ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট দশেক সময় পরই সংবাদ সম্মেলনে এলেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। তার চোখে মুখে একটু আগেই শেষ হওয়া ম্যাচের ধকলটা তখন স্পষ্ট। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে তার দল। হতাশাও কি পেয়ে বসেছে বাটলারকে?
ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে শুক্রবার (৬ মার্চ) স্থানীয় সময় বিকেলে সংবাদ সম্মেলন শুরু হতেই বোঝা গেল আসলে তেমন কিছু নয়। ইংলিশ কোচ বাটলারের মাঝে কোনো হতাশা নেই। বরং শিষ্যদের নিয়ে খুবই গর্বিত তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, ‘আজ আমরা একটি সম্পূর্ণ অসাধারণ দলের বিপক্ষে খেলেছি। সম্ভবত এশীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা দল তারা। প্রকৃত শক্তি ও টেকনিক্যাল সক্ষমতার দিক থেকে তারা আমাদের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে ছিল। আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারিনি এবং হেরে গেছি। ৫-০, ৬-০ বা ৭-০ গোলে হেরে যাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়। আমি মেয়েদের সমালোচনা করতে পারি না। কারণ আমরা সেই স্তরে নেই। তবে আমি তাদের প্রচেষ্টায় এবং তারা যা করেছে তার জন্য গর্বিত।’
প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলতে আসা বাংলাদেশের ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ১১২তম। সেখানে প্রতিযোগিতার ৩ বারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া আছে ৯ম স্থানে। অর্থাৎ বাংলাদেশের চেয়ে ১০৩ ধাপ এগিয়ে থাকা দল উত্তর কোরিয়া। এমন লড়াইকে অসম লড়াই বলাই যায়।
ম্যাচ শেষে এদিন বাটলার সেই কথাটাই মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনি যদি উত্তর কোরিয়ার অ্যাথলেটদের প্রোফাইল দেখেন, তাদের কোয়াডস, গ্লুটস, কাভস, হ্যামস্ট্রিং এবং শারীরিক উপস্থিতি- আমরা কেবল তাদের আটকাতে পারছিলাম না। এটি একটি সম্পূর্ণ অসম লড়াই ছিল।’
সিডনিতে এদিন সকাল থেকেই ছিল রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া। ম্যাচ শুরু হয় স্থানীয় সময় বেলা ১টায়। তখন তো কড়া রোদ। সেই রোদে বাংলাদেশের খেলতে বেশ কষ্টই হয়েছে। বাটলারের কথায়, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমার মনে হয়েছে আমাদের কিছু মেয়ে রোদে নুয়ে পড়েছিল এবং আমরা আসলে নিজেদের প্রতি সুবিচার করতে পারিনি। কিন্তু এমন একটি ভালো দলের কাছে হারা লজ্জার কিছু নয়।’
অবশ্য কড়া রোদে খেলাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না বাটলার। তার কথায়, ‘আমি বিশ্বাস করি, মেয়েরা তাদের সবটুকু দিয়েছে। আমরা কেবল যথেষ্ট ভালো ছিলাম না। বল পজেশনে আমরা ভালো ছিলাম না এবং পজেশন ছাড়াও আমরা যথেষ্ট পরিশ্রম করিনি। আবহাওয়া একটি প্রভাব ফেলে থাকতে পারে, তবে আমি সেটাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চাই না। কারণ তা উভয় দলের জন্যই সমান ছিল। আমার মূল কথা হলো, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার মতো শীর্ষ মানের দলের বিপক্ষে খেললে আপনি গোল খাবেনই।’
চীনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হার দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এবার উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেও হারায় ‘বি’ গ্রুপে তলানিতে বাটলার শিষ্যরা। আগামী ৯ মার্চ পার্থে গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে ঋতুপর্ণা-আফঈদারা।
তোফায়েল/এসজি/