ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মুকুসদপুরে মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য ও নেইমারের প্রতিকৃতি জামালপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত সাঘাটায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩ চ্যাটজিপিটির মেমোরি ফিচারে বড় পরিবর্তন বিমানবাহিনী জাদুঘরে রেনেসন্স হোটেলের বাহার রেস্টুরেন্টে শুরু হচ্ছে ‘ম্যাজিক্যাল ফ্রাইডে ব্রাঞ্চ’ বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ঘুঘুর বাচ্চা নামাতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের চাঁদপুরে ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’ এর মোড়ক উন্মোচন ১০ জনকে পুশইনের ৩০ ঘণ্টা পরও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিজিবি-বিএসএফ পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে তরুণীর হুমকি, ‘আমার স্বামী পুলিশ’ দেওয়ানগঞ্জে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে যুবক নিহত সেলফ কেয়ার রুটিন যখন থেরাপি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের ৬ শান্তিরক্ষী এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন সন্ধ্যার মধ্যে ১৪ অঞ্চলে হতে পারে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি সোনারগাঁয় কাভার্ডভ্যান উল্টে চালক নিহত ফেসবুক পোস্টের জেরে মামলা, সাংবাদিক পরিচয়ে মানববন্ধন লক্ষ্মীপুরে ২ মাদককারবারিকে পুলিশে দিলো জনতা ফেনীতে ডেঙ্গু রোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মঞ্চের জন্য অনেক গবেষণামূলক কাজ করতে চাই: জুয়েনা শবনম টেকনাফে ৯৯৯-এ গোলাগুলির দাবি, অভিযোগের সত্যতা মেলেনি! গাংনী সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা ‘রকস্টার’ যেন মাদকের বিজ্ঞাপন নন্দনকাননে মন্দির জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ, দফায় দফায় সংঘর্ষ ৬৫ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী চৌদ্দগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২ টেকনাফে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোডাউন একাগ্র একলিম, পরিচ্ছন্ন সিলেট
Nagad desktop

সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আগামীর বাহন ইলেকট্রিক বাইক

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আগামীর বাহন ইলেকট্রিক বাইক
ছবি: সংগৃহীত

যাতায়াতে খরচ কমানো ও পরিবেশ রক্ষার তাগিদে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ইলেকট্রিক বাইক বা ই-বাইক। জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও বায়ুদূষণ রোধে এই বাহন এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত যাতায়াতের ক্ষেত্রে এটি একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে।

সাশ্রয়ী যাতায়াত
ইলেকট্রিক বাইকের সবচেয়ে বড় সুবিধা এর নামমাত্র পরিচালনা খরচ। প্রচলিত জ্বালানিচালিত মোটরসাইকেলে প্রতি কিলোমিটারে যেখানে আড়াই থেকে তিন টাকা খরচ হয়, সেখানে ই-বাইকে খরচ হয় মাত্র ১৫ থেকে ২০ পয়সা। এতে কোনো ইঞ্জিন না থাকায় মোবিল পরিবর্তন বা মেকানিক্যাল জটিলতা নেই বললেই চলে। বাসায় থাকা সাধারণ প্লাগ পয়েন্টে এর ব্যাটারি চার্জ দেওয়া সম্ভব। একবার পূর্ণ চার্জে বাইকভেদে ৫০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত অনায়াসে যাতায়াত করা যায়।

পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা
শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ যানবাহনের ধোঁয়া। ইলেকট্রিক বাইক ব্যাটারিচালিত হওয়ায় এতে কোনো ধোঁয়া নির্গত হয় না। পাশাপাশি এটি অত্যন্ত শব্দহীন, যা শব্দদূষণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পরিবেশবিদদের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমাতে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার যত বাড়বে, শহরগুলো তত বেশি বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের বাজারে এখন বিভিন্ন মানের ইলেকট্রিক বাইক পাওয়া যাচ্ছে। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ব্যবহার বাড়ায় এগুলোর স্থায়িত্বও আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারিভাবেও এই খাতের প্রসারে নীতিমালা প্রণয়ন ও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশনের অভাব ও দীর্ঘ পথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় গ্রাহকদের মনে এখনো রয়ে গেছে। ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করতে বেশ মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হয়, যা অনেক ব্যবহারকারীর জন্য চিন্তার কারণ।

ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা
যারা প্রতিদিন অল্প দূরত্বে বা শহরের মধ্যে যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য এটি চমৎকার সমাধান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের কাছে ই-বাইক দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। তবে কেনার আগে ব্যাটারির ওয়ারেন্টি, সার্ভিসিং সেন্টার এবং পার্টসের সহজলভ্যতা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই খাতের সমস্যাগুলো দূর হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সড়কে ইলেকট্রিক বাইকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যা টেকসই যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা
বৈদ্যুতিক গাড়ি অভিন্ন

ভারতের টাটা মোটরস চীনের জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্র্যান্ড চেরির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ‘অভিন্ন’ ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করতে যাচ্ছে। 
গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চেরি ও জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘ফ্রিল্যান্ডার’ প্লাটফর্মটি ব্যবহার করবে টাটা। গাড়িগুলো দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর নতুন কারখানায় তৈরি হবে। 
২০২৭ সালে অভিন্ন’র প্রথম মডেলটি বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে টাটার। এটি চীন থেকে সরঞ্জাম এনে ভারতে সংযোজন করা হবে। 
মূলত ২০২৫ সালের মধ্যে জেএলআর-এর নিজস্ব আর্কিটেকচার ব্যবহারের আগের পরিকল্পনাটি ভেস্তে যাওয়ার পর, টাটা চীনের এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এই চুক্তির ফলে টাটা অত্যন্ত দ্রুত এবং কম খরচে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জগতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে টাটা। 

সূত্র: সিএমজি

ভলভোর নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ‘ইএক্স৬০’

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ভলভোর নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ‘ইএক্স৬০’
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অটোমোবাইল শিল্প এখন দ্রুত সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। এই ধারাবাহিকতায় সুইডিশ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভলভো তাদের নতুন ২০২৭ মডেলের ‘ইএক্স৬০’ এসইউভি গাড়ি উন্মোচন করেছে। সম্প্রতি স্পেনের বার্সেলোনায় গাড়িটির পরীক্ষামূলক চালনা সম্পন্ন হয়। ভলভোর জনপ্রিয় জ্বালানিচালিত এক্সসি৬০ মডেলের বিকল্প হিসেবে তৈরি এই বৈদ্যুতিক গাড়িটি মূলত প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ ডিজিটাল প্রযুক্তির সক্ষমতা তুলে ধরছে।

গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ভলভোর নিজস্ব ‘হাগিনকোর’ সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম। গুগল, এনভিডিয়া ও কোয়ালকমের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি এই সিস্টেম গাড়িটিকে একটি চলন্ত কম্পিউটারে রূপান্তর করেছে। এর ফলে গাড়িটি নিয়মিত ওভার দ্য এয়ার (ওটিএ) আপডেট পাবে। একই সঙ্গে এর সক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালকের আচরণ ও চারপাশের পরিস্থিতি দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারবে। ভলভোর নতুন ‘এসপিএ৩’ প্ল্যাটফর্মে তৈরি এই গাড়ির চ্যাসিস ও ব্যাটারি সংযুক্ত অবস্থায় থাকায় এর ওজন অনেক কমে এসেছে।

চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসতে যাওয়া ইএক্স৬০ গাড়িটি কয়েকটি সংস্করণে পাওয়া যাবে। এর প্রারম্ভিক সংস্করণ ‘পি৬’ একক মোটরের রিয়ার-হুইল ড্রাইভ প্রযুক্তিসম্পন্ন, যা ৩৬৯ হর্সপাওয়ার উৎপাদন করতে পারে। এতে রয়েছে ৮০ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি, যা একবার পূর্ণ চার্জে ৩০৭ মাইল পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। অন্যদিকে, শক্তিশালী ‘পি১০’ সংস্করণটি দ্বৈত মোটরের অল-হুইল ড্রাইভসমৃদ্ধ। এটি ৫০৩ হর্সপাওয়ার উৎপাদন করে এবং এর ৯১ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি সর্বোচ্চ ৩২২ মাইল রেঞ্জ দেয়। ৮০০ ভোল্টের ইলেকট্রিক আর্কিটেকচারের কারণে মাত্র ১০ মিনিটে গাড়িটিতে ১৬০ মাইলেরও বেশি রেঞ্জ যুক্ত করা সম্ভব। এছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৬৭০ হর্সপাওয়ারের একটি ‘পি১২’ সংস্করণ বাজারে আসবে।

