নারী এশিয়ান কাপের শিরোপা অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতিজ্ঞা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছে চীন। ৯ বারের চ্যাম্পিয়নদের জন্য ফাইনাল খেলতে না পারাটাই হবে বড় ব্যর্থতা। নিজেদের অভিষেক আসরে কিনা এমন একটি দলের বিপক্ষেই প্রথম ম্যাচ খেলতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তাই বলে আফঈদা খন্দকার, ঋতুপর্ণা চাকমারা কিন্তু মোটেও ভীত নন। বরং রোমাঞ্চ নিয়ে এশিয়ান মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার অপেক্ষায় তারা। ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে আজ ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ২টায়।
এশিয়ান কাপে যে বাংলাদেশকে চীনের মুখোমুখি হতে হবে, এটি আসরের গ্রুপ চূড়ান্ত হওয়ার সময় থেকেই সবার জানা। শুধু চীন নয়, পিটার বাটলার শিষ্যদের লড়তে হবে উত্তর কোরিয়া, উজবেকিস্তানের সঙ্গেও। শক্তিতে এই দলগুলোও পিছিয়ে নেই। এসব নিয়ে অনেক কথাই হয়েছে। বাংলাদেশের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আদৌ হয়েছে কি না, এ নিয়েও কম কথা হয়নি। তবে এখন আর এসব আলোচনার সময় নেই। সিডনিতে গত কদিনে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন দেখে মনে হলো খেলোয়াড়রাও আর অতীত নিয়ে পড়ে নেই। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের আবহে ঢুকে পড়ার পর সবার মন কেবলই সামনের তিনটি ম্যাচ নিয়ে।
এমনকি বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারও যেন বদলে যাওয়া এক মানুষ। অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেওয়ার আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন তিনি। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে যদিও রসিকতা করে বলেছেন, ‘আমরা গুলিস্তানের ক্যাম্প থেকে অস্ট্রেলিয়ার ক্যাম্পে এসেছি।’ তবে এদিন আর কোনো রকম ক্ষোভ বা অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ তার মধ্যে পাওয়া যায়নি। বাটলার আসলে এসব নিয়ে নতুন করে কিছু আর বলতে চান না। বরং এশিয়ান মঞ্চে নিজ দলের অভিষেকের আগে এই ইংলিশকেও যেন রোমাঞ্চ ছুঁয়ে গেছে। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে বেশ নির্ভার লেগেছে তাকে। অধিনায়ক আফঈদাকে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন তিনি হাসিমুখে। প্রশ্নোত্তর পর্বে কখনো কখনো রসিকতাও করেছেন।
এই বাটলারের চোখে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৭তম স্থানে থাকা চীন কেবল পরাশক্তিই নয়। তার কথায় চীন ‘সুপার ফান্ডেড দল’। সেখানে এশিয়ান মঞ্চে বাংলাদেশ নতুন। র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ১১২তম। বাটলার তাই চীন-বাংলাদেশ লড়াইকে ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াই বলেও মন্তব্য করেছেন। কিন্তু তার পাশে বসেই বাংলাদেশ অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলে দিয়েছেন, ‘আমরা সবাই জানি চীন অনেক শক্তিশালী দল। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল তারা। তাদের সঙ্গে খেলতে পারাটাও সৌভাগ্যের এবং আমরা অনেক কিছু শিখব। কিন্তু মাঠে তো আর ছেড়ে দেব না। আমরা অবশ্যই লড়াই করব। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে।’
তবে পিটার বাটলার বারবার বাংলাদেশের সমর্থকদের বাস্তববাদী হতে বলেছেন। মাথায় রাখতে বলেছেন লড়াইটা কেমন দলের বিপক্ষে। সেই সঙ্গে এও জানিয়ে দিয়েছেন সুন্দর ফুটবল উপহার দেওয়াই হবে তার দলের লক্ষ্য, ‘আমরা সততার সঙ্গে খেলব। আমরা ছোট দল হতে পারি, কিন্তু খেলোয়াড়দের হৃদয় বড়। তারা দেশের জন্য ভালো করতে চাই। আমরা আমাদের ফুটবল খেলব, মানুষের মন জয় করব।’
চীনের আক্রমণের ঢেউ সামলানোই এ ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে বাটলার বলে দিয়েছেন তিনি দলকে তার পছন্দের হাইলাইন ডিফেন্স কৌশলেই খেলাবেন। তার কথায়, ‘ফলাফল যা-ই হোক, আমরা বাস পার্ক করার মতো দল নই। আমি চাই মেয়েরা মাঠে গিয়ে নিজেদের মেলে ধরুক এবং স্বাধীনভাবে ফুটবল খেলুক।’
এদিকে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আসা চীন বাংলাদেশকে বেশ সমীহই করছে। দলটির কোচ আন্তে মিলিচিকের কাছে বাংলাদেশের এক সাংবাদিক তো জানতেই চাইলেন, লড়াইটাকে তিনি অসম লড়াই হিসেবে দেখছেন কি না। উত্তরে এই অস্ট্রেলিয়ান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ একটি তরুণ এবং পরিশ্রমী দল। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে অনেক বিনিয়োগ হয়েছে এবং তাদের খেলার মান অনেক বেড়েছে। আমরা তাদের মোটেও খাটো করে দেখছি না। তাদের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। আমরা আগামীকাল একটি কঠিন ম্যাচের প্রত্যাশা করছি।’ চীন অধিনায়ক উ হাইয়ানের কথায়, ‘বাংলাদেশ র্যাঙ্কিংয়ে নিচে থাকলেও আমরা অন্য কিছু নিয়ে ভাবছি না। ধাপে ধাপে এগোতে চাই আমরা। যেহেতু প্রথম ম্যাচ, তাই কিছু চ্যালেঞ্জ থাকবে। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমরা ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখাতে পারব।’
চীন চায় ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখাতে। বাংলাদেশও চায় এশিয়ান ফুটবলের অভিষেকে সুন্দর ফুটবল উপহার দিতে। জয়-পরাজয় ছাপিয়ে আজ না হয় সুন্দর ফুটবলেরই জয় হোক।