ব্যাটারির রেঞ্জ, উচ্চ মূল্যের বৈদ্যুতিক এসইউভি ও ট্রাকের ভিড়ে এই দশকের দ্বিতীয়ার্ধে কম খরচে ও সহজে ব্যবহারযোগ্য যানবাহনের চাহিদা বাড়ছে। তাই প্রচলিত বড় ও বিলাসবহুল ইলেকট্রিক গাড়ির চেয়ে এখন অনেক অটোমোবাইল নির্মাতা মাইক্রোমোবিলিটি বা ছোট, হালকা ও কম গতির বাহনের দিকে ঝুঁকছে। এর ধারাবাহিকতায়, জাপানি অটোমোবাইল নির্মাতা টয়োটা নিয়ে আসছে তাদের নতুন মাইক্রোমোবিলিটি ধারণা, যা শহুরে যাতায়াতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টয়োটা সম্প্রতি বেলজিয়ামে উন্মোচন করেছে ‘টয়োটা এফটি-মি’ কনসেপ্ট। এটি মূলত মাইক্রোমোবিলিটির ধারণা থেকে তৈরি করা হয়েছে। এটি দুই আসনের ছোট যান। এটিকে পুরোপুরি গাড়ি বলা যাবে না, বরং এটি ইউরোপীয় ‘এলসিক্স’ শ্রেণির যানের অধীনে পড়ে। এই শ্রেণির যানগুলো স্কুটার চালানোর লাইসেন্সধারী ব্যক্তিরাও ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ পূর্ণ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াও এটি চালানো যাবে।
টয়োটা জানিয়েছে, ‘এফটি-মি ধারণা টয়োটার ‘মোবিলিটি ফর অল’ দর্শনকে ধারণ করে, যা তরুণ চালকদের পাশাপাশি পরিবর্তিত শহুরে পরিবেশে ছোট যানের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে।’
ফিচার ও কার্যকারিতা
এই যানের দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াই গজ, যার সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় ২৮ মাইল। এটি শুধু শহরের ভেতরে ও কম গতির রাস্তায় চলাচলের উপযোগী হবে। যেখানে সাধারণ গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ, কিন্তু সাইকেল বা স্কুটার চলাচল করতে পারে, এমন জোনেও চলতে পারবে এটি। এর মূল লক্ষ্য হলো ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে গাড়ি ও অন্যান্য ছোট যাতায়াত মাধ্যমের বিকল্প হিসেবে কাজ করা।
যানটিতে নেই কোনো প্যাডেল। সম্পূর্ণভাবে হাতের নিয়ন্ত্রণে চলে। ফলে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরাও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট ও পার্কিং সমস্যার মাঝে এটি হতে পারে একটি সম্ভাব্য বিকল্প।
টয়োটা বলেছে, ‘শহরগুলোর বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এফটি-মি একটি টেকসই, আধুনিক ও বহুমুখী সমাধান হবে। এটি মানুষ, পণ্য ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য এক গতিশীল অর্থনীতি তৈরির দিকে আরও একটি পদক্ষেপ।’
এফটি-মি একবার চার্জে ১০০ কিমি পর্যন্ত চলতে পারবে, যা এটিকে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত করে তোলে। সৌর প্যানেলযুক্ত ছাদ থেকে এতে আরও অতিরিক্ত ৩০ কিলোমিটার রেঞ্জ পাওয়া যেতে পারে। যদিও এটি ইউরোপের কম সূর্যালোকপূর্ণ দেশগুলোতে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
মাইক্রোমোবিলিটির ভবিষ্যৎ
মাইক্রোমোবিলিটির ধারণাটি নতুন নয়। আশির দশকের ‘সিনক্লেয়ার সি৫’ কিংবা সাম্প্রতিক ‘সিট্রোয়েন অ্যামি’ এর মতো মডেল আগে এই ধারা শুরু করেছে। বর্তমান বাস্তবতায় সিট্রোয়েন অ্যামির মতো যানগুলো মাইক্রোমোবিলিটির এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। ফরাসি এই মাইক্রোহ্যাচ রিচার্ড স্ক্যারি বইয়ের একটি গাড়ির মতো দেখতে, যা এই শ্রেণির যানের একটি সফল উদাহরণ। এটি ইউরোপের বাজারে দারুণ সাড়া ফেলেছে। এটি গাড়ি না হলেও মোটরসাইকেলের চেয়ে এমন যানের চাহিদা বেশি রয়েছে। বিএমডব্লিউর ছোট ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল ‘সিই ০৪’ এখন এই মাইক্রোমোবিলিটি ট্রেন্ডের অংশ।
অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে টয়োটার এমন ইভি দেখার সম্ভাবনা কম, যেখানে বড় আকারের গাড়ির চাহিদা বেশি। তবে ইউরোপের শহরগুলোতে এই দশকের শেষ নাগাদ এই ধরনের যানবাহনের প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শহুরে পরিবহনের নতুন যুগে, বড় নয়, বরং ছোটই হতে পারে বড় সমাধান।