দুনিয়ায় ভিক্ষুকের অভাব নেই। অনেকে তো পাসপোর্ট-ভিসা করেও বিদেশে গিয়ে ভিক্ষা করে। এমন দেশ রয়েছে যে দেশের রেমিটেন্সের বড় অংশ আসে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে। এমন আরও অনেক খবর চোখে পড়ে। এবার ভাইরাল গহনার মার্কেটে ভিক্ষা করে কোটিপতি এক ভিক্ষুক। তাকে আবার ধনকুবের ভিক্ষুক বলা হয়ে থাকে।
ভিক্ষা করে কোটি টাকার মালিক ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বাসিন্দা মাঙ্গিলাল। চাকা লাগানো কাঠের গাড়িতে বসে ভিক্ষা করেন এই প্রতিবন্ধী। তার রয়েছে তিনটি বাড়ি, অটো এবং একটি গাড়ি।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগের উদ্ধারকারী দল একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে সারাফা (সোনা-রুপো বিক্রির বাজার) এলাকা থেকে মাঙ্গিলালকে উদ্ধার করার পর। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।
সারাফা বাজার এলাকায় যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন তাদের প্রায় সকলেই মাঙ্গিলালকে চেনেন। কাঠের চাকা লাগানো গাড়িতে নিজেকে টেনে নিয়ে যান। পিঠে ঝোলানো ব্যাগ, হাতে জুতো। বহু বছর ধরে সোনার বাজারে ভিক্ষা করেন তিনি।
মাঙ্গিলাল নিজেকে অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করলেও কখনো কাউকে কিছু দিতে বাধ্য করতেন না। উচ্চস্বরে কথা বলতেন না। তিনি নীরবে মানুষের কাছে যেতেন। তার অক্ষমতা দেখেই লোকজন তাকে ভিক্ষা দিতেন।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মাঙ্গিলালের অক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সরকার ইতোমধ্যেই রেডক্রস সোসাইটির সহায়তায় তাকে একটি বাড়ি দিয়েছে। তিনি আলভাস এলাকার একটি আশ্রমে থাকতেন। তা সত্ত্বেও, তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য ভিক্ষা করেই চলেছেন।
উদ্ধারকারী দলের তদন্তে মাঙ্গিলালের সম্পদের যে বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যাায়, মাঙ্গিলাল মোট তিনটি পাকা বাড়ির মালিক। ভগত সিং নগরে একটি তিনতলা বাড়ি, শিবনগর এলাকায় প্রায় আরেকটি পাকা বাড়ি এবং আলওয়াস এলাকায় একটি বাড়ি। এই সম্পত্তির মূল্য বর্তমান বাজার দর অনুসারে কোটি কোটি টাকা।
এ ছাড়াও তার একটি প্রাইভেটকার রয়েছে। রয়েছে তিনটি অটোরিকশাও, যেগুলো তিনি ভাড়া দেন।
জিজ্ঞাসাবাদে মাঙ্গিলাল স্বীকার করেছেন, তিনি সোনার বাজারের বেশ কয়েকজনকে সুদের উপর টাকা ধার দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তিনি প্রতিদিন সোনার বাজারে যান কেবল ভিক্ষা করতেই নয়, সুদ আদায় করতেও।
মাঙ্গিলালের মতে, সুদ এবং ভিক্ষা থেকে তিনি প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন।
উদ্ধারকারী দলের নোডাল অফিসার দীনেশ মিশ্র বলেন, সারাফা এলাকা থেকে মাঙ্গিলালের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছিল যে, তার জীবনযাত্রা এবং কার্যকলাপ সন্দেহজনক। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভিক্ষা নির্মূল অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে উদ্ধার করে। সরকারের নির্দেশ অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রোগ্রাম অফিসার রজনীশ সিনহা বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে নেতিবাচক বার্তা পাঠায় এবং প্রকৃত অভাবীদের অধিকারের উপর প্রভাব ফেলে।
অমিয়/