ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স কি আসলেই বাতিল হচ্ছে? যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের লাল বাহাদুর দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিল শিবিরে ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার চায়নিজ জামাই চাকরি দেবে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি গুগল এআই প্রো নিয়ে এল টেকনো ব্রাজিলিয়ানদের সুখবর দিলেন নেইমার রংপুরে ওয়ার্ডভিত্তিক অপরাধচক্র শনাক্তের নির্দেশ আরপিএমপির ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের লিফলেট তৈরির সময় আটক ২ দেশের ১৬ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস পড়ে পাওয়া গল্প থেকে ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে দিনাজপুরে বেড়ার হোটেলে নিম্নমানের খাবারসহ একাধিক অভিযোগ ইরানে হামলা চালালে একাই লড়তে হবে: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু বিশ্বকাপ নিয়ে অনারের ক্যাম্পেইন, ফোন-ট্যাবলেটসহ পুরস্কার জেতার সুযোগ বিশ্বকাপের আগে জয়ের ধারায় ফিরল স্পেন ইরান ও হিজবুল্লাহ আগের চেয়েও দুর্বল: নেতানিয়াহু বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস আজ
Nagad desktop

মানসিক রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
মানসিক রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন
প্রতীকী ছবি

মানসিক রোগ ও মাদকাসক্তি নির্ণয়ের সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যম হলো ডায়াগনস্টিক ইন্টারভিউ বা রোগ নির্ণয়ের সাক্ষাৎকার। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, বাইপোলার বা পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারের মতো জটিল রোগগুলো সাধারণত এই পদ্ধতির মাধ্যমেই চিহ্নিত করা হয়। তবে জামা নেটওয়ার্ক ওপেন জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা বলছে, রোগভেদে এই সাক্ষাৎকারগুলোর নির্ভরযোগ্যতায় বেশ তারতম্য রয়েছে।

কানাডার ওন্টারিওর ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক ও এই গবেষণার অন্যতম লেখক লরা ডানকান বলেন, ক্লিনিক্যাল ক্ষেত্র এবং গবেষণা—উভয় জায়গাতেই এই ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকারগুলোকে মানসিক রোগ মূল্যায়নের ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ বা স্বর্ণমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন, চমৎকার বৈধতা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে এই সাক্ষাৎকারগুলো একটি ‘চূড়ান্ত মানদণ্ড’ বা ডেফিনিটিভ বেঞ্চমার্ক দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই সাক্ষাৎকারগুলোর নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ দীর্ঘদিন ধরেই মিশ্র। তা সত্ত্বেও ডানকান বলেন, ‘উন্নত কোনো বিকল্প না থাকার কারণেই সম্ভবত এগুলোকে এখনো সেরা লভ্য পদ্ধতি হিসেবে ব্যাপকভাবে দেখা হয়।’ এই পর্যালোচনা সমীক্ষায় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্যালোচনা করা ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকারগুলোর ‘টেস্ট-রিস্টেস্ট রিলায়্যাবিলিটি’ বা পুনঃপরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণগুলো একসঙ্গে আনা হয়েছে।

বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিতে ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকারগুলো কতটা নির্ভরযোগ্য, তা অনুমান করতে গবেষকরা ‘কোহেনস কাপ্পা কোফিসিয়েন্ট’ ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে তারা দেখতে চেয়েছেন, একই ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকার দুবার নেওয়া হলে রোগীরা কতবার একই রোগ নির্ণয়ের ফল পান। এতে আকস্মিক বা ভাগ্যের জোরে মিলে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

