ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কল্যাণে পৃথক অধিদপ্তর গঠনের আশ্বাস দিলেন মির্জা ফখরুল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা হরিণাকুন্ডুতে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য বিপদ: এরদোয়ান সিলেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে প্রশাসনের অভিযান মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিল অব এন্ট্রি ও বিল অব এক্সপোর্ট কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে প্রথমবার মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়াল ব্যক্তিগতভাবে আমি মৃত্যুদণ্ড বিরোধী: আইনমন্ত্রী বাংলা কিউআর: ক্যাশলেস বাংলাদেশের পথে নতুন বিপ্লব ভ্যানচালকের আর্জেন্টিনা প্রেম মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা: আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় প্রশংসা সৌদি হজমন্ত্রীর অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনা বাড়ছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ সংস্থা বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি? পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তি অনিশ্চিত কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের ডিসি বরাদ্দ অর্থের ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে চার স্তরে মজুত, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নারী ও শিশুর সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ভোটের দায়িত্বে মারা গেলে ১০ লাখ টাকা পাবে পরিবার মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পোশাক শিল্পের জন্য অশনি সংকেত: ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে আলোচনা বিলম্ব করার ‘মূল্য দিতে হবে’: ট্রাম্প আড়াইহাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুরে বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষার্থী আহত সিংগাইরে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু: ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা সরকারি ভাতা বিতরণে নগদের প্রতি আস্থা অব্যাহত
Nagad desktop

জলবায়ু সঙ্কটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবদান কতটুকু?

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:৫৮ এএম
আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:০৮ এএম
জলবায়ু সঙ্কটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবদান কতটুকু?
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক বোমার পরে সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় জলবায়ু সঙ্কট। বাড়তে থাকা সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি এই সঙ্কট মোকাবিলায় নানাভাবে ইতিবাচক অবদান রাখছে। বিশ্বের সার্বিক কার্বন নিঃসরণ পরিমাপ থেকে শুরু করে জলবায়ুর ভবিষ্যতদ্বাণীতে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার করছে উন্নত দেশগুলো। আধুনিক প্রযক্তির নতুন সংযোজন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা। অভাবনীয় ক্ষমতাসম্পন্ন এই সম্পদ দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে জলবায়ু সঙ্কট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে কী? নাকি মাউসের ক্লিকে ফোঁটায় ফোঁটায় আর্কটিকের বরফ গলাচ্ছি আমরা? জলবায়ু সঙ্কটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই এই লেখা।   

সঙ্কট মোকাবিলায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা বিষয়ক আলোচনার ফাঁকে এআইয়ের মাধ্যমে জলবায়ুর ক্ষতিসাধনের বিষয়টি চাপা পড়ে যাচ্ছে। জলবায়ুর জটিল হিসাবের উদ্দেশ্য এই প্রযুক্তিকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও খোদ এআই জলবায়ু সঙ্কট ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়ায় অবদান রাখছে। এ বিষয়ে দুশ্চিন্তার জন্ম নিয়েছে পরিবেশবাদীদের মধ্যে।

এক গবেষণায় উঠে এসেছে - চ্যাটজিপিটিকে কয়েক ডজন প্রশ্ন করার প্রক্রিয়ায় যে যান্ত্রিক উত্তাপ উৎপন্ন হয়, তা সামলাতে প্রায় দুই গ্লাস পানি খরচ হচ্ছে। এই ইন্টারনেট টুলের পুরাতন সংস্করণকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়িন লিটার পানি অপচয় হয়। দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এই তথ্য পাঠকের কপালে ভাঁজ তোলার পক্ষে যথেষ্ট।

ভারতের উত্তরাঞ্চলে, পাকিস্তানের করাচিতে অথবা বাংলাদেশের রাজধানীর দিকে তাকালে সুপেয় পানি সংকটের চিত্র স্পষ্ট হয়।

এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পেছনে ব্যবহৃত পানিকে অপব্যয় বললেও ভুল হবে না। দক্ষিণ এশিয়ায় অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মতো বাড়তে থাকা সঙ্কট মোকাবিলায় এআইয়ের ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিক জ্যাকি স্নো বলেন, ‘বর্তমান পৃথিবীতে সবচয়ে বড় সমস্যার নাম জলবায়ু সঙ্কট। এ ক্ষেত্রে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তির ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে।’

এদিকে ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, বড় ধরণের উদ্ভাবন ছাড়া এই সমস্যার সমাধান অদূর ভবিষ্যতে সম্ভব নয়।

জলবায়ু সঙ্কট মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা

জলবায়ু সঙ্কট মোকাবিলায় এআই-এর সবচেয়ে কার্যকরি ব্যবহার হয় জলবায়ুবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে। উদাহরণ হিসেবে গুগলের ‘ফুড হাবের’ কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়াসহ প্রায় ৮০ দেশের বন্যা পরস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাস পাওয়া যায়। 

কৃষিক্ষেত্রে পানি ও সারের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে এআই-এর অবদান প্রশংসনীয়।

মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে দাবানলে আক্রান্ত অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করছেন ক্যালিফর্নিয়ার দমকল বাহিনী।

এদিকে গ্লোবাল ফরেস্টের মতো এআই টুলের স্যাটেলাইট চিত্রের সাহায্যে বন নিধন মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে।

যানবাহন নিয়ন্ত্রণে এআই ব্যবহারের পর থেকে শহরাঞ্চলে প্রায় ১০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমেছে।  
এ ছাড়া দ্য ওয়ার্ল্ড মেট্রোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে, এআই-এর ওয়ার্নিং সিস্টেমের সাহায্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি সফলতা পাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।

এআই-এর নেতিবাচক প্রভাব

এআই-এর যান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট জলবায়ু বিপত্তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিপিটি-৩ এর মতো পুরাতন সংস্করণের টুলের প্রশিক্ষণে প্রায় এক হাজার ২৮৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে। এ বিদ্যুৎ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ পরিবার প্রায় দুই হাজার বছর ঘরের সব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারবে।
 
এই প্রক্রিয়ায় যে পরিমান কার্বন নিঃসরণ হয়েছে তা নিইউইয়র্ক থেকে বেইজিংয়র ১২৫ টি ফ্লাইট থেকে নিঃসরিত কার্বনের সমান।

এদিকে ইন্ট্রন্যাশনাল এনার্জি অ্যাজেন্সির মতে, এআই-এর কারণে ২০২৬ সাল নাগাদ গ্লোবাল ডেটা সেন্টারের বৈদ্যুতিক চাহিদা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুনে পরিণত হবে।

আধুনিক ডেটা সেন্টারগুলোতে ব্যবহৃত পানির পরিমান দুশ্চিন্তার আরেকটি বিষয়। যন্ত্র ঠান্ডা রাখতে একেকটি প্রতিষ্ঠান দিনে প্রায় ৫ লাখ গ্যালন পানি ব্যবহার করছে।

‘ কয়েকবছরের মধ্যেই হয়তো দেখা যাবে বৃহদাকার এআই সেন্টারগুলোতে একটা পুরোতে দেশের চাহিদার সমপরিমান পানি ব্যবহার করছে।’, বলেন গবেষক কেট ক্রফোর্ড। 

তবে এই তথ্য ঢালাওভাবে সবক্ষেত্রে খাটানোর সুযোগ নেই। ফিনল্যান্ডে অবস্থিত গুগলের ডেটা সেন্টারের প্রায় ৯৭ শতাংক যন্ত্রই কার্বন নিঃসরণ থেকেন মুক্ত। তবে দক্ষিণ এশিয়ার ডেটা সেন্টারগুলোতে এই সংখ্যা মাত্র ৪ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টেকসই পরিবর্তনের উপায়

 উদ্ভাবণ ও সুষম পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জলবায়ু সহনীয় পরিবর্তন সম্ভব। অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, মেটা ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান এই সঙ্কট মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই বিপুল পরিমান অর্থের বরাদ্দ দিয়েছে। এই অর্থ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে।

