দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ির সুখসাগর পাড়ে যখন মাটির গন্ধ, সবুজ ঘাস আর গ্রাম্য পরিবেশে ভেসে আসছিল আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা, মাছ ভর্তা আর পাতলা ডালের সুবাস-তখনই যেন সময় ফিরে যাচ্ছিল শৈশবে।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে দৈনিক খবরের কাগজ এর সহযোগী সংগঠন "বন্ধুজন" দিনাজপুর জেলা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী চড়ুইভাতি, যেখানে স্মৃতি, আনন্দ, খাবার আর বন্ধুত্ব মিলেমিশে তৈরি করলো এক অনন্য দিন।
কলাপাতায় সাজানো সাদা ভাত, নানা রকম ভর্তা আর একটুকরো মুরগির মাংস—সবাই নিজের হাতে পরিবেশন করে উপভোগ করেছে মধ্যাহ্নভোজন।
শহরের কোলাহল ছেড়ে সুখসাগর পাড়ের নরম ঘাসে বসে খাওয়ার অভিজ্ঞতা যেন বহুদিন দাবি করে রাখা শৈশবের আনন্দ ফিরিয়ে দিয়েছে অংশগ্রহণকারীদের।
দিনাজপুর বন্ধুজনের সভাপতি রাকিব হাসান সিফাত ও সাধারণ সম্পাদক সাবিত হাসানের ব্যবস্থাপনায় এ আয়োজন পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক হবিবুর রহমান, দৈনিক খবরের কাগজ–এর দিনাজপুর প্রতিনিধি সুলতান মাহমুদ ও বন্ধুজনের সদস্যরা।
দিনাজপুরের সুখসাগর পাড়ে সবুজ ঘাসের ওপর বসে ভাত-ভর্তায় মধ্যাহ্নভোজন—বন্ধুজনের সদস্যদের কাছে এটি শুধু একটি আয়োজন নয়, বরং ফিরে দেখা, ঘুরে দাঁড়ানো আর নিজেদের মাঝে সম্পর্ক দৃঢ় করার এক অনন্য মুহূর্ত। এমন আনন্দমুখর গ্রাম্য আয়োজন আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করবে—বন্ধুত্বের মতোই এ স্মৃতিও দীর্ঘদিন মনে থাকবে।
বন্ধুজন সদস্য খাদিজাতুল কোবরা ও রুনা ইয়াসমিন বলেন, আজকের ছোট পরিসরের এ চড়ুইভাতি সত্যিই মনে রাখার মতো। সামাজিক কাজের ব্যস্ততার মাঝেও নিজেদের জন্য একটু সময় নেওয়া দরকার ছিল। আমরা নিজেরা রান্না করেছি, ভর্তা সাজিয়েছি-সব মিলিয়ে অসাধারণ একটি দিন।
সাধারণ সম্পাদক সাবিত হাসান জানান, বন্ধুজনের কাজ শুধু সামাজিক আন্দোলনই নয়, সদস্যদের মানসিক আনন্দ ও বন্ধন দৃঢ় করার জন্যও কাজ করে। দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল এমন একটি চড়ুইভাতি আয়োজন করার-সেটি সফল হয়েছে।
সভাপতি রাকিব হাসান সিফাত বলেন, চড়ুইভাতির উদ্দেশ্য ছিল শৈশবের স্মৃতি জাগানো। সবুজ ঘাস, কলাপাতার ভাত-সবই আমাদের আবার গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। সামনে আরও বড় আয়োজনের পরিকল্পনা আছে।
শহরের মানুষকে গ্রামে ফেরানোর আয়োজন বন্ধুজনের প্রধান উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক হবিবুর রহমান বলেন, বন্ধুজনের সদস্যরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে, সামাজিক কাজ করছে। আজ তারা যে গ্রাম্য পরিবেশ তৈরি করেছে—তা আমাদের ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ফিরিয়ে নিয়েছে শৈশবে। চমৎকার একটি দিন উপহার দিয়েছে তারা।
এসএন/