়েলা, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগা ও বারবুডা, বেনিন, আইভরিকোস্ট, ডোমিনিকা, গ্যাবন, গাম্বিয়া, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তাঞ্জানিয়া, টোঙ্গা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে।
কোন বিশ্বকাপ-প্রতিযোগী দেশ প্রভাবিত?
পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ইরান ও হাইতি। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই দেশগুলোর নাগরিকরা সাধারণভাবে ভ্রমণ করতে পারবে না। তবে ‘ক্যাটেগরিক্যাল ব্যতিক্রম ও কেস-বাই-কেস ওয়ার্ভার’ (ব্যক্তিগতভাবে নির্ধারিত ছাড়, পরিস্থিতি অনুযায়ী) প্রযোজ্য। দুটো দেশই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে। ‘জি’ গ্রুপে ইরান রয়েছেন বেলজিয়াম, মিসর এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। ‘সি’ গ্রুপে হাইতির প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, মরক্কো ও স্কটল্যান্ড। ওয়ার্ভারগুলো টিমের সদস্য, সহকারী স্টাফ, সহযোগী এবং ঘনিষ্ঠ পরিবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু পাবে না সাধারণ ভক্তরা।
সীমিত নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে আইভরিকোস্ট ও সেনেগাল। ‘ই’ গ্রুপে আইভরিকোস্টের সঙ্গী জার্মানি, ইকুয়েডর ও কুরাসাও। ‘আই’ গ্রুপে সেনেগালের সঙ্গে থাকবে ফ্রান্স, নরওয়ে এবং প্লে-অফ জয়ী একটি দল। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের দেশ ভ্রমণে যে বিধিনিষেধ দিয়েছে তাতে করে এই চারটি দলের ভক্তরা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবে না।
অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও প্রভাবিত দেশ
১২টি বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জনকারী দেশ- আলজেরিয়া, ব্রাজিল, কেপ ভের্দে, কলম্বিয়া, মিসর, ঘানা, গুয়াতেমালা, জর্ডান, মরক্কো, তিউনিসিয়া, উরুগুয়ে ও উজবেকিস্তান অনির্দিষ্টকাল ধরে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের মুখোমুখি।
অনিক/