গুগলের নবাগত টেনসর প্রসেসিং ইউনিটগুলো (টিপিইউ) গতানুগতিক সার্ভারগুলোর তুলনায় ৯৩ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। 

এদিকে কানাডার কিউবেক শহরের প্রতিষ্ঠানগুলো পানির স্রোত থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়া যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট তাপ শহরের বিভিন্ন ঘর উষ্ণ রাখার ক্ষেত্রে ব্যবহারের মাধ্যমে জলবায়ু ও প্রযুক্তির সামঞ্জস্যপূর্ন অবস্থান  নিশ্চিত করা হচ্ছে। 

এআই গবেষকরাও প্রযুক্তির সঙ্গে আপস না করেই কীভাবে জলবায়ুর ক্ষতিরোধ করা যায় এ বিষয়ে কাজ করছেন।

এদিকে এআই-এর যান্ত্রিক কার্যক্রমে পানির অপচয় রোধে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে মেটা। ডেটাসেন্টারগুলোতে আগে তুলনায় ৪০ শতাংশ কম পানি ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট

পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার চারভাগের একভাগ দক্ষিণ এশিয়ার বাসিন্দা। এই অঞ্চলে তাই জলবায়ু সঙ্কটের প্রভাবও বেশি ভয়ঙ্কর। এআই এর কাজে যে পরিমান পানি খরচ হচ্ছে, ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের মানুষ সুপেয় পানির অভাবে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের মেশিন লার্নিং-বিষয়ক গবেষক ড. কাশিফ তালপুর বলেন, ‘এআই শক্তিশালী করতে গিয়ে যে পরিমান প্রাকৃতিক ক্ষতি হচ্ছে একটা সময় গিয়ে হয়তো আমাদের কাছে প্রযুক্তি থাকবে কিন্তু ব্যবহার করার মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ 

তবুও, এআই-এর সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের উন্নতিতে আশা দেখছেন অনেকেই। 

‘নিভিডিয়ার মতো অত্যাধুনিক এআই চিপ ব্যবহারের মাধ্যমে এক সময় প্রাকৃতিক ক্ষতির হার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে’, বলেন তালপুর।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যত সম্ভাবনা

দক্ষিণএশিয়ার কথা চিন্তা করলে জলবায়ু সহায়ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকল্প নেই। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, পানি সংরক্ষণ ও কার্যকরি এআই সংস্করণ উদ্ভাবণের মাধ্যমে এই সঙ্কট মোকাবিলা করা সম্ভব।

এ ছাড়া দেশীয় যুবাদের জলবায়ু সহায়ক প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এই অঞ্চলের সরকারগুলো প্রচেষ্টা আবশ্যক।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সত্যিই আমাদের দোটানায় ফেলেছে। আধুনিকতার পথে আগাতে গেলে জলবায়ুর সঙ্গে আপস করতে হচ্ছে। এদিকে জলবায়ুকে প্রাধান্য দিতে গেলে প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ছে।

তবে যথাযথ পরিকল্পনা ও বৃহত্তর প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে সবাই নিজের জায়গা থেকে সদিচ্ছা দেখালেই এই সঙ্কট নিরসন সম্ভব। 

সুত্র: ইউনাইটেড ন্যাশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম, এমআইটি ক্লাইমেট অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি কনসর্টিয়াম, প্ল্যানেট ডিট্রয়েট অরগানাইজেশন, দ্য ডন

নাইমুর/অমিয়/

বান্ধবীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়ে ‘উসুল’ করতে চেয়েছিলেন তরুণ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
বান্ধবীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়ে ‘উসুল’ করতে চেয়েছিলেন তরুণ
প্রতীকী ছবি

ডেটে গিয়ে এক তরুণীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাওয়ানোর পর সেই খরচ ‘উসুল’ করার জন্য যৌন সুবিধা চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভারতের গুরুগ্রামের বাসিন্দা হিমাংশু জাংরা। 

একটি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শোতে দেওয়া তার সেই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর চাকরি হারাতে হয়েছে তাকে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমাংশু কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরের একটি অনুষ্ঠানে দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। শো চলাকালে প্রণীতের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি নিজের একটি ডেটের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