দেখা গেছে, মাদক ব্যবহারের ব্যাধির (সাবস্ট্যান্স ইউজ ডিজঅর্ডার) ক্ষেত্রে গড় নির্ভরযোগ্যতা সাধারণত ভালো ছিল। এর মধ্যে ওপিওড ব্যবহারের ব্যাধির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা ছিল সবচেয়ে বেশি। ডানকান জানান, এর কারণ হলো মাদক ব্যবহারের ব্যাধির মানদণ্ডগুলো মূলত আচরণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। উদাহরণস্বরূপ, আপনি এক সপ্তাহে কতবার বিষণ্ন বা উদ্বিগ্ন বোধ করেছেন, তার চেয়ে আপনি সপ্তাহে কতবার মদ্যপান করেছেন—তা হিসাব করা অনেক সহজ।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক ও ‘স্ট্রাকচার্ড ক্লিনিক্যাল ইন্টারভিউ ফর ডিএসএম ৫’-এর রচয়িতা ড. মাইকেল ফার্স্ট এই গবেষণার কিছু উপাদান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি একমত হয়েছেন, ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকারগুলোর নির্ভরযোগ্যতায় তারতম্য থাকে ও এগুলো প্রায়শই মানুষকে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়। তবে কোন নির্দিষ্ট সরঞ্জামগুলো সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য, সে সম্পর্কে আরও তথ্য দেখতে চেয়েছিলেন তিনি।

ড. ফার্স্ট বলেন, এই গবেষণাপত্রটি দেখে যদি বলা যেত—‘ওহ, এই পেপারের ওপর ভিত্তি করে এ কারণে আমার এটি বেছে নেওয়া উচিত’, তবে সেটি এ ক্ষেত্রের জন্য একটি প্রকৃত সেবা হতো। তিনি আরও যোগ করেন, ‘কিন্তু এখানে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।’ এর জবাবে ডানকান বলেন, ‘গবেষণার সময়কালে যে সীমিত পরিমাণ প্রাসঙ্গিক গবেষণা পাওয়া গিয়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।’

এই পর্যালোচনায় এসসিআইডি এবং মিনি ইন্টারন্যাশনাল নিউরোসাইকিয়াট্রিক ইন্টারভিউর মতো ডায়াগনস্টিক টুলের গবেষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পরীক্ষা করে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট রোগের জন্য তৈরি টুল, যেমন ক্লিনিক্যালি অ্যাডমিনিস্টার্ড পিটিএসডি স্কেলও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ড. ফার্স্ট এই গবেষণায় ‘সম্পূর্ণ কাঠামোগত’ (ফুললি স্ট্রাকচার্ড) এবং ‘অর্ধ-কাঠামোগত’ (সেমি-স্ট্রাকচার্ড) সাক্ষাৎকারগুলোকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সম্পূর্ণ কাঠামোগত সাক্ষাৎকারগুলোর ক্ষেত্রে একাধিকবার একই ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, ‘কারণ আপনি স্ক্রিপ্ট বা নির্ধারিত খসড়া কঠোরভাবে মেনে চলেন ও এটি থেকে মোটেও বিচ্যুত হতে পারেন না।’

ফার্স্ট বলেন, ‘ব্যক্তি যদি কোনো পরস্পরবিরোধী কথাও বলেন, তবুও আপনি সেটি ধরিয়ে দেওয়ার অনুমতি পাবেন না।’ এই ধরনের সাক্ষাৎকার সাধারণত বিশাল জনসংখ্যার ওপর মহামারিসংক্রান্ত (এপিডেমিওলজিক্যাল) গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই খুব কম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যেন এটি পরিচালনা করতে পারেন, সেভাবেই এটি ডিজাইন করা হয়।

অন্যদিকে, অর্ধ-কাঠামোগত সাক্ষাৎকারগুলো তৈরি করা হয় প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের রোগীদের রোগ নির্ণয় করার জন্য। ফার্স্ট বলেন, এই পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের ‘প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব প্রশ্ন করার’ স্বাধীনতা থাকে। এর মানে হলো, রোগীর উত্তর যদি অস্পষ্ট বা পরস্পরবিরোধী হয়, তবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বিষয়টি পরিষ্কার করতে ফলো-আপ প্রশ্ন করতে পারেন। এতে আরও সঠিক রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়, তবে সেশন থেকে সেশনে রোগীর উত্তরের মধ্যেও তারতম্য আসতে পারে।

