ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জয়ের খোঁজে জর্ডান-আলজেরিয়া ফিলাডেলফিয়ায় ফ্রান্স ও ইরাকের অসম লড়াই ২২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আরেকটি ঐতিহাসিক রাতের অপেক্ষায় কুরাসাও আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ৩৩ ম্যাচেই ১০০ গোল! হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিয়েলসার ক্ষোভ ইরানের রক্ষণদুর্গে আটকে গেল বেলজিয়াম গোল বাতিল ইরানের, গোলশূন্য প্রথমার্ধ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড পেলের কীর্তিতে ভাগ বসালেন ইয়ামাল জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা সৌদিকে উড়িয়ে দিল স্পেন যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ডোকুর ‘বিশ্বকাপ ছাড়ার’ সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রথমার্ধে সৌদি আরবের জালে ৩ গোল স্পেনের তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০ অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ

বাংলাদেশ-পাকিস্তান শেষ ওয়ানডে যে জিতবে সিরিজ তার

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
যে জিতবে সিরিজ তার
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করে ম্যাচ জেতার পর অনেকেই মনে করেছিলেন বাংলাদেশ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ধবল ধোলাই করবে। যারা এ রকমটি ভেবেছিলেন, তারা ভুলে গিয়েছিলেন দলটি পাকিস্তান। যাদের নামের আগে-পরে আনপ্রেডিক্টেবল শব্দটি থাকে। এক ম্যাচ ভালো খেলতে না পারা মানেই তারা দুর্বল নয়। পরের ম্যাচেই আবার ফিরতে পারে প্রবল বিক্রমে। ইতিহাস ঘাটলে এ রকম নজির বহু পাওয়া যায়। এ রকম একটি নজির তারা আবার গড়েছে। এবার তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে তারা যেভাবে প্রথম ম্যাচ হেরেছিল, সেভাবেই ফিরিয়ে দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ৩০.৩ ওভারে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়েছিল। বাংলাদেশ সেই রান তাড়া করেছিল টি-টোয়েন্টি স্টাইলে খেলে মাত্র ১৫.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে। এবার পাকিস্তানের করা ২৭৪ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদশে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। ওভার খেলে মাত্র ২৩.৩টি। বৃষ্টির কারণে অবশ্য বাংলাদেশের টার্গেট ছিল ৩২ ওভারে ২৪৩ রানে। ১২৮ রানে ম্যাচ জিতে পাকিস্তান সিরিজে এনেছে সমতা। তাই শেষ ম্যাচ হয়ে উঠেছে সিরিজ নির্ধারণী অলিখিত ফাইনাল। আজ হবে তার ফয়সালা।

প্রথম ম্যাচে ২০৯ বল হাতে রেখে বাংলাদেশ ম্যাচ জেতার পর যারা পাকিস্তানকে ধবল ধোলাই করার কথা ভেবেছিলেন, তাদের সেই ভাবনা কিন্তু অমূলক ছিল না। এর পেছনে এ রকম জয় ছাড়াও ছিল পাকিস্তানের দলও? বাংলাদেশ সফরে তারা এসেছে ৬ জন নতুন মুখ নিয়ে। এই ৬ জনের বাইরে পুরোনো যারা আছেন, তাদের মাঝে নেই আবার বিশ্বমানের তারকা। শক্তির বিবেচনায় পাকিস্তান তাই খুব বেশি নম্বর পাওয়ার মতো দল নয়। কিন্তু দলটি আনপ্রেডিক্টেবল বলে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যেখানে এখন সিরিজ জয়ের স্বপ্নও দেখছে। শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিতলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