হিমাংশুর দাবি, তিনি এক তরুণীকে নিয়ে ডেটে গিয়েছিলেন এবং দুজনে প্রায় ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খেয়েছিলেন। রাতের খাবারের পর ওই তরুণী যখন তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন, তখন তিনি নাকি বলেন যে খাবারের জন্য খরচ হওয়া ৩৭০ টাকা ‘উসুল’ করতে চান।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি বললাম, যে ৩৭০ টাকা খরচ হয়েছে, সেটা তো উসুল করবই।’

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হিমাংশু। অনেকেই তার মন্তব্যকে নারীর প্রতি অসম্মানজনক ও আপত্তিকর বলে আখ্যা দেন।

জানা গেছে, হিমাংশু ‘স্টারভিক ডিজাইন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

হিমাংশুর বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে অনেকেই বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একাংশ তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান।

এ ঘটনার পর স্টারভিক ডিজাইনের প্রতিষ্ঠাতা বিবেক বিশ্বকর্মা একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা হিমাংশুকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছি। ভুলের পরিণতি ভোগ করতেই হয়। তবে আমরা আশা করি, এই ধরনের ঘটনা আত্মসমালোচনা, শিক্ষা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করবে। পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অন্যদিকে, হিমাংশু তার মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরও। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

অমিয়/

ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছেন ৭৪ বছরের চীনা ‘তরুণী দাদি’

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছেন ৭৪ বছরের চীনা ‘তরুণী দাদি’
ইংজি। ছবি: সংগৃহীত

চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা তার ভিন্ন ফ্যাশন সচেতনতা, তারুণ্যদীপ্ত মনোভাব এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

সাদা চুল এবং চমৎকার শারীরিক গঠনের অধিকারী এই প্রবীণ নারীর নাম ইংজি (Yingzi)। নেটিজেনরা তাকে ভালোবেসে 'তরুণী দাদী' (গার্লিস গ্রেন্ডমা) বলে ডাকছেন।

হাই হিল পরে শহরের রাস্তায় তার নাচ ও ক্যাটওয়াকের ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ ফলোয়ার অর্জন করেছে এবং এগুলোর ভিউ ১০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

ইংজি জানান, তার চিরসবুজ অবয়বের মূল রহস্য হলো নিজের স্টাইল ধরে রাখা। তিনি তরুণদের পছন্দের রঙচঙে পোশাক থেকে শুরু করে পপ, পাংক এবং গার্ল-গ্রুপ ফ্যাশনের পোশাকও দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরেন।

শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে তিনি প্রতিদিন সকালে এক ঘণ্টা যোগব্যায়াম করেন এবং বিকেল ৫টার পর আর কোনো খাবার খান না।

আশির দশকে স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে জাপানে থাকার সময় তিনি একটি রেস্তোরাঁ চালাতেন, যেখানে তার সৌন্দর্যের কারণে একটি সুপরিচিত জাপানি ম্যাগাজিনেও তার ছবি ছাপা হয়েছিল।

পরবর্তীতে চীনে ফিরে 'রিয়েল এস্টেট' ব্যবসায় সফল হয়ে তিনি নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেন এবং দাতব্য সংস্থায় লাখ লাখ ইউয়ান দান করেন।

৭০ বছর বয়সে তিনি প্রবীণ নারীদের একটি ফ্যাশন গ্রুপে যোগ দেন। এই গ্রুপটি নারীদের মনে সাহস জোগাতে, বয়সকে জয় করার পরামর্শ দিতে এবং পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করে।

সম্প্রতি তিনি সাংহাই ডিজনিল্যান্ডের একটি ফ্যাশন শোতে হেঁটে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছেন।

ইংজির মতে, বয়স কোনো বাধা নয়, বরং একটি সম্পদ। তিনি ১২০ বছর বয়স পর্যন্ত এভাবেই সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তার এই ভিন্ন ধারার জীবনযাত্রা প্রবীণদের নিয়ে প্রচলিত সমাজিক ধারণা ভেঙে নতুন প্রজন্মকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