ডানকান অবশ্য উল্লেখ করেছেন, ফার্স্টের সব উদ্বেগ মোকাবিলা করা দরকারি হলেও এর জন্য যে ডেটা প্রয়োজন, তা এখনো উপলব্ধ নয়। অন্তর্ভুক্ত পেপারগুলো থেকে তারা সাক্ষাৎকারের বিন্যাস বা ফরম্যাটের তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ডানকান বলেন, ‘এটি প্রায়শই অস্পষ্ট ছিল বা প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল না।’ সাক্ষাৎকার ডিজাইনের একের সঙ্গে অপরের তুলনা করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের এই অভাবটি মনোরোগের রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোরতা বা সূক্ষ্মতার প্রয়োজনীয়তারই আরেকটি লক্ষণ।

নিজে এই কাঠামোগত সাক্ষাৎকারগুলো ডিজাইনে সাহায্য করলেও ফার্স্ট অকপটে স্বীকার করেন যে এগুলো আদর্শ কোনো হাতিয়ার নয়। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, একদিন মানসিক অবস্থার জন্য আরও বস্তুনিষ্ঠ ল্যাবরেটরি পরীক্ষা উপলব্ধ হবে।

ফার্স্ট বলেন, ‘আমরা ৫০ বছর ধরে এই কথা বলে আসছি।’ ডানকান অবশ্য একটি বিকল্প ভবিষ্যৎ পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে চিকিৎসকরা ‘কঠোর রোগ নির্ণয়ের বিভাগ–যেখানে একটি রোগ হয় আছে নয়তো নেই–তা থেকে সরে আসবেন ও লক্ষণগুলোকে একটি স্পেকট্রাম বা ধারাবাহিকতার মধ্যে রেখে চিন্তা করবেন।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ
প্রতীকী ছবি

নতুন পরীক্ষামূলক ওজন কমানোর ওষুধ ‘রেটাট্রুটাইড’ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদন পায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে এটি বিক্রি করা অবৈধ। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অনেক লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক আইন অমান্য করেই রোগীদের এই ওষুধ দিতে শুরু করেন।

রেটাট্রুটাইড এলি লিলি কোম্পানির তৈরি একটি ওষুধ। ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি ওজেম্পিক বা মাউঞ্জারোর চেয়েও দ্রুত এবং বেশি (প্রায় ২৮ শতাংশ) ওজন কমাতে সাহায্য করে।

সমস্যা হলো, এফডিএ এখনও যাচাই করে দেখেনি যে, ওষুধটি মানবদেহের জন্য কতটা নিরাপদ ও কার্যকর। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে এই ওষুধের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে এটি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।

চিকিৎসকদের মতে, ওষুধটি অনুমোদন পাবেই। তাই রোগীদের দ্রুত উপকার করার উদ্দেশ্যে তারা এখনই এটির পরামর্শ দিচ্ছেন।

অনেক ওষুধের দোকান ও ক্লিনিক এটিকে ‘গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য’ বলে লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করছে, যাতে আইন এড়িয়ে যাওয়া যায়। সঠিক নিয়ম ও তদারকি ছাড়া ইন্টারনেট বা অননুমোদিত ক্লিনিক থেকে এই ওষুধ কিনে ব্যবহার করায় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে এই ওষুধ-সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। 

ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই মারাত্মক বমি, তীব্র ডায়রিয়া, পেটে শক্ত চাকা তৈরি হওয়া এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা নিয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

এফডিএ এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মেডিকেল বোর্ড ইতোমধ্যে এই অবৈধ বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলি লিলি জানায়, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে এই ওষুধ বিক্রি করা বেআইনি। সূত্র: সিবিএস নিউজ

তামান্না রুপা/অমিয়/

মানসিক রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
মানসিক রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন
প্রতীকী ছবি

