জীবনের তাগিদে কেউ গ্রামে, কেউবা শহরে, কেউবা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশ-বিভুঁই। একেক জনের বাস, একেক জায়গাতে হলেও বন্ধুত্বের বন্ধন কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। জীবন পথের বাঁকে যতই অন্ধকার আসুক না কেন, একখণ্ড আলোক ছটা নিয়ে সেই অন্ধকার দূর করতে যেন সদা প্রস্তুত কোন না, কোন বন্ধু। বন্ধুত্বের সেই সম্পর্কের বন্ধন মজবুত করতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো এসএসসি ২০০২ এবং এইচএসসি ২০০৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে ব্যাচের ২০০৪ অর্গানাইজিং কাউন্সিলের আয়োজনে ‘কালচারাল ফেস্ট-২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ের আগে বার মিলনায়তনে একে-একে আসতে থাকেন বন্ধুরা। দীর্ঘদিন পর দেখা পেয়ে নিজেদের আলিঙ্গন করে কিছু সময়ের জন্য খুনশুটি আর হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠেন, পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আয়োজন গান-নাচ-র্যাম্প-র্যাফেল ড্র সেই আনন্দ যেন দ্বিগুণ করে তোলে। বিকেলে থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।
জানা গেছে, ২০০২ সালে এসএসসি এবং ২০০৪ সালে এইচএসসি উত্তীর্ণদের ফেসবুকভিত্তিক একটি গ্রুপ আজ থেকে প্রায় ১৩ বছর আগে যাত্রা শুরু করে। দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত প্রায় ৫০ হাজার সদস্য নিয়ে গঠিত গ্রুপটি প্রতিষ্ঠার পর পরই বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম- বিশেষ করে রক্তদান কর্মসূচি, খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন দিবসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ‘২০০৪ অর্গানাইজিং কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে’ এই কালচারাল ফেস্ট ২০২৫। এবারের ফেস্টের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল মুক্তচিন্তার স্বাধীন দৈনিক ‘খবরের কাগজ’।
এমন কালচারাল ফেস্ট বন্ধুত্বের বন্ধন আরও মজবুত ও সুগঠিত করবে বলে জানিয়ে গ্রুপটির মডারেটর আতিক তৌওহিদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা এসএসসি ২০০২ ও এইচএসসি ২০০৪, বাংলাদেশ- এই গ্রুপের ব্যানারে ব্যাচের বন্ধুরা বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করে আসছি। গ্রুপটির ২০০৪ অর্গানাইজিং কাউন্সিলের মাধ্যমে বিভিন্ন দিবস উদযাপন করে আসছি। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা চাই, আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় ও মজবুত হোক যেন আজীবন সেই বন্ধন অটুট থাকে।’
গ্রুপটির আরেক মডারেটর ও কাতার প্রবাসী আদিব রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের এটি ব্যাচভিত্তিক একটি ফেসবুক গ্রুপ। যার মাধ্যমে আমরা সামাজিক-মানবিক কাজ করে আসছি। আমাদের একটি শক্তিশালী ব্লাড ব্যাংক রয়েছে, বন্ধু ও বন্ধুদের পরিবারের যেকোনো কারও রক্ত প্রয়োজন হলে, খুব দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হয় এখান থেকে। আমরা তো একটা পরিবার, পরিবারের যেকোনো সদস্যের বিপদে-আপদে আমরা সর্বক্ষণ জাগ্রত রয়েছি। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা আরও সুগঠিত হতে চাই, একে-অন্যের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন প্রয়োজনে বড় পরিসরে করে আরও যেন কাজ করে যেতে পারি, সে জন্যই এমন আয়োজন।