ডলারের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পূরক শুল্কের প্রভাব যোগ হয়েছে। গাড়ির দাম সহনীয় করতে হলে শুল্কে ছাড় দিতে হবে। অটোমোবাইলশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে খবরের কাগজ কথা বলেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি এবং হকস বে অটোমোবাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হকের সঙ্গে।
খবরের কাগজ: রিকন্ডিশন্ড গাড়ির আমদানি শুল্ক কত ধার্য আছে?
আবদুল হক: ল্যান্ড ক্রুজার বা পাজেরোর মতো উচ্চমূল্যের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির আমদানি শুল্ক ১ কোটি টাকার বেশি। মধ্যম ও কম দামি গাড়ির শুল্কও বেড়েছে। ফলে এসব গাড়ি মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বিক্রি বাড়াতে হলে শুল্ক কমিয়ে সমন্বয় করতে হবে। গাড়ি বিক্রি বাড়লে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। তাই শুল্ক কমালে সরকার লাভবান হবে।
খবরের কাগজ: অভিযোগ আছে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে অনেকেই রিকন্ডিশন্ড ও নতুন গাড়ি আমদানি করে থাকেন। এ কাজে অসাধু ব্যবসায়ীরা জড়িত। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
আবদুল হক: সৎ-অসৎ সব জায়গায় সব ক্ষেত্রেই আছে। শুধু যে গাড়ি মিথ্যা ঘোষণায় আসছে তা ঠিক না, অনেক কিছুই মিথ্যা ঘোষণায় আসছে। এসব কাজ প্রকৃত ব্যবসায়ীরা করেন না। কারণ আমরা এক দিনের জন্য ব্যবসা করতে আসিনি। আমাদের সুনাম ধরে রেখে ব্যবসা করতে হবে। তাই প্রকৃত ব্যবসায়ীরা দুর্নীতি করেন না। তারা নিয়মকানুন মেনে ব্যবসা করেন। মিথ্যা ঘোষণা বন্ধে সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে। আমরা বারভিডার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করছি, ভবিষ্যতেও করব। মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে অর্থ পাচার করা হয়েছে। এতে সব ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
খবরের কাগজ: অর্থ পাচারের কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত। আপনারা আমদানি-রপ্তানির ব্যবসায় জড়িত। অনেকেই আপনাদের খাতের দিকেও অভিযোগ করে। আপনি কী মনে করেন?
আবদুল হক: গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আমরা দেখা করেছি। তিনি বললেন, একটি গোষ্ঠী ১০ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। তাই যদি হয়, তাহলে গোটা রাষ্ট্রের রিজার্ভ এখন ২০ বিলিয়ন ডলার। একটি গোষ্ঠী যদি ১০ বিলিয়ন ডলার পাচার করে, তাহলে আরও যে গ্রুপ আছে, আরও যে গোষ্ঠী আছে, আরও ছোট ব্যবসায়ী আছে, যাদের মধ্যে কেউ ২৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে ব্যাংক থেকে, কেউ ১০-১২ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে, সেই হিসাবে জনগণের কাছে তো কিছুই নেই। লাখ লাখ ক্ষুদ্র, মাঝারি ব্যবসায়ী শূন্য হাতে বসে আছেন।
গভর্নরের সঙ্গে আমি একমত যে মফস্বল অর্থনীতি বা গ্রামীণ অর্থনীতি যা-ই বলুন, সেটা কিন্তু বাঁচিয়ে রেখেছেন প্রবাসীরা। দেড় কোটি প্রবাসী যারা দেশের বাইরে থেকে তাদের মা, বাবা, স্ত্রী, ভাই বা স্বজনের কাছে টাকা পাঠাচ্ছেন, সে জন্য গ্রামের বাজারে আপনি আঙুর ফল, বেদানা বা কিশমিশ পাবেন। কিন্তু শিল্প বা শিল্পায়নের ক্ষমতা, ব্যবসা-বাণিজ্যে কিন্তু টাকা নেই। এখন টাকা কোত্থেকে আসবে? এত পরিমাণ টাকা নিয়ে গেছে তার পরিপূরক কোত্থেকে কেমন করে আসবে। টাকা ছাপিয়ে? তাহলে তো টাকা থাকবে, পণ্য মিলবে না।
আমার ব্যক্তিগত অভিমত, বাংলাদেশে পাচারের ঘটনা পৃথিবীতে নজিরবিহীন। তাই শুধু রিকন্ডিশন্ড ব্যবসায়ীরা সবাই যে অর্থ পাচারে জড়িত, তা নয়। তবে আমাদের খাতের কেউ জড়িত আছেন কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ কয়েকজন দুর্নীতিবাজের কারণে সবাইকে ঢালাওভাবে দায়ী করা ঠিক না।
খবরের কাগজ: সম্প্রতি অধ্যাদেশ জারি করে প্রায় ১০০ পণ্য ও সেবায় ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। অটোমোবাইল খাতে এসবের কি প্রভাব পড়েছে?
আবদুল হক: সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে হাজারের বেশি পণ্যে খরচ বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে অনেক বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে।
/আবরার জাহিন