মানসিক রোগ ও মাদকাসক্তি নির্ণয়ের সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যম হলো ডায়াগনস্টিক ইন্টারভিউ বা রোগ নির্ণয়ের সাক্ষাৎকার। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, বাইপোলার বা পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারের মতো জটিল রোগগুলো সাধারণত এই পদ্ধতির মাধ্যমেই চিহ্নিত করা হয়। তবে জামা নেটওয়ার্ক ওপেন জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা বলছে, রোগভেদে এই সাক্ষাৎকারগুলোর নির্ভরযোগ্যতায় বেশ তারতম্য রয়েছে।

কানাডার ওন্টারিওর ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক ও এই গবেষণার অন্যতম লেখক লরা ডানকান বলেন, ক্লিনিক্যাল ক্ষেত্র এবং গবেষণা—উভয় জায়গাতেই এই ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকারগুলোকে মানসিক রোগ মূল্যায়নের ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ বা স্বর্ণমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন, চমৎকার বৈধতা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে এই সাক্ষাৎকারগুলো একটি ‘চূড়ান্ত মানদণ্ড’ বা ডেফিনিটিভ বেঞ্চমার্ক দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই সাক্ষাৎকারগুলোর নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ দীর্ঘদিন ধরেই মিশ্র। তা সত্ত্বেও ডানকান বলেন, ‘উন্নত কোনো বিকল্প না থাকার কারণেই সম্ভবত এগুলোকে এখনো সেরা লভ্য পদ্ধতি হিসেবে ব্যাপকভাবে দেখা হয়।’ এই পর্যালোচনা সমীক্ষায় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্যালোচনা করা ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকারগুলোর ‘টেস্ট-রিস্টেস্ট রিলায়্যাবিলিটি’ বা পুনঃপরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণগুলো একসঙ্গে আনা হয়েছে।

বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিতে ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকারগুলো কতটা নির্ভরযোগ্য, তা অনুমান করতে গবেষকরা ‘কোহেনস কাপ্পা কোফিসিয়েন্ট’ ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে তারা দেখতে চেয়েছেন, একই ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকার দুবার নেওয়া হলে রোগীরা কতবার একই রোগ নির্ণয়ের ফল পান। এতে আকস্মিক বা ভাগ্যের জোরে মিলে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

দেখা গেছে, মাদক ব্যবহারের ব্যাধির (সাবস্ট্যান্স ইউজ ডিজঅর্ডার) ক্ষেত্রে গড় নির্ভরযোগ্যতা সাধারণত ভালো ছিল। এর মধ্যে ওপিওড ব্যবহারের ব্যাধির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা ছিল সবচেয়ে বেশি। ডানকান জানান, এর কারণ হলো মাদক ব্যবহারের ব্যাধির মানদণ্ডগুলো মূলত আচরণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। উদাহরণস্বরূপ, আপনি এক সপ্তাহে কতবার বিষণ্ন বা উদ্বিগ্ন বোধ করেছেন, তার চেয়ে আপনি সপ্তাহে কতবার মদ্যপান করেছেন—তা হিসাব করা অনেক সহজ।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক ও ‘স্ট্রাকচার্ড ক্লিনিক্যাল ইন্টারভিউ ফর ডিএসএম ৫’-এর রচয়িতা ড. মাইকেল ফার্স্ট এই গবেষণার কিছু উপাদান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি একমত হয়েছেন, ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকারগুলোর নির্ভরযোগ্যতায় তারতম্য থাকে ও এগুলো প্রায়শই মানুষকে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়। তবে কোন নির্দিষ্ট সরঞ্জামগুলো সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য, সে সম্পর্কে আরও তথ্য দেখতে চেয়েছিলেন তিনি।

ড. ফার্স্ট বলেন, এই গবেষণাপত্রটি দেখে যদি বলা যেত—‘ওহ, এই পেপারের ওপর ভিত্তি করে এ কারণে আমার এটি বেছে নেওয়া উচিত’, তবে সেটি এ ক্ষেত্রের জন্য একটি প্রকৃত সেবা হতো। তিনি আরও যোগ করেন, ‘কিন্তু এখানে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।’ এর জবাবে ডানকান বলেন, ‘গবেষণার সময়কালে যে সীমিত পরিমাণ প্রাসঙ্গিক গবেষণা পাওয়া গিয়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।’

