একটা সময়ে মনে হচ্ছিল মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংস শেষে লিড পেয়ে যাবে পাকিস্তান। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি মেহেদি হাসান মিরাজের ফাইফারে। উল্টো দারুণভাবে ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে আজ (১০ মে) তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের লিড ৩৪ রানের।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ৩৮৬ রানে। দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল বিনা উইকেটে ৭ রান (দ্বিতীয় ইনিংস)। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকরা অলআউট হয় ৪১৩ রানে।
১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করেছিলেন আজান আওয়াইস এবং আব্দুল্লাহ ফজল। দুজনে অপরাজিত ছিলেন যথাক্রমে ৮৫ ও ৩৭ রানে। মধাহ্নভোজের বিরতির আগেই তারা সহ পাকিস্তানের ৪ উইকেটের পতন ঘটে।
তাসকিন আহমেদ ভাঙেন আজান-ফজরের ১০৪ রানের জুটি। ১৬৫ বলে ১৪টি চার ১০৩ রান করে টাইগার পেসারের শিকার হন আজান। ইনিংসের ৫১তম ওভারে নাহিদ রানার এক রান নিয়ে নিজের শতক পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ২১ বছর বয়সি আজান পাকিস্তানের মাত্র ১৪তম ব্যাটার হিসেবে টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েন।
আজান যখন আউট হন তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ২১০ রান। সেখান থেকে ২৩০ ছুঁতেই নেই পাঁচ উইকেট। একে একে আউট হন শান মাসুদ (৯), সৌদ শাকিল (০) এবং ফজল (৬০)। মাসুদকেও শিকার বানান তাসকিন। বাকি দুজনের বাকি দুজনের উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
এরপরই হাল ধরেন সালমান আলী আঘা এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুজনের ১১৯ রানের প্রতিরোধ ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। টাইগার স্পিনার আউট করেন রিজওয়ানকে। দলীয় ৩৪৯ এবং ব্যক্তিগত ৫৯ রানে আউট হন তিনি। টেস্টে এটা তার ১৩তম হাফ সেঞ্চুরি।
রিজওয়ান আউট হওয়ার পরই খেলা বন্ধ হয়ে যায় বৃষ্টির কারণে। তখন উইকেটের অপরপ্রান্তে অপরাজিত ছিলেন সালমান। প্রায় ২ ঘণ্টা পর খেলা শুরু হওয়ার পরই তাকে আউট করেন নাহিদ রানা। ১১তম টেস্ট হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সালমান থামেন ৫৮ রানে।
পাকিস্তানের অষ্টম উইকেটের পতন ঘটে মিরাজের স্পিনে। নোমান আলী (২) তার চতুর্থ শিকার হন। খানিকপরই শাহিন শাহ আফ্রিদিকে (১৩) আউট করে পাঁচ উইকেটের কোটা পূর্ণ করেন মিরাজ। টেস্টে এটা তার ১৪তম ফাইফার।
হাসান আলীকে (৬) বোল্ড করে পাকিস্তানের ইনিংস থামিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো উইকেট পড়তে দেননি মাহমুদুল হাসান জয় (২) এবং সাদমান ইসলাম (০)।
অনিক/