সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের গল্প শুনলে সাধারণত অসাধারণ মেধাবী প্রযুক্তিবিদ বা উদ্যোক্তাদের কথা শুনি, যারা কিনা নিজ নিজ জায়গা থেকে সফল। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আঁতুড়ঘর সিলিকন ভ্যালিতে কাজ করার স্বপ্ন থাকে অনেকেরই। সেই স্বপ্ন জেগেছিল অস্ট্রেলিয়ান কিশোর বেন পাস্তেরনাকের মনে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ভাইরাল অ্যাপ তৈরি করছিলেন, যা হোমওয়ার্ক এবং স্কুলের কাজ পরিচালনা করার জন্য ব্যবহার হতো। পরে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ উদ্যোক্তাদের একজন হয়ে উঠেন।
বেনের যাত্রা শুরু হয় স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। সফটওয়্যার ও কোডিংয়ের প্রতি তার এক ধরনের ভালোবাসা জন্মে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সে ‘ইম্পসিবল রাশ’ নামে একটি গেম তৈরি করেন। ক্লাসের একঘেয়েমি দূর করতে তিনি এটি বানিয়েছিলেন। পরে সেটি অ্যাপ স্টোরের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বেড়ে ওঠা বেন স্কুলে থাকতেই অ্যাপ বানাতে শিখেছিলেন। পাঠ্যবইয়ের বাইরে কোডিং জিনিসটাকে মজার ছলেই নিয়েছিলেন তিনি। মজা করে নানা জিনিস তৈরি করতেন। মাথায় আসা নানা চিন্তাভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে থাকেন। বেনের গেমটি অনেকবার ডাউনলোড হওয়ার কারণে তিনি টেক জায়ান্টদের নজরে আসেন। ফেসবুক, গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করার আমন্ত্রণ পান।
১৫ বছর বয়সে তিনি জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেন। বেন তার নিজস্ব স্টার্টআপ বানাতে নিউইয়র্ক চলে যান। তিনি ফ্লগ নামে একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠা করেন। যেটি তরুণদের ও তার বন্ধুদের জিনিসপত্র কেনা এবং বিক্রি করার মাধ্যম হয়ে ওঠে। ২০১৬ সালের শেষের দিকে, তিনি মাংকি নামে আরেকটি অ্যাপ তৈরির সঙ্গে যুক্ত হন, যা কিশোর-কিশোরীদের একই রকম আগ্রহের নতুন লোকদের সঙ্গে ভিডিও-চ্যাট করার সুযোগ করে দেয়। ২০২০ সালের শুরুর দিকে, মাংকির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি ছিল এবং অন্য একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্ম অধিগ্রহণের আগে ২০ বিলিয়নেরও বেশি কলের সুবিধা দিয়েছিল। অ্যাপসে সাফল্যের পর বেন খাদ্য প্রযুক্তিতে ঝুঁকে পড়েন। ২০১৮ সালে তিনি সিমুলেট নামে আরেকটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে। এটি ছিল উদ্ভিদভিত্তিক খাবারের একটি প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটির প্রধান পণ্যের মধ্যে ছিল ‘নাগস’, যা চিকেন নাগেটের একটি ভেজ সংস্করণ। সিমুলেট লাখ লাখ ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করে এবং তরুণ উদ্যোক্তা বেন ফোর্বসের ‘ত্রিশ আন্ডার ত্রিশ’ তালিকায় স্থান করে নেন।
বেন পাস্তেরনাকের এই যাত্রা অনেক তরুণ উদ্যোক্তাকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি ঝুঁকি নিতে পছন্দ করতেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যদি তুমি এমন কোনো দল খুঁজে পাও যারা তোমার স্বপ্ন ধারণ করে, তাহলে তুমি পাহাড় (বাধা) সরাতে পারবে।’