পাকিস্তান যেমন আনপ্রেডিক্টেবল, তেমনি বাংলাদেশও ফিরেছে তাদের চির চেনা রূপে। যেখানে আছে শুধুই ব্যাটিং ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার বলয় ভেঙে তারা কদাচিৎ ভালো করে। যেমনটি করেছিল প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে। যদিও সেই ম্যাচ জেতার যাবতীয় কিছু করে রেখেছিলেন বোলাররা পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট করে। কিন্তু সেই স্বল্প রানও তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটাররা অসাধারণ ভালো ব্যাটিং করেন। মাত্র ১৫.১ ওভারেই তারা সেই রান তাড়া করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। এ রকম আক্রমণাত্মক ব্যাটিং সচরাচর বাংলাদেশের ব্যাটারদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। কিন্তু এ রকম আক্রমণাত্মক মেজাজের ব্যাটিং বাংলাদেশের ব্যাটাররা দ্বিতীয় ম্যাচে আবার করে দেখাতে পারেননি। সেই ভয়াবহ ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রদশর্নীতে তারা ফিরে যান। ইনিংসের মেয়াদ ছিল মাত্র ২৩.৩ ওভার। একমাত্র লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয় ছাড়া আর সবাই ছিলেন ব্যর্থতার মোড়কে ঢাকা। বৃষ্টির কারণে নতুন করে বাংলাদেশকে টার্গেট দেওয়া হয়েছিল ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। বৃষ্টির আগে বাংলাদেশ ৬.৩ ওভার ব্যাটিং করে ৩ উইকেটে ২৭ রান করেছিল। ফলে ২৫.৩ ওভারে তাদের করতে হতো আরও ২১৬ রান। সেখানে বাংলাদেশ ১৭ ওভারে ৮৭ রান যোগ করে। বৃষ্টির আগে যেমন বাংলাদেশ ব্যাটিং ব্যর্থতায় পড়েছিল, তেমনি বৃষ্টির পরেও। কাজেই এখানে বৃষ্টিকে দোষারূপ করার কোনো উপায় নেই। ব্যাটিং ব্যর্থতাই বাংলাদেশের নিত্য সঙ্গী। সেই ব্যর্থতার বলয় থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে বাংলাদেশের সামনে অশনি সংকেতই আছে। কারণ আগে ব্যাট করে যেকোনো প্রতিপক্ষ বড় সংগ্রহ দাঁড় করালেই বাংলাদেশের ব্যাটারদের পক্ষে আর সেই রানা তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার প্রশ্নে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই সিরিজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। র‌্যাঙ্কিয়ের দশ থেকে আটে উঠে আসতে হবে। প্রথম ম্যাচ দাপুটে জিতে সেই সম্ভাবনার পালে বেশ ভালোই হাওয়া লাগিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে আবার বাজে ভাবে হেরে সেখানে শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। পাকিস্তানকে হোয়াইটোয়াশ করতে পারলে সরাসরি খেলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেত। সেটি হাত ছাড়া হওয়ার পর এবার লক্ষ্য অন্তত সিরিজ জয়। তাহলেও সরাসরি খেলার পাল্লা অনেক ভারী হবে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ একবারই সিরিজ জিতেছে। প্রথম ৫টি সিরিজই পাকিস্তান জেতার পর ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এরপর আর কোনো সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি। সেই হিসাবে সিরিজ এখন বাংলাদেশের কবজায়। এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশ সিরিজ ধরে রাখতে পারে কি না?

অনিক/

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৩৭ এএম
আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার
ছবি: সংগৃহীত

আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছে অস্ট্রিয়া। এবার গ্রুপের শীর্ষে উঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া। এই ম্যাচে কাকে এগিয়ে রাখল অপ্টা সুপারকম্পিউটার?

পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপ্টার সুপারকম্পিউটার এই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকেই স্পষ্ট ফেবারিট হিসেবে দেখছে। এই কম্পিউটারের মতে, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৬০.১ শতাংশ। 

অন্যদিকে ম্যাচটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২২.৪ শতাংশ, আর বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে অস্ট্রিয়ার জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে মাত্র ১৭.৬ শতাংশ।

বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া। সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

সালমান/

৩৩ ম্যাচেই ১০০ গোল!

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:০৫ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৪০ এএম
৩৩ ম্যাচেই ১০০ গোল!
ছবি: সংগৃহীত

এবারের বিশ্বকাপে যেন গোলের বন্যা বইছে। ম্যাচ শেষ হচ্ছে, কিন্তু গোলের হিসাব যেন থামছেই না। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন এক মাইলফলক ছুঁয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। সুইডেনের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের ম্যাচে কোডি গাকপোর করা গোলটি শুধু ম্যাচের তৃতীয় গোল ছিল না; সেটিই হয়ে যায় এবারের বিশ্বকাপের শততম গোল।

