ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ ঈশ্বরগঞ্জে অবৈধভাবে প্লাস্টিক পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে  ডিজেল জামায়াত কর্মীর কোমরে মিলল তিনটি বিদেশি পিস্তল ৫ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে: শুভেন্দু অধিকারী যন্ত্রের ছোঁয়ায় মাঠে নতুন সম্ভাবনা নোংরা পানিতে সয়লাব খুলনার প্রবেশদ্বার সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪ গুরুত্বপূর্ণ খনিজে চীনের আধিপত্য হাবিপ্রবির গবেষণায় ব্যাগিং পদ্ধতিতে লিচুর ক্ষতিরোধ সম্ভব দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি বরিশালে জনবল ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন বিচারিক প্রক্রিয়ার এটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লোডশেডিং ও বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজার পর্যটনে ধস খামেনির মৃত্যুর ১০০ দিন পার: যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান নিয়ে বাড়ছে নানা প্রশ্ন এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় সরকার, সোচ্চার শ্রমিক-কর্মচারীরা বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধিতে রডের দাম টনে বাড়তে পারে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার জীবনসংগ্রামে লোকগানের বরপুত্র অনিল হাজারিকা বাণিজ্য ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে চট্টগ্রামে শিক্ষকের ৮ হাজার পদ শূন্য সাক্ষাৎকার শেষ না করেই চলে গেলেন ট্রাম্প ১০ কার্যদিবস পর কমল সূচক, লেনদেনেও ভাটা বরিশাল বিভাগে কমেছে ইলিশের উৎপাদন ৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল শির উ. কোরিয়া সফরের নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চমৎকার ফুল ক্রোসান্দ্রা স্বাস্থ্য খাতে সংকট: বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় হয় না ৯ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
Nagad desktop

ভিক্ষা করে কোটিপতি, রয়েছে একাধিক বাড়ি-গাড়ি-সুদের ব্যবসা

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
ভিক্ষা করে কোটিপতি, রয়েছে একাধিক বাড়ি-গাড়ি-সুদের ব্যবসা
মাঙ্গিলাল। ছবি: সংগৃহীত

দুনিয়ায় ভিক্ষুকের অভাব নেই। অনেকে তো পাসপোর্ট-ভিসা করেও বিদেশে গিয়ে ভিক্ষা করে। এমন দেশ রয়েছে যে দেশের রেমিটেন্সের বড় অংশ আসে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে। এমন আরও অনেক খবর চোখে পড়ে। এবার ভাইরাল গহনার মার্কেটে ভিক্ষা করে কোটিপতি এক ভিক্ষুক। তাকে আবার ধনকুবের ভিক্ষুক বলা হয়ে থাকে।

ভিক্ষা করে কোটি টাকার মালিক ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বাসিন্দা মাঙ্গিলাল। চাকা লাগানো কাঠের গাড়িতে বসে ভিক্ষা করেন এই প্রতিবন্ধী। তার রয়েছে তিনটি বাড়ি, অটো এবং একটি গাড়ি।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগের উদ্ধারকারী দল একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে সারাফা (সোনা-রুপো বিক্রির বাজার) এলাকা থেকে মাঙ্গিলালকে উদ্ধার করার পর। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

সারাফা বাজার এলাকায় যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন তাদের প্রায় সকলেই মাঙ্গিলালকে চেনেন। কাঠের চাকা লাগানো গাড়িতে নিজেকে টেনে নিয়ে যান। পিঠে ঝোলানো ব্যাগ, হাতে জুতো। বহু বছর ধরে সোনার বাজারে ভিক্ষা করেন তিনি।

মাঙ্গিলাল নিজেকে অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করলেও কখনো কাউকে কিছু দিতে বাধ্য করতেন না। উচ্চস্বরে কথা বলতেন না। তিনি নীরবে মানুষের কাছে যেতেন। তার অক্ষমতা দেখেই লোকজন তাকে ভিক্ষা দিতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মাঙ্গিলালের অক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সরকার ইতোমধ্যেই রেডক্রস সোসাইটির সহায়তায় তাকে একটি বাড়ি দিয়েছে। তিনি আলভাস এলাকার একটি আশ্রমে থাকতেন। তা সত্ত্বেও, তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য ভিক্ষা করেই চলেছেন।