গাড়িটির ভেতরে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান শৈলীর চমৎকার ও ছিমছাম নকশা চোখে পড়ে। ড্যাশবোর্ডে রয়েছে ১৫ ইঞ্চির ওএলইডি টাচস্ক্রিন, যা গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে চলে। এতে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘জেমিনাই’ যুক্ত করা হয়েছে, যা চালকের সাধারণ কথার উত্তর দিতে পারে। গাড়িটির কেবিন বেশ প্রশস্ত এবং এর আসনগুলো অত্যন্ত আরামদায়ক। তবে ভেন্টিলেশন ও এসির মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণগুলো সম্পূর্ণ টাচস্ক্রিননির্ভর হওয়ায় চলন্ত অবস্থায় তা পরিচালনা করা কিছুটা জটিল মনে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভলভো ইএক্স৬০-এর প্রাথমিক দাম ধরা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭৯৫ মার্কিন ডলার। পারফরম্যান্স ও প্রযুক্তির তুলনায় এই দাম জার্মান প্রতিযোগী অডি কিউ৬ ই-ট্রন বা বিএমডব্লিউ আইএক্স৩-এর চেয়ে বেশ সাশ্রয়ী। শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতি তুলতে পি৬ সংস্করণের সময় লাগে ৫ দশমিক ৭ সেকেন্ড এবং পি১০ সংস্করণের লাগে মাত্র ৪ দশমিক ৪ সেকেন্ড। আধুনিক প্রযুক্তি, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং চমৎকার রাইডিং কমফোর্টের কারণে ভলভোর এই প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারে বেশ ভালো সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াতে গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ের যত্ন

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
আপডেট: ২২ মে ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াতে গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ের যত্ন
ছবি: সংগৃহীত

গাড়ির চাকা ও ব্রেক যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই জরুরি এর সাসপেনশন ও স্টিয়ারিং সিস্টেম। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য এই দুটি অংশ সব সময় সচল রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সড়কের বর্তমান অবস্থায় গাড়ির এই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলোর ওপর বেশ বাড়তি চাপ পড়ে। একটু সচেতন হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

গাড়ির সাসপেনশন মূলত রাস্তা থেকে আসা ঝাঁকুনি শোষণ করে। এটি গাড়িকে সড়কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে স্টিয়ারিং সিস্টেম গাড়ির দিক নিয়ন্ত্রণ করে। চালকের নির্দেশ অনুযায়ী গাড়িকে ডানে বা বামে মোড় নিতে সাহায্য করে এটি। এই দুটি সিস্টেমের একটিতে সমস্যা হলে অন্যটির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।

সাসপেনশন নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ অতিরিক্ত ঝাঁকুনি। গাড়ি চালানোর সময় যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয়, তবে বুঝতে হবে শক অ্যাবজর্বার ও স্প্রিং দুর্বল হয়ে গেছে। এছাড়া মোড় নেওয়ার সময় গাড়ি একদিকে হেলে পড়লে বা ব্রেক করার সময় সামনের দিকে বেশি ঝুঁকে গেলেও সাসপেনশন পরীক্ষা করা জরুরি।

স্প্রিং বা বল জয়েন্ট ঢিলে হয়ে গেলে স্টিয়ারিংয়ে সমস্যা দেখা দেয়। গাড়ি সোজা চালানোর সময়ও যদি স্টিয়ারিং হুইল একদিকে টেনে ধরে, তবে চাকার অ্যালাইনমেন্টে সমস্যা রয়েছে। আবার স্টিয়ারিং ঘোরাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শক্তির প্রয়োজন হলে বুঝতে হবে পাওয়ার স্টিয়ারিং ফ্লুইড কমে গেছে। অনেক সময় ফ্লুইড লিকেজ হওয়ার কারণেও এমনটি হতে পারে।

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এই দুটি সিস্টেম দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়। প্রতি ১০ হাজার কিলোমিটার পরপর চাকার ব্যালান্সিং এবং হুইল অ্যালাইনমেন্ট পরীক্ষা করা উচিত। এটি চাকার অসমান ক্ষয় রোধ করে এবং স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিখুঁত রাখে। ভাঙাচোরা বা খানাখন্দে ভরা রাস্তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। দ্রুতগতিতে গর্তে পড়লে সাসপেনশনের বল জয়েন্ট, বুশিং ও স্ট্রাট দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গাড়ি সার্ভিসিং করার সময় চ্যাসিসের নিচের অংশ ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কাদা ও বালু জমে বুশিংয়ের রাবার নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া পাওয়ার স্টিয়ারিংয়ের তেলের স্তর নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর তা পরিবর্তন করা উচিত।

গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা ত্রুটি লক্ষ করলে অবহেলা করা ঠিক নয়। সময়মতো ছোটখাটো মেরামত না করলে পরবর্তী সময়ে পুরো সিস্টেমটি পরিবর্তন করতে হতে পারে। এতে মেরামতের খরচ অনেক বেড়ে যায়। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য গাড়ির এই দুটি প্রধান অংশের নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রত্যেক গাড়িচালকের দায়িত্ব।

কিয়ার ভিশন মেটা ট্যুরিজমো ভবিষ্যতের স্পোর্টস কার

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
কিয়ার ভিশন মেটা ট্যুরিজমো ভবিষ্যতের স্পোর্টস কার
ছবি: সংগৃহীত

অটোমোবাইল জগতে প্রথাগত বৈদ্যুতিক গাড়ির ধারণা বদলে দিতে নতুন এক কনসেপ্ট কার উন্মোচন করেছে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠান কিয়া। সম্প্রতি মিলান ডিজাইন উইকে তারা প্রদর্শন করেছে ‘ভিশন মেটা ট্যুরিজমো’। এটি কেবল একটি গাড়ি নয়, বরং ডিজিটাল প্রযুক্তি ও যান্ত্রিক দক্ষতার এক অনন্য সমন্বয়।

কিয়া এই গাড়িটিকে তাদের ‘অপোজিটস ইউনাইটেড’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল ডিজাইন প্রধান করিম হাবিব জানিয়েছেন, ভিশন মেটা ট্যুরিজমো কিয়ার ভবিষ্যৎ যাত্রার একটি মাইলফলক। এটি মূলত মানুষের আবেগ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে তৈরি এক বৈদ্যুতিক বাহন।

বাহিরের নকশা
গাড়িটির বাহ্যিক রূপ দেখতে বেশ গতিশীল। এর নিচু ও চওড়া কাঠামো একে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্পোর্টস কারের রূপ দিয়েছে। এর পেছনের অংশটি তীক্ষ্ণভাবে কাটা এবং এতে রয়েছে অতি সরু আলোকসজ্জা, যা বাতাসের বাধা কমিয়ে গতি বাড়াতে সাহায্য করে। ডিজাইনাররা জানান, গাড়িটির কাঠামো তৈরিতে তারা যুদ্ধবিমান বা অ্যাভিয়েশন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন।

অভ্যন্তরীণ রূপান্তর
প্রথাগত গাড়ির ভেতরের সজ্জার তুলনায় ভিশন মেটা ট্যুরিজমো অনেক বেশি বৈপ্লবিক। এর কেবিনকে গতিশীল ড্রাইভিং, ডিজিটাল মিথস্ক্রিয়া ও আরামদায়ক বিশ্রামের জন্য তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গাড়িটি যখন স্থির অবস্থায় থাকে, তখন এর আসন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে একে অপরের মুখোমুখি বসা যায়। এমনকি এতে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল জগতের সুবিধাও নেওয়া সম্ভব।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও গেমিং
এই কনসেপ্ট কারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক এর স্টিয়ারিং ব্যবস্থা, যা অনেকটা গেমিং কন্ট্রোলারের মতো। এতে স্পিডস্টার, ড্রিমার ও গেমার–তিনটি মোড রয়েছে। চালক চাইলে গাড়িটিকে পারফরম্যান্স মোডে চালাতে পারেন; আবার গেমার মোডে গাড়িটি একটি সামাজিক আড্ডার কেন্দ্রে পরিণত হয়। বৈদ্যুতিক গাড়ি হওয়া সত্ত্বেও এতে কৃত্রিম ইঞ্জিনের শব্দ এবং ভাইব্রেশন যোগ করা হয়েছে, যাতে চালক যান্ত্রিক অনুভব করতে পারেন।

যদিও ভিশন মেটা ট্যুরিজমো এখনই সড়কে নামছে না, তবে এটি ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থার এক স্পষ্ট ইঙ্গিত। কিয়া প্রমাণ করতে চাইছে, একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি কেবল গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম নয়, এটি বিনোদন ও বিশ্রামের একটি বহুমুখী ডিজিটাল স্থান হতে পারে। 