মাত্র ৩৩ ম্যাচে ১০০ গোল; বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম গোলের সেঞ্চুরি। এর আগে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে একই সংখ্যক ম্যাচে শত গোল হয়েছিল। যে আসর বিশ্ব ফুটবলকে দিয়েছিল ফুটবলের রাজা পেলের উত্থানের গল্প। এখন সেই তালিকায় জায়গা করে নিল লিওনেল মেসিদের বিশ্বকাপ। সবচেয়ে দ্রুত শত গোলের রেকর্ড অবশ্য এখনো ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের দখলে, যেখানে মাত্র ২০ ম্যাচেই হয়েছিল ১০০ গোল।

এবার কেন এত গোল হচ্ছে? আলোচনা শুরু হয়েছে সেটি নিয়েই। অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নতুন বল ‘ট্রাইওন্ডা’। গোলরক্ষকদের অভিযোগ, বলের গতিপথ ও বাঁক অনেক সময় অনুমান করা কঠিন হচ্ছে। দূরপাল্লার শটেও বাড়ছে সাফল্য। ইতোমধ্যে ২২ গজের বেশি দূর থেকে একাধিক গোল হয়েছে। এর মধ্যে সেনেগালের বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পের দূরপাল্লার গোল আলোচনায় এসেছে সবচেয়ে বেশি।

ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট ও পল রবিনসনও মনে করছেন, বলের আচরণ গোলরক্ষকদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে শুধু বল নয়, টুর্নামেন্টের সম্প্রসারিত কাঠামোকেও কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। ১০৪ ম্যাচের এই বিশ্বকাপে নতুন কয়েকটি দলের অংশগ্রহণে শক্তির ব্যবধান কিছুটা বেড়েছে। নবাগত দলগুলোর বিপক্ষে বড় দলগুলো বেশি আক্রমণাত্মক খেলছে। জার্মানির ৭-১ জয় কিংবা কানাডার ৬-০ জয়ের মতো ফল সেটিরই ইঙ্গিত।

আবহাওয়াও একটি কারণ হতে পারে। উত্তর আমেরিকার গরমে ম্যাচের শেষ দিকে ক্লান্তি বাড়ছে। এখন পর্যন্ত মোট গোলের প্রায় ২৯ শতাংশ এসেছে ৭৬ মিনিটের পর। মাঝপথে বাধ্যতামূলক পানি পানের বিরতিও কোচদের নতুন কৌশল সাজানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।

সবশেষে বড় কারণ হতে পারে তারকারা। এবার শুরু থেকেই ছন্দে আছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর্লিং হালান্ড ও হ্যারি কেইনের মতো ফুটবলাররা। সাবেক কোচ টমাস ফ্রাঙ্কের মতে, এবার বড় খেলোয়াড়রা আগের অনেক আসরের তুলনায় বেশি সতেজ ও প্রস্তুত। বিশ্বকাপ শেষ হতে এখনো অনেক বাকি। কিন্তু শুরুতেই গোলের যে স্রোত দেখা যাচ্ছে, তাতে নতুন নতুন রেকর্ড হয়ে যেতে পারে মার্কিন মুলুকে।

হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিয়েলসার ক্ষোভ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ এএম
হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিয়েলসার ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

খেলা চলছে, হঠাৎ রেফারির বাঁশি। মাঠের পাশে হাজির পানির বাক্স, খেলোয়াড়দের ছোট্ট বিরতি, আর টেলিভিশনের পর্দায় শুরু বিজ্ঞাপন। ফিফা এটাকে বলছে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’। উত্তর আমেরিকার গরমে খেলোয়াড়দের স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মোটেও ভালোভাবে নেননি মার্সেলো বিয়েলসা।

ফুটবল দুনিয়ায় নিজের স্পষ্টভাষী অবস্থানের জন্য পরিচিত এই আর্জেন্টাইন কোচ মনে করেন, এই বিরতি ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করছে এবং খেলাটির ঐতিহ্যগত চরিত্র বদলে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তীব্র গরমের কথা বিবেচনা করে প্রতি অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে তিন মিনিটের বিরতি চালু করেছে ফিফা। উদ্দেশ্য খেলোয়াড়দের পানি পান ও শারীরিকভাবে কিছুটা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া।

তবে সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে ফুটবল কার্যত দুই অর্ধের বদলে চার ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সম্প্রচারকারীরাও অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের সুযোগ পাচ্ছে।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বিয়েলসা বলেন, ‘দুইবারের জায়গায় চারবারে খেলা হওয়াটা ফুটবলের সেই আদি রূপকে বদলে দিচ্ছে, যা সাংস্কৃতিকভাবে তৈরি হয়েছিল। এই পরিবর্তন ফুটবলে নতুন কিছু যোগ করছে না, বরং অনেক কিছু কেড়ে নিচ্ছে।’