উদ্ধারকারী দলের তদন্তে মাঙ্গিলালের সম্পদের যে বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যাায়, মাঙ্গিলাল মোট তিনটি পাকা বাড়ির মালিক। ভগত সিং নগরে একটি তিনতলা বাড়ি, শিবনগর এলাকায় প্রায় আরেকটি পাকা বাড়ি এবং আলওয়াস এলাকায় একটি বাড়ি। এই সম্পত্তির মূল্য বর্তমান বাজার দর অনুসারে কোটি কোটি টাকা।

এ ছাড়াও তার একটি প্রাইভেটকার রয়েছে। রয়েছে তিনটি অটোরিকশাও, যেগুলো তিনি ভাড়া দেন। 

জিজ্ঞাসাবাদে মাঙ্গিলাল স্বীকার করেছেন, তিনি সোনার বাজারের বেশ কয়েকজনকে সুদের উপর টাকা ধার দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, তিনি প্রতিদিন সোনার বাজারে যান কেবল ভিক্ষা করতেই নয়, সুদ আদায় করতেও। 

মাঙ্গিলালের মতে, সুদ এবং ভিক্ষা থেকে তিনি প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন।

উদ্ধারকারী দলের নোডাল অফিসার দীনেশ মিশ্র বলেন, সারাফা এলাকা থেকে মাঙ্গিলালের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছিল যে, তার জীবনযাত্রা এবং কার্যকলাপ সন্দেহজনক। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভিক্ষা নির্মূল অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে উদ্ধার করে। সরকারের নির্দেশ অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রোগ্রাম অফিসার রজনীশ সিনহা বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে নেতিবাচক বার্তা পাঠায় এবং প্রকৃত অভাবীদের অধিকারের উপর প্রভাব ফেলে।

অমিয়/

হাজার বছরের রহস্য, উত্তর মিলল পায়রার যকৃতে!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
হাজার বছরের রহস্য, উত্তর মিলল পায়রার যকৃতে!
ছবি: সংগৃহীত

এক আশ্চর্যজনক সহজাত অনুভূতি পায়রাদের বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

প্রাণীরা দিকনির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। কেউ নক্ষত্র অনুসরণ করে, কেউ গুরুত্বপূর্ণ স্থানচিহ্ন মনে রাখে। পাখি, মাছ ও কচ্ছপ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে এক ধরনের কম্পাস হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান ও দিক নির্ধারণ করে। তবে তারা ঠিক কীভাবে এটি করে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

পায়রা এমন একটি সুপরিচিত পাখি, যা এক দিনে শত শত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ সংবাদ, বার্তা ও সামরিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এদের ব্যবহার করে আসছেন।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন যে, পায়রা কীভাবে পথ না হারিয়ে নির্ভুলভাবে চলাচল করে। কেউ মনে করেন, তাদের চোখের আলোক-সংবেদনশীল অণুগুলো চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। আবার অন্যদের মতে, এই প্রক্রিয়া ঘটে ঠোঁট বা অন্তঃকর্ণে।

জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিমেল বিহেভিয়রের গবেষক মার্টিন উইকেলস্কি বলেছেন, ‘চৌম্বকীয় অনুভূতি প্রায় ১০০ বছর ধরে একটি রহস্য হয়ে রয়েছে’।

নতুন এক গবেষণায় উইকেলস্কি ও তার সহকর্মীরা পায়রার দিকনির্ণয়ের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেন। তারা পাখিটির শরীরে চৌম্বকীয় সংকেতের উৎস খুঁজতে গিয়ে একটি অপ্রত্যাশিত স্থানে- যকৃতে শক্তিশালী সংকেতের সন্ধান পান।

গবেষকদের মতে, পায়রার যকৃতে থাকা বিশেষায়িত রোগপ্রতিরোধী কোষ লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে ফেলে এবং লোহা সঞ্চয় করে।

জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিশ্চিয়ান কার্টস জানান, বিজ্ঞানীরা যখন সাময়িকভাবে ওই কোষগুলো নিষ্ক্রিয় করে পায়রাগুলোকে উড়তে দেন, তখন তারা কার্যত পথ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।

কার্টস বলেন, ‘পাখিগুলো কোনোভাবেই পথ খুঁজে পাচ্ছিল না’।

এ পর্যবেক্ষণ থেকে গবেষকদের ধারণা, লোহাসমৃদ্ধ যকৃতের এসব কোষ পায়রার দিকনির্ণয় ক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তবে পাখিদের এই চৌম্বকীয় কম্পাস সব সময় সমানভাবে কাজ করে না। মেঘলা দিনে তা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। 

গবেষকদের মতে, এর কারণ হলো পাখিরা দিকনির্ণয়ের জন্য সূর্যের অবস্থানকেও ব্যবহার করে।

বিজ্ঞানীরা আগেও ধারণা করেছিলেন যে, রোগপ্রতিরোধী কোষ চৌম্বকীয় সংবেদনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণাটি এ বিষয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব উপস্থাপন করেছে।

গবেষণায় অংশ না নেওয়া ম্যাসাচুসেটস বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণগত বাস্তুবিদ আলবার্ট কাও বলেন, ‘আমি কখনোই এটি অনুমান করতে পারতাম না। কিন্তু ব্যাখ্যাটি শোনার পর তা যথেষ্ট যৌক্তিক মনে হয়েছে।’

গবেষকদের মতে, যকৃতের এসব রোগপ্রতিরোধী কোষ স্নায়ুতন্তুর খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। বন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-লেখক ক্লিভিয়া লিসোস্কি বলেন, ‘‘সম্ভবত এভাবেই তারা তাদের ‘চৌম্বকীয় অনুভূতি’ মস্তিষ্কে প্রেরণ করে এবং পায়রাদের দিকনির্ণয়ে সহায়তা করে”।

গবেষকরা মনে করছেন, পাখি ছাড়াও ইঁদুরের মতো অন্যান্য প্রাণীও একই ধরনের চৌম্বকীয় ‘জিপিএস’ ব্যবহার করতে পারে। 

তবে বাইরের বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়রারা সত্যিই এভাবেই দিকনির্ণয় করে কি না এবং সংকেতগুলো কীভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষণায় পায়রার যকৃতে সবচেয়ে শক্তিশালী চৌম্বকীয় সংকেত পাওয়া গেলেও একই ধরনের রোগপ্রতিরোধী কোষ ঠোঁট, প্লীহাসহ শরীরের অন্যান্য অংশেও রয়েছে।

পশুচিকিৎসাবিষয়ক রোগ বিশেষজ্ঞ সাইমন স্পিরো এবং জীববিজ্ঞানী হ্যাল ড্রেকস্মিথ এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে লিখেছেন, এই চৌম্বকীয় ধাঁধার সম্ভবত একক কোনো উত্তর নেই। 

তাদের মতে, পাখিরা কাজের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন পদ্ধতিতে চৌম্বক ক্ষেত্র শনাক্ত করতে পারে- সেটি দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ হোক কিংবা নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য খুঁজে বের করার প্রয়োজন হোক।

তারা লিখেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, অন্ধকারে বাড়ি ফেরার একাধিক উপায় থাকা বিচক্ষণতার পরিচায়ক হতে পারে’। সূত্র: এপি

অমিয়/

বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

রি-ইমাজিন’ বা ‘নতুন করে ভাবো’–প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ৮ জুন বাংলাদেশেও পালিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব সমুদ্র দিবস-২০২৬। বৈশ্বিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি সমুদ্রের সুরক্ষায় এবার মানুষের সঙ্গে সাগরের বিদ্যমান সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে– ‘নতুন করে ভাবো: আমাদের চেনা জগতের বাইরে, সমুদ্রের সঙ্গে এক নতুন সম্পর্ক।’ 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালের শুরুতেই আন্তর্জাতিক জলসীমার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঐতিহাসিক ‘হাই সিস ট্রিটি’ (বিবিএনজে চুক্তি) কার্যকর হওয়ার পর এবারের সমুদ্র দিবসটি বিশ্বজুড়ে বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, দীর্ঘ সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটারের বেশি উপকূলরেখা থাকা এই অঞ্চলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলছে মৌসুমি বায়ু ও কৃষিতে। ক্রমাগত বাড়ছে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রকোপ, যা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