এই পর্যালোচনায় এসসিআইডি এবং মিনি ইন্টারন্যাশনাল নিউরোসাইকিয়াট্রিক ইন্টারভিউর মতো ডায়াগনস্টিক টুলের গবেষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পরীক্ষা করে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট রোগের জন্য তৈরি টুল, যেমন ক্লিনিক্যালি অ্যাডমিনিস্টার্ড পিটিএসডি স্কেলও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ড. ফার্স্ট এই গবেষণায় ‘সম্পূর্ণ কাঠামোগত’ (ফুললি স্ট্রাকচার্ড) এবং ‘অর্ধ-কাঠামোগত’ (সেমি-স্ট্রাকচার্ড) সাক্ষাৎকারগুলোকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সম্পূর্ণ কাঠামোগত সাক্ষাৎকারগুলোর ক্ষেত্রে একাধিকবার একই ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, ‘কারণ আপনি স্ক্রিপ্ট বা নির্ধারিত খসড়া কঠোরভাবে মেনে চলেন ও এটি থেকে মোটেও বিচ্যুত হতে পারেন না।’

ফার্স্ট বলেন, ‘ব্যক্তি যদি কোনো পরস্পরবিরোধী কথাও বলেন, তবুও আপনি সেটি ধরিয়ে দেওয়ার অনুমতি পাবেন না।’ এই ধরনের সাক্ষাৎকার সাধারণত বিশাল জনসংখ্যার ওপর মহামারিসংক্রান্ত (এপিডেমিওলজিক্যাল) গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই খুব কম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যেন এটি পরিচালনা করতে পারেন, সেভাবেই এটি ডিজাইন করা হয়।

অন্যদিকে, অর্ধ-কাঠামোগত সাক্ষাৎকারগুলো তৈরি করা হয় প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের রোগীদের রোগ নির্ণয় করার জন্য। ফার্স্ট বলেন, এই পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের ‘প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব প্রশ্ন করার’ স্বাধীনতা থাকে। এর মানে হলো, রোগীর উত্তর যদি অস্পষ্ট বা পরস্পরবিরোধী হয়, তবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বিষয়টি পরিষ্কার করতে ফলো-আপ প্রশ্ন করতে পারেন। এতে আরও সঠিক রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়, তবে সেশন থেকে সেশনে রোগীর উত্তরের মধ্যেও তারতম্য আসতে পারে।

ডানকান অবশ্য উল্লেখ করেছেন, ফার্স্টের সব উদ্বেগ মোকাবিলা করা দরকারি হলেও এর জন্য যে ডেটা প্রয়োজন, তা এখনো উপলব্ধ নয়। অন্তর্ভুক্ত পেপারগুলো থেকে তারা সাক্ষাৎকারের বিন্যাস বা ফরম্যাটের তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ডানকান বলেন, ‘এটি প্রায়শই অস্পষ্ট ছিল বা প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল না।’ সাক্ষাৎকার ডিজাইনের একের সঙ্গে অপরের তুলনা করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের এই অভাবটি মনোরোগের রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোরতা বা সূক্ষ্মতার প্রয়োজনীয়তারই আরেকটি লক্ষণ।

নিজে এই কাঠামোগত সাক্ষাৎকারগুলো ডিজাইনে সাহায্য করলেও ফার্স্ট অকপটে স্বীকার করেন যে এগুলো আদর্শ কোনো হাতিয়ার নয়। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, একদিন মানসিক অবস্থার জন্য আরও বস্তুনিষ্ঠ ল্যাবরেটরি পরীক্ষা উপলব্ধ হবে।

