বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার জন্য চার বছর ধরে অপেক্ষা করে ফুটবলাররা। স্বপ্ন দেখেন দেশের হয়ে ইতিহাস গড়ার। কিন্তু কখনো কখনো ভাগ্য নির্মম হয়ে ওঠে। স্বপ্নের দরজায় পৌঁছেও ফিরে যেতে হয় খালি হাতে। জাপানের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দোর গল্পটা ঠিক তেমনই।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জাপানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর মাত্র তিন দিন আগে দুঃসংবাদটি আসে। পায়ের ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে না পারায় ৩৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। শুধু বিশ্বকাপ থেকেই নয়, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলকেও বিদায় জানান জাপানের অন্যতম সফল অধিনায়ক। ফলে উত্তর আমেরিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই শেষ হয়ে গেল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অধ্যায়।
গত বৃহস্পতিবার জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিশ্চিত করে, এন্দোর পরিবর্তে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখের ফরোয়ার্ড শুতো মাচিনোকে। নিজের হতাশা লুকাননি এন্দো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘খেলতে না পারায় আমি হতাশ।’ তবে নিজের দুঃখের চেয়ে দেশের স্বপ্নকেই বড় করে দেখছেন তিনি। ‘এফ’ গ্রুপে নেদারল্যান্ডস, তিউনিসিয়া ও সুইডেনের বিপক্ষে জাপান ভালো করবে বলেই বিশ্বাস তার।
‘এক্স’ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভবিষ্যতে এমন একটি সময় নিশ্চিতভাবেই আসবে যখন জাপান বিশ্বকাপ জিতবে। তাই আসুন আমরা সেই বিশ্বাস বুকে রেখে দলকে সমর্থন করি। চলুন জাপানের সব শক্তিকে একসঙ্গে করি যাতে উত্তর আমেরিকার এই টুর্নামেন্টেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি (বিশ্বকাপ জয়) বাস্তবে রূপ নিতে পারে।’
এর পর জাতীয় দলকে বিদায় বলেন তিনি, ‘আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে আমি আর দশটা সাধারণ ভক্তের মতোই জাপানকে সমর্থন জোগাব।’
এন্দোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দেয় একটি চোট। গত ফেব্রুয়ারিতে লিভারপুলের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে গিয়ে পায়ের ইনজুরিতে আক্রান্ত হন তিনি। যদিও এর পর জাতীয় দলে ফেরার চেষ্টা থামাননি। গত ৩১ মে টোকিওতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জেতা প্রীতি ম্যাচে জাপানের জার্সিতে মাঠে দেখা গিয়েছিল তাকে। কিন্তু সেই ম্যাচেও পুরো সময় খেলতে পারেননি। হাফ-টাইমের পর তাকে তুলে নেওয়া হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি এর পরও।
মেক্সিকোতে জাপানের প্রাক-বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দিয়েও অস্বস্তি অনুভব করতে থাকেন এন্দো। ইনজুরির কারণে কোনো পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন সেশনে অংশ নিতে পারেননি। ন্যাশভিলেতে দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দিলেও শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারেন, টুর্নামেন্টের উচ্চ গতি ও তীব্রতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা তার এখনো ফিরে আসেনি। তবে সবকিছু হারিয়েও আক্ষেপ নেই এন্দোর, ‘ইনজুরিতে পড়ার পর থেকে নিজেকে ফিট করতে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। তাই আমার কোনো অনুশোচনা নেই।’