ক্যারিবীয় অঞ্চলের দারিদ্র্যপীড়িত দেশ হাইতির বিশ্বকাপ দলের ২৬ ফুটবলারের মাত্র একজন খেলেন ঘরোয়া লিগে এবং ১০ জনের জন্ম হাইতিতে। বাকি ১৬ জনের মধ্যে ১২ জনের জন্ম ফ্রান্সে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে দুজন এবং কানাডা ও সুইজারল্যান্ডে একজন করে। অর্থাৎ দলে হাইতিয়ানের চেয়ে ফরাসির সংখ্যা বেশি!
মূলত পূর্ব পুরুষের সূত্রে জাতীয়তা বদলে হাইতির নাগরিকত্ব নিয়েছেন তারা। দলটির বড় তারকা উইলসন ইসিদোরের জন্মও ফ্রান্সে। খেলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব সান্ডারল্যান্ড এএফসির হয়ে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইসিদোর সান্ডারল্যান্ডের জার্সিতে এই মৌসুমে ৩২টি ম্যাচ খেলে ৬টি গোল করেছেন, যার মধ্যে চেলসির বিপক্ষে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে করা তার গোলটি ছিল ব্যাপক প্রশংসিত। ২৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি হাইতির জাতীয় দলের জার্সিতেও আলো ছড়াচ্ছেন।
ইসিদো ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ দলে খেলেছেন। জেনিট সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে তাকে ধারে দলে নেয় সান্ডারল্যান্ড। ওই মৌসুমে ২৬ ম্যাচে করেন ৯ গোল। গত বছর ইংলিশ ক্লাবটিতে ৫০ ম্যাচেও গোল ৯টি। এ বছরই বাছাই দিয়ে হাইতির জার্সি গায়ে ৪ ম্যাচে তার গোল ২টি। হাইতি জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ গোল করা আরেক অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ডুকেন্স নাজোন খেলেন ইরানের ক্লাব এস্তেঘলালে। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফ্রান্সে। বহুজাতিক দলের সেরা উদাহরণ হতে পারে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা হাইতি। হাইতিতে যাদের জন্ম, তারাও বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন শৈশবে।
প্রবাসীদের ভিড়ে হাইতির ক্লাবে খেলা একমাত্র ফুটবলার উডেনস্কি পিয়েরে। ২১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার খেলেন হাইতির ক্লাব ভায়োলেট এসিতে।