আজহার/অমিয়/

পরীক্ষার আগে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও উদ্বেগ কমাতে অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
পরীক্ষার আগে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও উদ্বেগ কমাতে অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
ছবি: এআই

চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরীক্ষা ‘গাওকাও’ সামনে রেখে বহু শিক্ষার্থী হাসপাতালমুখী হচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, অক্সিজেন থেরাপি মস্তিষ্ককে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং পরীক্ষাজনিত উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

গাওকাও হলো চীনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, যা প্রতি বছর ৬ থেকে ৮ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। 

দেশটিতে এই পরীক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়, কারণ এর ফলাফলই মূলত নির্ধারণ করে দেয় একজন শিক্ষার্থী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কোন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাওকাও পরীক্ষার্থীদের জন্য অক্সিজেন থেরাপির উপকারিতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। এসব পোস্টে দাবি করা হয়, এই থেরাপি ঘুমের মান উন্নত করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত হাসপাতালের হাইপারবারিক অক্সিজেন চেম্বারে পরিচালিত এই চিকিৎসা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

পূর্ব চীনের জিয়াংসি প্রদেশের ইয়ংফেং কাউন্টি পিপলস হাসপাতাল গত ২৩ মে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে এই সেবা চালু করে। হাসপাতালটির তথ্য অনুযায়ী, চালুর এক সপ্তাহের মধ্যেই ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এই সেবা নিয়েছেন।

৯০ মিনিটের একটি সেশনের জন্য খরচ পড়ে ৯৬ ইউয়ান (প্রায় ১৫ মার্কিন ডলার)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেবাটির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তাদেরও বিস্মিত করেছে।

হাসপাতালের হাইপারবারিক চেম্বার মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক দাই ফানবিং বলেন, উচ্চ ঘনত্বের অক্সিজেন গ্রহণের ফলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার বা মেরামতে সহায়তা করতে পারে। সাধারণত রক্ত সঞ্চালন বা অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত রোগের চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদু শহরের হুয়াক্সি নং-৪ হাসপাতালও কয়েক বছর ধরে গাওকাও পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সেবা দিয়ে আসছে।

এক শিক্ষার্থী জানায়, অক্সিজেন থেরাপি নেওয়ার পর তার ঘুম ভালো হচ্ছে এবং দিনের বেলায় মনোযোগও বেড়েছে।

এক অভিভাবক বলেন, তার সন্তান চার বার এই থেরাপি নিয়েছে এবং এর ফলাফলে সন্তুষ্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী হাইপারবারিক চেম্বারে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে লিখেছেন, ‘চেম্বারের ভেতর ছিল একদম শান্ত। শুধু নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়ি। বের হওয়ার পর মনে হয়েছে, যেন আমার মস্তিষ্ক নতুন করে চালু হয়েছে এবং চিন্তাভাবনা আরও পরিষ্কার হয়েছে।’

তবে চিকিৎসক দাই ফানবিং সতর্ক করে বলেছেন, হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি সবার জন্য উপযোগী নয় এবং এটি গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তিনি জানান, এমফাইসিমা, টিম্পানাইটিস এবং গুরুতর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই থেরাপি উপযুক্ত নয়।

দাই আরও বলেন, ‘এই প্রবণতার বিষয়ে আমি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করি। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক গাওকাও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অক্সিজেন থেরাপিকে এক ধরনের জাদুকরী সমাধান হিসেবে দেখছেন, যা বাস্তবসম্মত নয়।’

জিয়াংসি প্রদেশের মনোবিজ্ঞানী উ পেইশুয়ে বলেন, পরীক্ষার চাপ কমানোর জন্য আরও সহজ ও বৈজ্ঞানিক উপায় রয়েছে। এর মধ্যে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, রোদে সময় কাটানো এবং ব্যক্তিগত শখ চর্চা উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, ‘গাওকাও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে তথাকথিত অলৌকিক সমাধানের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস না রাখাই ভালো। এসব বিষয় অনেক সময় কেবল প্ল্যাসিবো প্রভাব সৃষ্টি করে। বাহ্যিক উপায়ের ওপর নির্ভর না করে নিজের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা অধিক কার্যকর।’ সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

অমিয়/

এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য
ছবি: প্রতীকী

বিখ্যাত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গিলিয়াড সায়েন্সেস এবং মের্ক-এর তৈরি এইচআইভির নতুন ওষুধ তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।

এই চিকিৎসাপদ্ধতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- এটি প্রতিদিন সেবন করতে হবে না; সপ্তাহে মাত্র এক বার খেলেই চলবে।

ওষুধটি কীভাবে কাজ করে?