ফার্স্ট বলেন, ‘আমরা ৫০ বছর ধরে এই কথা বলে আসছি।’ ডানকান অবশ্য একটি বিকল্প ভবিষ্যৎ পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে চিকিৎসকরা ‘কঠোর রোগ নির্ণয়ের বিভাগ–যেখানে একটি রোগ হয় আছে নয়তো নেই–তা থেকে সরে আসবেন ও লক্ষণগুলোকে একটি স্পেকট্রাম বা ধারাবাহিকতার মধ্যে রেখে চিন্তা করবেন।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

হাজার বছরের রহস্য, উত্তর মিলল পায়রার যকৃতে!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
হাজার বছরের রহস্য, উত্তর মিলল পায়রার যকৃতে!
ছবি: সংগৃহীত

এক আশ্চর্যজনক সহজাত অনুভূতি পায়রাদের বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

প্রাণীরা দিকনির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। কেউ নক্ষত্র অনুসরণ করে, কেউ গুরুত্বপূর্ণ স্থানচিহ্ন মনে রাখে। পাখি, মাছ ও কচ্ছপ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে এক ধরনের কম্পাস হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান ও দিক নির্ধারণ করে। তবে তারা ঠিক কীভাবে এটি করে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

পায়রা এমন একটি সুপরিচিত পাখি, যা এক দিনে শত শত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ সংবাদ, বার্তা ও সামরিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এদের ব্যবহার করে আসছেন।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন যে, পায়রা কীভাবে পথ না হারিয়ে নির্ভুলভাবে চলাচল করে। কেউ মনে করেন, তাদের চোখের আলোক-সংবেদনশীল অণুগুলো চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। আবার অন্যদের মতে, এই প্রক্রিয়া ঘটে ঠোঁট বা অন্তঃকর্ণে।

জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিমেল বিহেভিয়রের গবেষক মার্টিন উইকেলস্কি বলেছেন, ‘চৌম্বকীয় অনুভূতি প্রায় ১০০ বছর ধরে একটি রহস্য হয়ে রয়েছে’।

নতুন এক গবেষণায় উইকেলস্কি ও তার সহকর্মীরা পায়রার দিকনির্ণয়ের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেন। তারা পাখিটির শরীরে চৌম্বকীয় সংকেতের উৎস খুঁজতে গিয়ে একটি অপ্রত্যাশিত স্থানে- যকৃতে শক্তিশালী সংকেতের সন্ধান পান।

গবেষকদের মতে, পায়রার যকৃতে থাকা বিশেষায়িত রোগপ্রতিরোধী কোষ লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে ফেলে এবং লোহা সঞ্চয় করে।

জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিশ্চিয়ান কার্টস জানান, বিজ্ঞানীরা যখন সাময়িকভাবে ওই কোষগুলো নিষ্ক্রিয় করে পায়রাগুলোকে উড়তে দেন, তখন তারা কার্যত পথ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।

কার্টস বলেন, ‘পাখিগুলো কোনোভাবেই পথ খুঁজে পাচ্ছিল না’।

এ পর্যবেক্ষণ থেকে গবেষকদের ধারণা, লোহাসমৃদ্ধ যকৃতের এসব কোষ পায়রার দিকনির্ণয় ক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তবে পাখিদের এই চৌম্বকীয় কম্পাস সব সময় সমানভাবে কাজ করে না। মেঘলা দিনে তা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। 

গবেষকদের মতে, এর কারণ হলো পাখিরা দিকনির্ণয়ের জন্য সূর্যের অবস্থানকেও ব্যবহার করে।

বিজ্ঞানীরা আগেও ধারণা করেছিলেন যে, রোগপ্রতিরোধী কোষ চৌম্বকীয় সংবেদনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণাটি এ বিষয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব উপস্থাপন করেছে।

গবেষণায় অংশ না নেওয়া ম্যাসাচুসেটস বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণগত বাস্তুবিদ আলবার্ট কাও বলেন, ‘আমি কখনোই এটি অনুমান করতে পারতাম না। কিন্তু ব্যাখ্যাটি শোনার পর তা যথেষ্ট যৌক্তিক মনে হয়েছে।’