দিবসটি উদযাপনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক র‌্যালি, সেমিনার, সমুদ্র উপকূল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও শিশুদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা।

১৯৯২ সালে রিও ডি জেনিরোতে ধরিত্রী সম্মেলনে প্রথম সমুদ্র দিবসের প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তী সময়, ২০০৮ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ জুনকে ‘বিশ্ব সমুদ্র দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল
ছবি: সংগৃহীত

আজকের দিনে তিন বা চার সদস্যের নিউক্লিয়ার পরিবার সামলাতেই অনেকের নাভিশ্বাস ওঠে। সেখানে এক ছাদের নীচে প্রায় ২০০ জন সদস্যের বসবাস- শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই বাস্তব। মিজোরামের বখতাওং গ্রামের ‘চানা পরিবার’ দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের বৃহত্তম যৌথ পরিবার হিসেবে পরিচিত। পরিবারের কর্তা জিওনা চানা ২০২১ সালের ১৩ জুন ৭৬ বছর বয়সে মারা গেলেও তার গড়ে তোলা বিশাল পরিবার আজও একই ছাদের নিচে বসবাস করছে।

৩৯ স্ত্রী, ৯৪ সন্তান- বিশ্বজোড়া পরিচিতি

জিওনা চানা মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার প্রথম স্ত্রী জাথিয়াঙ্গিকে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মোট ৩৯টি বিয়ে করেন এবং ৯৪ সন্তানের জনক হন। মৃত্যুর সময় তার পরিবারে ৩৮ জন জীবিত স্ত্রী, ৮৯-৯৪ জন সন্তান এবং বহু নাতি-নাতনি ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ১৮০ থেকে ২০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা যায়।

‘নিউ জেনারেশন হোম’- এক বিশাল পারিবারিক সাম্রাজ্য

চানা পরিবারের বাসভবনের নাম ‘ছুয়ান থার রান’, যার অর্থ ‘নতুন প্রজন্মের বাড়ি’। চারতলা এই বিশাল ভবনে রয়েছে শতাধিক ঘর। পরিবারের সদস্যরা আলাদা কক্ষে থাকলেও রান্নাঘর, খাবার ব্যবস্থা এবং বহু দৈনন্দিন কাজ যৌথভাবে পরিচালিত হয়। বাড়িটির মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি কিচেন, কর্মশালা, কৃষিকাজের পরিকাঠামো এবং অতিথিদের থাকার ব্যবস্থাও।

সংসার পরিচালনা যেন কর্পোরেট ম্যানেজমেন্ট

এত বড় পরিবারের দৈনন্দিন পরিচালনা অনেকের মতে একটি মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার সমতুল্য। পরিবারের প্রথম স্ত্রী জাথিয়াঙ্গি দীর্ঘদিন ধরে গৃহপরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করছেন। কে রান্না করবেন, কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করবেন, কে কৃষিকাজ বা অন্যান্য উৎপাদনমূলক কাজে যুক্ত থাকবেন- সবই নির্দিষ্ট নিয়মে ভাগ করা থাকে।

প্রতিদিনের রান্না শুনলে অবাক হবেন

পরিবারের সদস্যসংখ্যার কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী প্রয়োজন হয়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিদিন ৯০ কেজি চালের ভাত, আলু, ডাল ও সবজি রান্না হয়। মাংসের দিনগুলিতে কয়েক ডজন মুরগি রান্না করা হয়। বিশাল অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে কাঠের উনুনে রান্না করেন পরিবারের নারীরা।

শুধু পরিবারপ্রধান নন, ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতাও

জিওনা চানা ছিলেন লালপা কোহরান থার নামে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রধান। ১৯৪২ সালে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত এই গোষ্ঠী বহুবিবাহকে অনুমোদন করে এবং বর্তমানে এর সদস্যসংখ্যা কয়েক হাজার বলে অনুমান করা হয়। 

