বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা আর বিলাসিতা নয়, এটি সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। প্রতিদিনই আমরা তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টি, বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছি। এসবের পেছনে বড় কারণ হলো মানুষের অসচেতন কর্মকাণ্ড। তাই পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সচেতন হওয়া আজ তরুণদের জন্য বিশেষভাবে জরুরি।
পরিবেশ বলতে আমরা চারপাশের প্রকৃতি- বায়ু, পানি, মাটি, গাছপালা ও প্রাণিজগৎকে বুঝি। এই পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে মানুষের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক দূষণ ও বন উজাড়ের কারণে পরিবেশ দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের স্বাস্থ্য, খাদ্য ও নিরাপদ জীবনের ওপর।
জলবায়ু পরিবর্তন মূলত দীর্ঘ সময়ের আবহাওয়ার পরিবর্তনকে বোঝায়। কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ ক্ষতিকর গ্যাস অতিরিক্ত পরিমাণে বাতাসে মিশে যাওয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং উপকূলীয় অঞ্চল ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বাংলাদেশের মতো নদীমাতৃক দেশে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।
তরুণ সমাজ কেন এখানে গুরুত্বপূর্ণ? কারণ আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তারা যদি এখনই পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি নিরাপদ পৃথিবী পেতে পারে। পানির অপচয় না করা, প্লাস্টিক কম ব্যবহার করা, গাছ লাগানো, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা- এগুলো ছোট কাজ মনে হলেও সম্মিলিতভাবে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতা শিক্ষার সঙ্গেও জড়িত। স্কুল-কলেজে শুধু পাঠ্যবই নয়, বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব শেখানো দরকার। তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সহজেই সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে। এতে অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হয় এবং একটি ইতিবাচক আন্দোলন গড়ে ওঠে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর। কাজেই পরিবেশ রক্ষা মানে শুধু প্রকৃতি নয়, মানুষের জীবন ও জীবিকাও রক্ষা করা। কৃষি, মৎস্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সরাসরি পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। পরিবেশ ধ্বংস হলে এসব খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণদের উচিত এখন থেকেই সচেতন হওয়া এবং অন্যদের সচেতন করা। আজ আমরা যদি প্রকৃতিকে বাঁচাই, তাহলে প্রকৃতিও আমাদের বাঁচাবে। একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে পরিবেশ সচেতনতার বিকল্প নেই।