দেশের বাজারে বিওয়াইডির নতুন তিন মডেলের গাড়ি

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
দেশের বাজারে বিওয়াইডির নতুন তিন মডেলের গাড়ি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বাজারে নতুন তিন মডেলের পরিবেশবান্ধব নিউ এনার্জি ভেহিকল (এনইভি) নিয়ে এসেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। নতুন মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘বিওয়াইডি সিল ৬’, হাইব্রিড সেডান ‘বিওয়াইডি সিল ৫’ এবং অল-হুইল-ড্রাইভ প্রযুক্তির হাইব্রিড এসইউভি ‘ বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি’।

রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গাড়ি তিনটি উন্মোচন করা হয়েছে। দেশের সড়কে পরিবেশবান্ধব, স্মার্ট ও উন্নত প্রযুক্তির যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই গাড়িগুলো আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিওয়াইডি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিওয়াইডি এশিয়া-প্যাসিফিক অটো সেলস ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কেৎসু ঝ্যাং। এ সময় সিজি রানার বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমিদ সাকিফ খান, বিওয়াইডি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার চার্লস রেন ও চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশেরসহ খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রি-অর্ডার করা ৬০টি বিওয়াইডি গাড়ি গ্রাহকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

বিওয়াইডি সিল ৫
এটি মূলত একটি প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক সেডান। ১ হাজার ৫০০ সিসির ইঞ্জিনচালিত এই গাড়িতে বিওআইডির নিজস্ব ‘ডিএম-আই’ প্রযুক্তি ও ব্লেড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। একবারের পূর্ণ জ্বালানি ট্যাংক ও চার্জে গাড়িটি সর্বোচ্চ ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। এতে রয়েছে অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (এডিএএস) সেফটি প্রযুক্তি, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা ও ১২.৮ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম।

বিওয়াইডি সিল ৬
সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক (ইভি) এই সেডানটি একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ৪১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। এতে রয়েছে ৯৫ কিলোওয়াট শক্তির মোটর ও ডিসি ফাস্ট চার্জিং সুবিধা। নিরাপত্তার জন্য গাড়িটিতে এডিএএস প্রযুক্তির পাশাপাশি অ্যাপল কারপ্লে ও অ্যান্ড্রয়েড অটো সমর্থিত ইনফোটেইনমেন্ট ব্যবস্থা রয়েছে।

বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি
প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির এই হাইব্রিড এসইউভি গাড়িটিতে ১ হাজার ৫০০ সিসির টার্বোচার্জed ইঞ্জিন রয়েছে। শুধু ব্যাটারির শক্তিতে এটি ১২৮ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। পারিবারিক ও দীর্ঘ ভ্রমণের উপযোগী এই গাড়িতে প্যানোরামিক সানরুফ, ইনফিনিটি সাউন্ড সিস্টেম, ভেন্টিলেটেড সিট ও ৭টি এয়ারব্যাগসহ উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে

অনুষ্ঠানে বিওয়াইডি এশিয়া-প্যাসিফিকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কেৎসু ঝ্যাং বলেন, ‘বিওয়াইডির বৈশ্বিক পরিকল্পনায় বাংলাদেশের বাজার ক্রমান্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন এই মডেলগুলোর উন্নত প্রযুক্তি ও টেকসই কার্যক্ষমতা এ দেশের গ্রাহকদের আধুনিক যাতায়াতের অভিজ্ঞতা দেবে।’

বিওয়াইডি বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের বলেন, ‘গ্রাহকদের ভিন্নধর্মী জীবনযাত্রা ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই বৈচিত্র্যময় লাইনআপ আনা হয়েছে। এটি দেশের পরিবেশবান্ধব স্মার্ট যাতায়াত ব্যবস্থার রূপান্তরকে আরও গতিশীল করবে।’

দরদাম
বাজারে বিওয়াইডি সিল ৫-এর প্রথম ৫০০ ইউনিটের বিশেষ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিওয়াইডি সিল ৬ পাওয়া যাবে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। এ ছাড়া প্রিমিয়াম এসইউভি বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তিনটি মডেলের গাড়িতে বিওয়াইডির নিজস্ব ব্লেড ব্যাটারি প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ওয়ারেন্টি সুবিধা থাকবে।