এখানেই থামেননি তিনি। বিয়েলসার মতে, ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল এর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নিজস্ব ছন্দের কারণে। নতুন এই বিরতি সেই অনুভূতিতে আঘাত করছে।

তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের আগে ফুটবলের একটা নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল। মানুষ সেই বৈশিষ্ট্যের প্রেমে পড়েই খেলাটাকে ভালোবেসেছিল।’

তবে পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নন বলেও পরিষ্কার করেছেন বিয়েলসা। উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন ভিএআর প্রযুক্তিকে। তার ভাষায়, ‘আমরা প্রযুক্তিকে স্বাগত জানাই। যেমন ভিএআর ব্যবস্থা খেলাকে আরও নির্ভুল করেছে। কিন্তু এই বিরতিগুলোর পেছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে। আমি শুধু নিজের কথা বলছি না, চারপাশে যা শুনছি, আমার কথায় সেটার প্রতিফলন আছে।’

বিয়েলসার মন্তব্যের পর ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হলো। এখন দেখার বিষয়, ফিফা এই সমালোচনার জবাব কীভাবে দেয়।

আরেকটি ঐতিহাসিক রাতের অপেক্ষায় কুরাসাও

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:০০ এএম
আরেকটি ঐতিহাসিক রাতের অপেক্ষায় কুরাসাও
ছবি: সংগৃহীত

ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট অর্জনের পর কুরাসাওজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসব। আর সেই আনন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কোচ ডিক অ্যাডভোকেট মনে করেন, এই অর্জন মূলত সেই সমর্থকদের প্রাপ্য, যারা বিশ্বকাপ অভিষেকে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় পরাজয়ের পরও দলের প্রতি বিশ্বাস হারাননি।

মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার ক্যারিবীয় দ্বীপ দেশটির মানুষের সমর্থনের প্রশংসা করে অ্যাডভোকেট বলেন, ‘কুরাসাওয়ের মানুষ একদম শুরু থেকেই আমাদের সমর্থন দিয়ে আসছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহে ৭-১ গোলে হারার পরও দ্বীপটিতে মানুষজন উদযাপন করছিলেন এবং আনন্দে মেতে ছিলেন।’ ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে গোলরক্ষক এলোয় রুমের অবিশ্বাস্য ১৫টি সেভে ভর করে অর্জিত এই ফলাফলকে তিনি দেশের মানুষের জন্য একটি বিশেষ উপহার হিসেবেই দেখছেন, ‘আজ (গতকাল) সেখানে রীতিমতো উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। তাই আমি মনে করি, যেসব মানুষের জীবন সব সময় সহজ কাটে না, তারা এই সাফল্য মনভরে উদযাপন করুক, এটাই আমার চাওয়া।’

জার্মানির বিপক্ষে বড় ব্যবধানের হারের পরও খেলোয়াড়দের ভক্তরা যে উষ্ণ সমর্থন ও ভালোবাসা ঘিরে রেখেছিল, সেটিই দলের ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রেরণা হয়ে উঠেছিল বলে জানান অভিজ্ঞ এই ডাচ কোচ, ‘আজ আমি প্রথম ম্যাচের মতো অতটা আবেগপ্রবণ ছিলাম না, একদমই না। কারণ, আমার মনে হচ্ছিল আমরা এবার সত্যিকার অর্থে ম্যাচটি খেলছি। আর যখন দল ঠিকমতো খেলে, তখন আবেগতাড়িত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।’

অনেকের মতে, জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের পরাজয় বিশ্বকাপে ৪৮ দলের সম্প্রসারিত আসর নিয়ে সমালোচকদের শঙ্কাকেই সত্যি প্রমাণ করছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, ছোট দলগুলোর অংশগ্রহণে একপেশে ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে। তবে অ্যাডভোকেট মনে করেন, ইকুয়েডরের বিপক্ষে তার দলের পারফরম্যান্সই কুরাসাওয়ের প্রকৃত সামর্থ্যের প্রতিফলন, ‘হয়তো জার্মানির মুখোমুখি হওয়াটা আমাদের জন্য একটু দ্রুত হয়ে গিয়েছিল। সেদিন তারা আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল, কিন্তু আজ দল যেভাবে মাঠে দাঁড়ানো উচিত ছিল, ঠিক সেভাবেই দাঁড়িয়েছে।’

