শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ভিসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন অনুষদের ডিন।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট ব্যুরো ও ঢাবি প্রতিনিধি জানান-
ঢাকা: ঢামেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শফিকুল আলম চৌধুরী ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দেবেশ চন্দ্র তালুকদার পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে পদত্যাগ করেন তারা।
পদত্যাগপত্রে তারা লেখেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরাসরিভাবে অবস্থান করে ছাত্র-জনতার কাছে নিজের আস্থা হারিয়ে আমি আমার অধ্যক্ষ পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি।’
এর আগে বেলা ১১টার দিকে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শফিকুল আলম চৌধুরী এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দেবেশ চন্দ্র তালুকদারের পদত্যাগ দাবিতে তাদের কক্ষের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর পদত্যাগ করেন তারা।
ঢাবি প্রতিনিধি জানান, ঢাবির কলা অনুষদ, চারুকলা অনুষদের ডিনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে এবার পদত্যাগ করলেন আইন অনুষদের ডিন ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ। আজ উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। কয়েক দিন ধরে অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহর পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান ও ডিন অফিসসহ বিভাগের সব ধরনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে অফিসগুলোয় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তার পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে ১৯ আগস্ট কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির ডিনের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর অধ্যাপক আবদুল বাছিরের অনুমতিতে তাকে নিয়ে কোরআন তেলাওয়াত ও হাত তুলে দোয়া করেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্বৈরাচারের পক্ষাবলম্বন’ করায় শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন একই দিনে পদত্যাগ করেন।
সিলেট ব্যুরো: সিকৃবির ভিসি প্রফেসর ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভূঞা গতকাল বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো পত্রে তিনি লেখেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আমি ২১ নভেম্বর ২০২২ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস- চ্যান্সেলর (ভিসি) হিসেবে যোগদান করি। বর্তমানে আমার ব্যক্তিগত কারণে ভাইস চ্যান্সেলর পদ হতে অব্যাহতি চাচ্ছি।’
এর আগে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভিসি মো. জামাল উদ্দিন ভূঞা রাতে ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে যান। গত ১১ আগস্ট থেকে সিকৃবির ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। এরপর ভিসির কুশপুতুল দাহ, প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এর আগে ভিসির অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি নিয়ে খবরের কাগজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।