মূলত আধুনিক ফুটবল অবকাঠামো, দলীয় প্রচেষ্টা ও বাছাই পর্বের শেষ দিকে ভাগ্যের ছোঁয়ায় প্রায় তিন দশক পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এসেছে স্কটল্যান্ড। দলটিতে সেই অর্থে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় মাপের কোনো ফুটবলার নেই। কোচ স্টিভ ক্লার্কের ভরসা মিডফিল্ডে জন ম্যাকগিন ও স্কট ম্যাকটমিনের অভিজ্ঞতা। ডিফেন্স ও স্ট্রাইকিংয়ের মধ্যে মেলবন্ধন গড়ে দিতে পারেন দীর্ঘদিন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে খেলা ম্যাকগিন এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও নাপোলির হয়ে খেলা ম্যাকটমিনে। ৩১ বছর বয়সী ম্যাকগিন ভিলার জার্সিতে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন। ২০১৮ থেকে খেলেছেন ২৭৩ ম্যাচ। সেখানে ২৮ গোল প্রমাণ করে প্রয়োজনে তিনি কতটা অ্যাটাকিং। ২০১৬ থেকে প্রায় এক দশক স্কটল্যান্ড জাতীয় দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। ৮৬ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল।
একসময় জন ম্যাকগিন নিজেও বিশ্বাস করতেন না যে, তিনি কোনোদিন স্কটল্যান্ড জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপাবেন। বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। অথচ আজ তিনিই স্কটিশ ফুটবলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক, সমর্থকদের হৃদয়ের নায়ক এবং দলের অনুপ্রেরণার উৎস। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা স্কটল্যান্ডের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও আত্মবিশ্বাসের গল্পে ম্যাকগিন যেন এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, ‘আমি কখনো ভাবিনি যে স্কটল্যান্ডের হয়ে খেলতে পারব, বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করব।’ ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলছিলেন তিনি।
অন্যদিকে স্কট ম্যাকটমিনের জন্ম-বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডে। ইপিএলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড় রেড ডেভিলদের হয়ে খেলেছেন লম্বা সময়। ১৭৮ ম্যাচে করেছেন ১৯ গোল। এরপর ২০২৪ থেকে আছেন ইতালিয়ান সিরি-আ’র ক্লাব নাপোলিতে। ৬৭ ম্যাচ খেলে করেছেন ২২ গোল। তবে বাবার সূত্রে স্কটল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলাটাই বেছে নিয়েছেন ২০১৮ সালে। তখন থেকেই দেশটির ফুটবলে অন্যতম বড় মুখ তিনি। ৭০ ম্যাচে করেছেন ১৫ গোল।