সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। বর্তমানে ফর্টিস এফসির জার্সিতে খেলা এই মিডফিল্ডার আগামী শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বুট জোড়া তুলে রাখবেন। এদিন বাংলাদেশ ফুটবল লিগে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটির মুখোমুখি হবে ফর্টিস। সব ঠিক থাকলে ঢাকার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় হতে যাওয়া ম্যাচটিই হবে পেশাদার ফুটবলে মামুনুলের শেষ ম্যাচ।
৩৭ বছর বয়সী মামুনুল অবসরের সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করে খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, পরিকল্পনা করেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া। তবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছা মোটেও সহজ ছিল না তার জন্য। ‘খেলা ছেড়ে দেওয়াটা সব সময়ই কঠিন। ছোটবেলা থেকে যদি ধরেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে ফুটবলে জড়িয়ে আছি। তাই বিষয়টি এত সহজ না। কিন্তু মেনে নিতে হবে। পৃথিবীতে যেমন আমরা কেউ সারা জীবন বাঁচব না, তেমনই সারা জীবন খেলেও যেতে পারব না। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। এই নিয়ম আমাকে মেনে নিতে হবে।’
জাতীয় দলের জার্সিতে ৫৯ ম্যাচে ৩ গোল করা মামুনুল ক্লাব ফুটবলে দেশের সব বড় ক্লাবেরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবসহ চট্টগ্রাম আবাহনী, রহমতগঞ্জ, ব্রাদার্সের জার্সিতে খেলেছেন। ইতি টানতে যাচ্ছেন ফর্টিসের হয়ে। ২০২২ সাল থেকে এই ক্লাবে খেলছেন তিনি। মাঝে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে আতলেতিকো ডি কলকাতারও অংশ হয়েছিলেন তিনি।
বিদায় বেলায় লম্বা ক্যারিয়ারে দারুণ কিছু প্রাপ্তি নিয়ে গর্বের কথা যেমন বলেছেন মামুনুল, তেমনই বলেছেন কিছু আক্ষেপের কথাও। প্রাপ্তির কথা বলতে গিয়ে মামুনুল বলেন, ‘৬টি লিগ জিতেছি। এ ছাড়া ফেডারেশন কাপ, স্বাধনীতা কাপ জিতেছি। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ পদক জিতেছে। ২৮ বছর পর বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসে জয় পেয়েছিল আমার গোলে। এএফসির সপ্তাহের সেরা গোলের তালিকায় নাম ওঠেছিল। এগুলো জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ তবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে না পারাটা আজীবন পোড়াবে বলে জানান মামুনুল, ‘সাফ ফুটবল জিততে না পারার আক্ষেপটা সারা জীবন পোড়াবে।’
মামুনুলের আরেকটি আক্ষেপ, সর্বশেষ ৪ বছর ফর্টিসের হয়ে খেললেও কোনো ট্রফি জিততে পারেননি। যদিও চলতি মৌসুমে লিগ শিরোপা জয় বা রানার্সআপ হওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে দলটির। তবে মামুনুল মৌসুম শেষের আগেই বুট জোড়া তুলে রাখছেন। এর একটি বড় কারণ সামনে ফর্টিস এফসির কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার হজে যাচ্ছেন। মামুনুল চেয়েছেন কায়সারের উপস্থিতিতে ঢাকার মাঠেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের শেষ ম্যাচটা খেলতে।
জাতীয় দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় বলা হয়নি মামুনুলের। ২০০৮ সালে অভিষিক্ত এই মিডফিল্ডার লাল-সবুজ জার্সিতে শেষ ম্যাচটি খেলেন ২০২০ সালে বুরুন্ডির বিপক্ষে। জাতীয় দলের জার্সিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলতে না পারলেও একজন মামুনুল দেশের ফুটবলে স্মরণীয় হয়েই থাকবেন। বিশেষ করে একটা লম্বা সময় দেশের ফুটবলের বড় মুখ ছিলেন তিনি। মামুনুল বলেন, ‘জানি না কতটুকু স্মরণীয় হয়ে থাকব। তবে আমি সব সময় চেষ্টা করেছি নিজের সেরাটা দিতে। যখনই দেশের হয়ে খেলেছি, দেশকে কিছু দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
তোফায়েল/অনিক/