গবেষকদের মতে, যকৃতের এসব রোগপ্রতিরোধী কোষ স্নায়ুতন্তুর খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। বন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-লেখক ক্লিভিয়া লিসোস্কি বলেন, ‘‘সম্ভবত এভাবেই তারা তাদের ‘চৌম্বকীয় অনুভূতি’ মস্তিষ্কে প্রেরণ করে এবং পায়রাদের দিকনির্ণয়ে সহায়তা করে”।

গবেষকরা মনে করছেন, পাখি ছাড়াও ইঁদুরের মতো অন্যান্য প্রাণীও একই ধরনের চৌম্বকীয় ‘জিপিএস’ ব্যবহার করতে পারে। 

তবে বাইরের বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়রারা সত্যিই এভাবেই দিকনির্ণয় করে কি না এবং সংকেতগুলো কীভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষণায় পায়রার যকৃতে সবচেয়ে শক্তিশালী চৌম্বকীয় সংকেত পাওয়া গেলেও একই ধরনের রোগপ্রতিরোধী কোষ ঠোঁট, প্লীহাসহ শরীরের অন্যান্য অংশেও রয়েছে।

পশুচিকিৎসাবিষয়ক রোগ বিশেষজ্ঞ সাইমন স্পিরো এবং জীববিজ্ঞানী হ্যাল ড্রেকস্মিথ এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে লিখেছেন, এই চৌম্বকীয় ধাঁধার সম্ভবত একক কোনো উত্তর নেই। 

তাদের মতে, পাখিরা কাজের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন পদ্ধতিতে চৌম্বক ক্ষেত্র শনাক্ত করতে পারে- সেটি দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ হোক কিংবা নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য খুঁজে বের করার প্রয়োজন হোক।

তারা লিখেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, অন্ধকারে বাড়ি ফেরার একাধিক উপায় থাকা বিচক্ষণতার পরিচায়ক হতে পারে’। সূত্র: এপি

অমিয়/

বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

রি-ইমাজিন’ বা ‘নতুন করে ভাবো’–প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ৮ জুন বাংলাদেশেও পালিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব সমুদ্র দিবস-২০২৬। বৈশ্বিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি সমুদ্রের সুরক্ষায় এবার মানুষের সঙ্গে সাগরের বিদ্যমান সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে– ‘নতুন করে ভাবো: আমাদের চেনা জগতের বাইরে, সমুদ্রের সঙ্গে এক নতুন সম্পর্ক।’ 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালের শুরুতেই আন্তর্জাতিক জলসীমার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঐতিহাসিক ‘হাই সিস ট্রিটি’ (বিবিএনজে চুক্তি) কার্যকর হওয়ার পর এবারের সমুদ্র দিবসটি বিশ্বজুড়ে বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, দীর্ঘ সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটারের বেশি উপকূলরেখা থাকা এই অঞ্চলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলছে মৌসুমি বায়ু ও কৃষিতে। ক্রমাগত বাড়ছে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রকোপ, যা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

দিবসটি উদযাপনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক র‌্যালি, সেমিনার, সমুদ্র উপকূল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও শিশুদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা।

১৯৯২ সালে রিও ডি জেনিরোতে ধরিত্রী সম্মেলনে প্রথম সমুদ্র দিবসের প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তী সময়, ২০০৮ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ জুনকে ‘বিশ্ব সমুদ্র দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল
ছবি: সংগৃহীত

আজকের দিনে তিন বা চার সদস্যের নিউক্লিয়ার পরিবার সামলাতেই অনেকের নাভিশ্বাস ওঠে। সেখানে এক ছাদের নীচে প্রায় ২০০ জন সদস্যের বসবাস- শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই বাস্তব। মিজোরামের বখতাওং গ্রামের ‘চানা পরিবার’ দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের বৃহত্তম যৌথ পরিবার হিসেবে পরিচিত। পরিবারের কর্তা জিওনা চানা ২০২১ সালের ১৩ জুন ৭৬ বছর বয়সে মারা গেলেও তার গড়ে তোলা বিশাল পরিবার আজও একই ছাদের নিচে বসবাস করছে।