চানা সম্প্রদায়ের সদস্যরা কৃষিকাজ, ছুতোরের কাজ, কুটিরশিল্পসহ নানা উৎপাদনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্বনির্ভর জীবনযাপন করেন।

পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র

চানা পরিবারের অনন্য জীবনযাত্রা বহু বছর ধরেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কৌতূহলের বিষয়। মিজোরামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে তাদের বাড়ি। বিশ্বের বৃহত্তম যৌথ পরিবারের জীবনযাপন কাছ থেকে দেখার জন্য এখনও বহু মানুষ বখতাওং গ্রামে যান।

জিওনা চানা আজ নেই, কিন্তু তার গড়ে তোলা পরিবার আধুনিক নিউক্লিয়ার পরিবারের যুগে যৌথ পারিবারিক ব্যবস্থার এক বিরল ও বিস্ময়কর উদাহরণ হিসেবে আজও বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয়।

গাড়ির দরজা খুলতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
গাড়ির দরজা খুলতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর
ভিডিও থেকে

রাস্তায় চলাচলের সময় অসতর্কভাবে গাড়ির দরজা খোলার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদে এমনই একটি ঘটনা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে।

রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি গাড়ির দরজা হঠাৎ খুলে দেওয়ায় সেটিতে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি মোটরসাইকেল। এতে একজন নিহত এবং অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গাড়ি রাস্তার পাশে পার্ক করা। গাড়ির চালক আশপাশের যানবাহনের গতিবিধি না দেখেই হঠাৎ দরজা খুলে দেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল দরজাটিতে সজোরে আঘাত করে। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী দুজনই কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়েন। 

ভিডিওতে দেখা যায়, চালকের মাথায় হেলমেট থাকলেও পেছনে বসা আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল না; তিনি পাগড়ি পরিহিত ছিলেন। দুর্ঘটনায় পেছনের আরোহী গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।

জানা যায়, আহত মোটরসাইকেল চালককে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

সিসিটিভিতে ধারণ হওয়া ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নেটিজেনদের একাংশের মতে, গাড়িচালকের অসতর্কতা এবং রাস্তার পরিস্থিতি যাচাই না করেই দরজা খোলার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। 

অন্যদিকে, কেউ কেউ মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত গতিকেও দায়ী করছেন।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণ করা হবে। 

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির দরজা খোলার আগে রিয়ার ভিউ মিরর ও পাশের আয়নায় দেখে পেছনের পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অনেক দেশে এ জন্য ‘ডাচ রিচ’ পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়, যেখানে চালক বা যাত্রী বিপরীত হাত দিয়ে দরজা খোলেন; এতে স্বাভাবিকভাবেই শরীর ঘুরে পেছনের রাস্তা দেখার সুযোগ তৈরি হয়। 

এ ছাড়া মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। 

বিশেষজ্ঞরা রাস্তার পাশে পার্ক করা যানবাহনের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল ও সাইকেল চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

অমিয়/

আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই দাঁতের চিকিৎসা ফ্রি!

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই দাঁতের চিকিৎসা ফ্রি!
ডা. শরীফ হোসাইন/ ছবি: সংগৃহীত

ফুটবলপ্রেমী আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও দন্ত চিকিৎসায় বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল সার্জন ডা. শরীফ হোসাইন।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন।

ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনার জার্সি পরে অথবা নিজেকে দলটির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে আসা রোগীরা বিনা ভিজিটে দাঁত ও মুখ গহ্বরের বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা পরামর্শ নিতে পারবেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দন্ত চিকিৎসা সেবায়ও বিশেষ ছাড় পাবেন তারা।

এ বিষয়ে ডা. শরীফ হোসাইন বলেন, ‌‘ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছি। শুধু আর্জেন্টিনার খেলার দিন এই সুবিধাটুকু দেওয়া হবে।’

একজন চিকিৎসকের এমন অভিনব উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

আমান/