বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ও বিএম কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার জেরে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ দাবি করেছেন। তবে সমন্বয়করা বলছেন, দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠকে সব নিরসন হয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়কদের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় হয়। তাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া ছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে দুই প্রতিষ্ঠানের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতা প্রদর্শনে যে যার মতো করে কাজ করেন। এই প্রেক্ষাপটে গত সোমবার রাতে বিরোধপূর্ণ জমির মীমাংসা করতে বিএম কলেজের একদল শিক্ষার্থী ববির এক শিক্ষার্থীর বাসায় যান।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই রাতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা এসে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। এতে কয়েকজন আহত হন। পরদিন মঙ্গলবার রাতে ববির দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। এরপর দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বিএম কলেজের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করেন ববির শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ববি ও বিএম কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুর দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কদের নেতৃত্বে তাদের ক্যাম্পাসে ও বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। এর কিছুদিন পর নগরীর নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কর্মসূচি পালন শুরু করেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে বরিশালে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে ওঠে। কিন্তু পটপরিবর্তনের পর বরিশাল বিভাগের নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
ববির সমন্বয়করা মনে করেন, তারাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এই বিভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন। এদিকে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিএম কলেজের সমন্বয়কারীরাও একই ধরনের মনোভাব পোষণ করেন। এর জেরে শক্তি প্রদর্শনের জন্য দুই দিন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
বিএম কলেজের অন্যতম সমন্বয়ক মহিউদ্দিন বলেন, ‘দেশের পটপরিবর্তনের পর সবার মধ্যে কেমন যেন পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। যে যার মতো করে কাজ করছেন। সমন্বয়কারীদের কারও সঙ্গে কারও সমন্বয় হচ্ছিল না।’
বিএম কলেজের আরেক সমন্বয়কারী সাব্বির হোসেন বলেন, ‘গত দুই দিনে যে ঘটনা ঘটেছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কারীদের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। হয়তো কারও কারও সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি থাকতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরাও শুনতে পাই কেউ কেউ নিজেকে বিভাগীয় সমন্বয়কারী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তবে বিভাগীয় সমন্বয়কারী বলতে কিছু নেই।’
তিনি বলেন, ‘গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষসহ দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়কদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। আগে কারও মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি থাকলেও বৈঠকে তা নিরসন হয়েছে। আমরা সবাই এক আছি। আগেও ছিলাম। ভবিষ্যতেও মিলেমিশে কাজ করতে চাই। এখানে কোনো বিভেদ নেই। আমাদের সম্পর্ক ও পথচলা আরও সুদৃঢ় হবে।’
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমন্বয়কারী সুজয় শুভর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।