একে একে সব তারাই জ্বলে উঠলেন। ব্যতিক্রম কেবলই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর নেইমার।
দুজনের বাস্তবতা অবশ্য দুই রকম। রোনালদো প্রথম ম্যাচে ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। আর চোটের কারণে দলের প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াডেই ছিলেন না নেইমার। কে জানে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফেরার ম্যাচটাই হয়তো নিজের মতো করে রাঙাবেন সান্তোস ফরোয়ার্ড।
আর ক্রিশ্চিয়নো রোনালদো? যত সমালোচনাই হোক, ৪১ বছর বয়সী ফুটবলারের নতুন করে প্রমাণের কী আছে? হয়তো রোনালদোর গোল পাওয়াটাও সময়য়ের ব্যাপার মাত্র।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ রোনালদো-নেইমার ছাড়াও আরও একজনের ঝলকানি মিস করছে নিশ্চিত। তিনি উসমান দেম্বেলে।
ব্যালন ডি’অর জয়ী কোনো তারকা তার দলের সবচেয়ে বড় মুখ হবেন, এটাই তো হয়ে আসছে এতোদিন। কিন্তু ফ্রান্স দলে দেম্বেলে ব্যতিক্রম। কিলিয়াম এমবাপ্পের আছেন বলে বরাবরই সেখানে তিনি পার্শ্ব নায়ক।
সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচে এমবাপ্পেকে অনেকটা সময় খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তবে দেখার মতো দুটি ফিনিশিংয়ে ঠিকই পরে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন। ৩-১ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে দেম্বেলে তেমন কিছুই পারেননি। ৮০ মিনিটে তাকে বদলিও করেছেন দিদিয়ের দেশম।
পিএসজির হয়ে গত দুই মৌসুমে দেম্বেলের যে পারফরম্যান্স, তাতে একটা প্রশ্ন সামনে আসেই। জাতীয় দলের সঙ্গে কি ঠিকঠাক খাপ খাওয়াতে পারছেন না ২৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড? নাকি দেশম পারছেন না তার থেকে সেরাটা বের করতে?
মেসি, নেইমার ও এমবাপ্পের সমন্বয়ে আক্রমণভাগে ‘ত্রিফলা’ গড়েও পিএসজি চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ ছিল। পরবর্তীতে এই তিনজনই ক্লাব ছেড়ে যান। তারায় ভরা দল হঠাৎই মলিন হতে যায় অনেকটা। সেই দলকে দেম্বেলে দু-দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা উপহার দিয়েছেন। সেটাও পর পর (২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ মৌসুম)।
২০২৫ সালে ব্যালন ডি’অর ছাড়াও ফিফার বর্ষসেরা পুরুষ ফুটবলারের পুরস্কারও জিতে নেন দেম্বেলে। তাহলে ফ্রান্স দলে এতোটা ম্লান কেন তিনি? ৬০ ম্যাচে মাত্র ৭ গোল, দেম্বেলের নামের পাশে কি এটাও মানায়?
২০১৮ সারে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সারথী দেম্বেলে। কিন্তু বিশ্বকাপে মঞ্চে এখনো জাল খুঁজে নিতে পারেননি তিনি। নাকি ফ্রান্স দলে দেম্বেলে এক রহস্যের নাম! যেমনটা ছিলেন বার্সেলোনায় থাকার সময়?
অনেক প্রশ্নই আসলে ডানা মিলতে শুরু করেছে। অবশ্য ফ্রান্স দলের অন্দরমহলে মনে হয় না দেম্বেলেকে নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো সংশয় আছে। সোমবার ইরাকের মুখোমুখি হওয়ার আগে ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পে যেমন বলে দিয়েছেন, ‘উসমান ব্যালন ডি’অর জয়ী। দলের সবাই তার পাশে আছে এবং তাকে বিশ্বাস করে। সে দলের অপরিহার্য একজন। সে অনেক বছর ধরে খেলছে এবং ফ্রান্স দল কীভাবে খেলে সে ভালো করেই জানে।’
এরপরও বলতেই হয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে দেম্বেলের ঝলক খুব প্রয়োজন। অন্তত একটা গোল তো বটেই!
রিফাত/