৩৯ স্ত্রী, ৯৪ সন্তান- বিশ্বজোড়া পরিচিতি

জিওনা চানা মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার প্রথম স্ত্রী জাথিয়াঙ্গিকে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মোট ৩৯টি বিয়ে করেন এবং ৯৪ সন্তানের জনক হন। মৃত্যুর সময় তার পরিবারে ৩৮ জন জীবিত স্ত্রী, ৮৯-৯৪ জন সন্তান এবং বহু নাতি-নাতনি ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ১৮০ থেকে ২০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা যায়।

‘নিউ জেনারেশন হোম’- এক বিশাল পারিবারিক সাম্রাজ্য

চানা পরিবারের বাসভবনের নাম ‘ছুয়ান থার রান’, যার অর্থ ‘নতুন প্রজন্মের বাড়ি’। চারতলা এই বিশাল ভবনে রয়েছে শতাধিক ঘর। পরিবারের সদস্যরা আলাদা কক্ষে থাকলেও রান্নাঘর, খাবার ব্যবস্থা এবং বহু দৈনন্দিন কাজ যৌথভাবে পরিচালিত হয়। বাড়িটির মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি কিচেন, কর্মশালা, কৃষিকাজের পরিকাঠামো এবং অতিথিদের থাকার ব্যবস্থাও।

সংসার পরিচালনা যেন কর্পোরেট ম্যানেজমেন্ট

এত বড় পরিবারের দৈনন্দিন পরিচালনা অনেকের মতে একটি মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার সমতুল্য। পরিবারের প্রথম স্ত্রী জাথিয়াঙ্গি দীর্ঘদিন ধরে গৃহপরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করছেন। কে রান্না করবেন, কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করবেন, কে কৃষিকাজ বা অন্যান্য উৎপাদনমূলক কাজে যুক্ত থাকবেন- সবই নির্দিষ্ট নিয়মে ভাগ করা থাকে।

প্রতিদিনের রান্না শুনলে অবাক হবেন

পরিবারের সদস্যসংখ্যার কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী প্রয়োজন হয়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিদিন ৯০ কেজি চালের ভাত, আলু, ডাল ও সবজি রান্না হয়। মাংসের দিনগুলিতে কয়েক ডজন মুরগি রান্না করা হয়। বিশাল অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে কাঠের উনুনে রান্না করেন পরিবারের নারীরা।

শুধু পরিবারপ্রধান নন, ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতাও

জিওনা চানা ছিলেন লালপা কোহরান থার নামে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রধান। ১৯৪২ সালে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত এই গোষ্ঠী বহুবিবাহকে অনুমোদন করে এবং বর্তমানে এর সদস্যসংখ্যা কয়েক হাজার বলে অনুমান করা হয়। 

চানা সম্প্রদায়ের সদস্যরা কৃষিকাজ, ছুতোরের কাজ, কুটিরশিল্পসহ নানা উৎপাদনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্বনির্ভর জীবনযাপন করেন।

পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র

চানা পরিবারের অনন্য জীবনযাত্রা বহু বছর ধরেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কৌতূহলের বিষয়। মিজোরামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে তাদের বাড়ি। বিশ্বের বৃহত্তম যৌথ পরিবারের জীবনযাপন কাছ থেকে দেখার জন্য এখনও বহু মানুষ বখতাওং গ্রামে যান।

জিওনা চানা আজ নেই, কিন্তু তার গড়ে তোলা পরিবার আধুনিক নিউক্লিয়ার পরিবারের যুগে যৌথ পারিবারিক ব্যবস্থার এক বিরল ও বিস্ময়কর উদাহরণ হিসেবে আজও বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয়।