নতুন ট্যাবলেটটিতে মের্কের তৈরি আইসল্যাট্রাভির এবং গিলিয়াডের তৈরি লেনাক্যাপাভিরের উপাদানকে সমন্বয় রয়েছে। এটি এইচআইভি ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির বিভিন্ন ধাপকে একযোগে লক্ষ্যবস্তু করে। ফলে শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ভাইরোলজিক্যালি সাপ্রেসড’ হিসেবে পরিচিত।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, টানা ৪৮ সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে এক বার সেবনযোগ্য এই ট্যাবলেট রোগীদের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। বর্তমানে বাজারে থাকা প্রতিদিন সেবনযোগ্য জনপ্রিয় ওষুধগুলো শরীরকে যতটুকু সুরক্ষা দেয়, সপ্তাহে মাত্র একটি ট্যাবলেটও ঠিক ততটুকুই কার্যকর ও শক্তিশালী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিদিন নিয়ম করে ওষুধ সেবন করতে হয়। অনেক সময় ওষুধ খাওয়ার কথা ভুলে যাওয়া বা প্রতিদিন ওষুধ সেবনের কারণে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

গিলিয়াড সায়েন্সেসের কর্মকর্তা ড. জ্যারেড বেটেন বলেন, সপ্তাহে মাত্র এক বার ওষুধ সেবনের এই সুবিধা এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এটি তাদের জীবনযাত্রায় আরও বেশি স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

ওষুধটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ট্রায়ালের সব তথ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। অনুমোদন পেলে এটিই হবে এইচআইভি চিকিৎসায় বিশ্বের প্রথম সপ্তাহে এক বার সেবনযোগ্য ওষুধ। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ
প্রতীকী ছবি

নতুন পরীক্ষামূলক ওজন কমানোর ওষুধ ‘রেটাট্রুটাইড’ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদন পায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে এটি বিক্রি করা অবৈধ। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অনেক লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক আইন অমান্য করেই রোগীদের এই ওষুধ দিতে শুরু করেন।

রেটাট্রুটাইড এলি লিলি কোম্পানির তৈরি একটি ওষুধ। ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি ওজেম্পিক বা মাউঞ্জারোর চেয়েও দ্রুত এবং বেশি (প্রায় ২৮ শতাংশ) ওজন কমাতে সাহায্য করে।

সমস্যা হলো, এফডিএ এখনও যাচাই করে দেখেনি যে, ওষুধটি মানবদেহের জন্য কতটা নিরাপদ ও কার্যকর। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে এই ওষুধের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে এটি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।

চিকিৎসকদের মতে, ওষুধটি অনুমোদন পাবেই। তাই রোগীদের দ্রুত উপকার করার উদ্দেশ্যে তারা এখনই এটির পরামর্শ দিচ্ছেন।

অনেক ওষুধের দোকান ও ক্লিনিক এটিকে ‘গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য’ বলে লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করছে, যাতে আইন এড়িয়ে যাওয়া যায়। সঠিক নিয়ম ও তদারকি ছাড়া ইন্টারনেট বা অননুমোদিত ক্লিনিক থেকে এই ওষুধ কিনে ব্যবহার করায় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে এই ওষুধ-সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। 

ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই মারাত্মক বমি, তীব্র ডায়রিয়া, পেটে শক্ত চাকা তৈরি হওয়া এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা নিয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

এফডিএ এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মেডিকেল বোর্ড ইতোমধ্যে এই অবৈধ বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলি লিলি জানায়, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে এই ওষুধ বিক্রি করা বেআইনি। সূত্র: সিবিএস নিউজ

তামান্না রুপা/অমিয়/