বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চলমান ‘গণত্রাণ কর্মসূচি’তে ত্রাণসামগ্রী আসা কমেছে। তবে বেড়েছে নগদ অর্থ সংগ্রহ। এ ছাড়া বর্তমানে কাপড় সংগ্রহ বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ও শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে পড়ে রয়েছে হাজার হাজার প্যাকেটবন্দি ত্রাণের কাপড়।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) টিএসসি ও শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে এ চিত্র দেখা গেছে। গতকালই সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পাঁচ ট্রাক কাপড় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ক্যাফেটেরিয়া এবং শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছয়টি ট্রাক বন্যাদুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ত্রাণবোঝাই ১২টি ট্রাক পাঠানোর কথা রয়েছে। এদিকে ত্রাণ কম আসায় নগদ অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী কেনা হচ্ছে।
চলমান গণত্রাণ কর্মসূচিতে সাত দিন ধরে ত্রাণ প্যাকেজিং এবং ত্রাণবোঝাই গাড়িতে ত্রাণ ওঠানোর কাজ করছেন ঢাকা স্টেট কলেজ ফারদিন রহমান। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘দিন দিন ত্রাণসামগ্রী অনেক কম আসছে। তা ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে মালও নেই। বিস্কুট একেবারেই শেষ। অন্যদিকে বাচ্চাদের জন্য গুঁড়ো দুধ শেষের দিকে। তাই অন্য দিনের তুলনায় কাজের চাপও অনেক কম।’
খিলগাঁও মডেল কলেজে এইচএসসি পড়ুয়া রাব্বী মিরাজ বলেন, ‘শুক্রবার গণত্রাণ কর্মসূচি নবম দিন। শুরুতে আমরা লোকজনের ত্রাণ বিতরণে যেমন সাড়া দেখেছিলাম, সেটি তুলনামূলকভাবে কমে আসছে। তা ছাড়া শুনতে পাচ্ছি বন্যার পানিও কিছুটা কমে যাচ্ছে। হয়তো ত্রাণ কম আসার এটি একটি কারণ।’
ত্রাণকাজে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবকদের সংখ্যাও দিন দিন কমেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক, স্বেচ্ছাসেবী যেসব শিক্ষার্থী ত্রাণ প্যাকেজিং এবং গাড়িতে ওঠানো পর্যন্ত কাজ করতেন, সেই সংখ্যাটি কমছে। কেননা স্কুল-কলেজ খুলেছে, পড়াশোনাও পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। যার ফলে উপস্থিতিটাও অনেকটা কম। আমি নিজেই এখন দুপুর কিংবা বিকেলে আসি, আবার রাত ১০টায় ফিরি। তারপরও যে পরিমাণ ত্রাণ আসছে এবং যত স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে তা পর্যাপ্ত।’
বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে পানি কমাতে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাদ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে বন্যার্ত তিন জেলাতে চলছে গণরান্না কর্মসূচি। এ ছাড়া বন্যার পানি কমলেও ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যার ফলে বন্যার্তদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে খবরের কাগজকে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বন্যার পানি কমায় শুকনো খাবারের চাহিদা কমে যাচ্ছে। তারা ডাল-ভাত খেতে চাচ্ছেন। তাই আমরা গণরান্না কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছি। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় আমরা কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনীতে গণরান্না কর্মসূচি চালমান রেখেছি। তারপরেও আমরা গণরান্নার পাশাপাশি শুকনো খাবারের ব্যবস্থা রাখব।’
চলমান কর্মসূচি প্রসঙ্গে আব্দুল কাদের বলেন, ‘শুরুতেই আমরা গণত্রাণ কর্মসূচিতে মানুষদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখেছি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে সেভাবে ত্রাণ আসছে না। তবে নগদ অর্থ ভালো আসছে। আর সংগৃহীত এ অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী কিনে আমরা বন্যাদুর্গত এলাকায় পাঠাচ্ছি। যেটি বলা হচ্ছে ইদানীং শুকনো খাবারের ত্রাণবোঝাই গাড়ি কম যাচ্ছে। এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, শুকনো খাবারের চাহিদাও কমেছে। দ্বিতীয়ত, বাজারে শুকনো খাবারের জোগানও কম।’
বন্যার পানি যেহেতু কমে যাচ্ছে, নতুন কোনো কর্মসূচি যুক্ত হতে যাচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বন্যা মানুষকে একেবারেই সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে। সে জন্য আমরা দু-এক দিনের মধ্যে পুনর্বাসনের দিকে নজর দিচ্ছি। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান থাকবে, আগে যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে বন্যার্ত এসব মানুষের একটি সুস্থ এবং সুশৃঙ্খল জীবনে ফিরতে শেষ পর্যন্ত এভাবেই পাশে থাকবেন।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী বলেন, ‘গেল কয়েক দিনে ৪৪টি ক্যাম্পে ৪৬টি সেবা প্রদানকারী টিমের সাহায্যে বন্যার্ত ১২ হাজার ২৪৫ জনকে প্রদান বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়েছে।’
আরিফ জাওয়াদ/এমএ/