নিজের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সিংহের মতো লড়াই করেছে। আর তখনই আপনি দেখতে পাবেন যে, অত্যন্ত উঁচু মানের এবং দারুণ ব্যক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া একটি দলের বিপক্ষেও কী অর্জন করা সম্ভব।’

‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচের আগে এখনো নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা বেঁচে আছে কুরাসাওয়ের। তাই দেশের মানুষের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট, ‘দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে আমি কী বলব? আমাদের এভাবেই সমর্থন দিয়ে যান, আমাদের সাহায্য করে যান। এটি আমাদের ডানা মেলে উড়তে সাহায্য করে। আমরা এই দেশের জন্যই লড়াই করি।’

শেষ ম্যাচে কুরাসাও মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্টের। অন্য ম্যাচে ইকুয়েডর খেলবে জার্মানির বিপক্ষে। প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট পাওয়ার পর নতুন স্বপ্নে বিভোর কুরাসাও এখন অপেক্ষায় আরও একটি ঐতিহাসিক রাতের।

জয়ের খোঁজে জর্ডান-আলজেরিয়া

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
জয়ের খোঁজে জর্ডান-আলজেরিয়া
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলে ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে টিকে থাকার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে জর্ডান ও আলজেরিয়া। সান ফ্রান্সিসকোয় ম্যাচটি শুরু হবে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৯টায়। দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছে। ফলে এই ম্যাচটি এখন শুধুই তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, টিকে থাকার যুদ্ধ। হার মানেই প্রায় বিদায়ঘণ্টা, আর জয় মানে নকআউটের স্বপ্ন ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা।

জর্ডান বিশ্বকাপের নবাগত। অন্যদিকে আলজেরিয়া অভিজ্ঞ, তবে প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বড় হার তাদের চাপে ফেলে দিয়েছে। তাই এই লড়াইয়ে থাকবে স্নায়ুচাপ, আবেগ আর বাঁচার মরিয়া চেষ্টা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে জর্ডান ৩-১ গোলে হেরেছে অস্ট্রিয়ার কাছে। তবে স্কোরলাইন যতটা একপেশে মনে হয়, ম্যাচটা ততটা ছিল না। জর্ডান কয়েকবার দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে অস্ট্রিয়ার রক্ষণ কাঁপিয়েছে। অন্যদিকে আলজেরিয়া ৩-০ ব্যবধানে হেরেছে আর্জেন্টিনার কাছে। সুপারস্টার লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত হয় আফ্রিকার দলটি। তবে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ মনে করেন, দলটি স্কোরলাইনের চেয়ে ভালো খেলেছে। এবার তাই জর্ডানের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। 

জর্ডান ও আলজেরিয়া এখন পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। এতে দুদলই জিতেছে একটি করে ম্যাচ। অপর ম্যাচ ড্র। বিশ্বকাপে প্রথমবারে মতো সাক্ষাৎ হতে চলেছে দল দুটির। ইতিহাসে আলজেরিয়ার পাল্লা ভারী। অভিজ্ঞতা, র‌্যাংকিং এবং স্কোয়াডের গভীরতায়ও তারা এগিয়ে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস সব সময় বর্তমানকে নির্ধারণ করে না। জর্ডানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত সংহতি। মিডফিল্ড থেকে দ্রুত ট্রানজিশন এবং উইং দিয়ে আক্রমণ তাদের প্রধান অস্ত্র। অধিনায়ক মুসা আল তামারির ওপর থাকবে সৃজনশীলতার বড় দায়িত্ব। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পেতে মরিয়া জর্ডান। তাই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারে তারা।

আলজেরিয়ার ভরসা করছে অভিজ্ঞতা ও তারকা শক্তির ওপর। রিয়াদ মাহরেজ তাদের সবচেয়ে বড় তারকা। ইসমাইল বানেসারও ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারেন এক মুহূর্তেই। প্রথম ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর এটাই আদর্শ সুযোগ। হারলে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে আলজেরিয়া। ম্যাচের মূল লড়াই হবে জর্ডানের গতি ও আলজেরিয়ার অভিজ্ঞতার। কাগজে-কলমে আলজেরিয়া কিছুটা এগিয়ে। কিন্তু জর্ডানের লড়াকু মানসিকতা এই ম্যাচকে কঠিন করে তুলতে পারে।