ল্যান্ড রোভারের বিখ্যাত একটি মার্কেটিং স্টান্ট অনুকরণ করতে গিয়ে বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েছে চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চেরি অটোমোবাইল। গত সপ্তাহে চীনের বিখ্যাত তিয়ানমেন মাউন্টেন বা ‘হ্যাভেন্স গেট’-এর ৯৯৯ ধাপের খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল চেরির নতুন হাইব্রিড এসইউভি ‘ফুলউইন এক্স৩এল’।
তবে লক্ষ্যপূরণের একেবারে কাছাকাছি গিয়েও যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে গাড়িটি অচল হয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টো পেছনে গড়িয়ে যায়। এ ব্যর্থতার কারণে চেরি কর্তৃপক্ষকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হয়েছে।
গত ১২ নভেম্বর এই ঝুঁকিপূর্ণ ইভেন্টটির আয়োজন করা হয়। চেরির উদ্দেশ্য ছিল ২০১৮ সালে ল্যান্ড রোভারের রেঞ্জ রোভার স্পোর্ট মডেলের সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করা। সেবার রেঞ্জ রোভার এই ৯৯৯ ধাপের খাড়া সিঁড়ি সফলভাবে অতিক্রম করেছিল। নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে চেরিও একই পথে হাঁটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, চেরির এসইউভিটি সিঁড়ির একেবারে উপরের অংশের কাছে পৌঁছে যায়। ঠিক তখনই একটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং গাড়িটির নিচ থেকে একটি যন্ত্রাংশ খসে পড়তে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি শক্তি হারিয়ে ফেলে। এর পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এটি ডান দিকে বেঁকে গিয়ে পেছনের দিকে গড়াতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত রেলিং ও বেড়ার সঙ্গে ধাক্কা লেগে গাড়িটি থামে। এ ঘটনায় পর্যটন কেন্দ্রটির কিছু ক্ষতি হয়েছে।
সংঘর্ষের পর চালক গাড়িটি সোজা করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। ধারণা করা হচ্ছে, এই ধাক্কার ফলে স্টিয়ারিং বা ড্রাইভলাইন-সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ঘটনার পর চেরি অটোমোবাইল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতি দিয়ে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নেয়।
বিবৃতিতে চেরি জানিয়েছে, গাড়ির নিরাপত্তার জন্য লাগানো একটি রশি ছিঁড়ে সামনের ডান চাকার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার কারণে দুর্ঘটনা হয়। এর ফলে চাকায় শক্তি সরবরাহ বা পাওয়ার ডেলিভারি বাধাগ্রস্ত হয় এবং এই বিপত্তি ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের ঝুঁকি মূল্যায়নে ত্রুটি ছিল বলেও স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়া মেরামত এবং সংশ্লিষ্টদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চেরি।
যে গাড়িটি নিয়ে এই স্টান্টের আয়োজন করা হয়েছিল, সেটি হলো একটি রেঞ্জ-এক্সটেন্ডেড হাইব্রিড এসইউভি। এই গাড়ির দাম শুরু প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার ৯০০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা। গাড়িটিতে রয়েছে ১.৫ লিটারের গ্যাসোলিন ইঞ্জিন এবং ৩৩.৭ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি প্যাক। অল-হুইল-ড্রাইভ এই সংস্করণ ৪২২ হর্সপাওয়ার ও ৫০৫ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপাদন করতে সক্ষম। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক মোডে এটি ২০৫ কিলোমিটার ও হাইব্রিড মোডে এটি মোট ১ হাজার ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে।
চেরি মূলত এই গাড়িটিকে একটি ‘অফ-রোড’ সক্ষমতাসম্পন্ন বাহন হিসেবে বাজারে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। ২২৫ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ও ২১ ইঞ্চির চাকার পাশাপাশি এতে ‘ট্যাঙ্ক-টার্ন’ ফাংশনসহ একাধিক অফ-রোড ড্রাইভ মোড রয়েছে।
তিয়ানমেন মাউন্টেনের এই স্টান্টটি ছিল চেরির সক্ষমতা প্রমাণের একটি বড় সুযোগ। তবে দুর্ভাগ্যবশত, এই ব্যর্থতা গাড়িটির প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং অনলাইনে গাড়িপ্রেমীদের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।