একসময় মনে হচ্ছিল অসম্ভবকে সম্ভব করেই ফেলবে পাকিস্তান। সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে বাংলাদেশের হাতছাড়া হচ্ছিল। কিন্তু দিনের শেষ ভাগে অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম আবারও ফিরিয়ে আনলেন স্বস্তি।
দুজনের ১৩৪ রানের জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে বড় ব্রেকথ্রু এনে দেন তাইজুল। দলীয় ২৯৬ রানে সালমান আলী আগাকে বোল্ড করে ভাঙেন পাকিস্তানের প্রতিরোধ। এরপর পরের ওভারেই শূন্য রানে হাসান আলীকেও ফেরান এই বাঁহাতি স্পিনার। শেষ বিকেলের এই জোড়া আঘাতেই নতুন করে ম্যাচে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় থেকে এখন বাংলাদেশ মাত্র ৩ উইকেট দূরে। ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। জয়ের জন্য তাদের এখনও প্রয়োজন ১২১ রান।
আগামীকাল শেষ দিনে পাকিস্তানের আশা হয়ে ক্রিজে থাকবেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৭৫ রানে অপরাজিত এই উইকেটকিপার-ব্যাটারের সঙ্গে আছেন সাজিদ খান, তার সংগ্রহ ৮ রান।
১৬২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। তখন দ্রুত অলআউট হওয়ার শঙ্কাও ঘিরে ধরেছিল স্বাগতিকদের। সেখান থেকেই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা।
চা-বিরতির পর দুজনই খেলেছেন অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে। বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তারা। রিজওয়ান ৮৬ বলে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশতক। অন্যদিকে আগ্রাসী ব্যাটিং করা সালমান মাত্র ৭৪ বলেই পূর্ণ করেন নিজের ১২তম টেস্ট ফিফটি। দুজনের জোড়া হাফসেঞ্চুরি ও শতরানের জুটি পাকিস্তানকে একসময় অবিশ্বাস্য জয়ের স্বপ্নও দেখাতে শুরু করেছিল।
এর আগে সোমবার তৃতীয় দিনের শেষভাগে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ৩৯০ রানে। প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিড যোগ হয়ে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রান।
টেস্ট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৪১৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ৩ উইকেটের জয় পেয়েছিল ক্যারিবীয়রা।
চারশ’র বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের ঘটনা আছে আরও তিনবার। তবে এবার জিততে হলে পাকিস্তানকে গড়তে হবে টেস্ট ইতিহাসের নতুন বিশ্বরেকর্ড।
চঞ্চল/নাঈম