ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সব উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি হয় সাফল্যের রেসিপি ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ ১২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০টি কালজয়ী মন্তব্য স্বাগতিকের চোখে স্বপ্ন, প্যারাগুয়ের চোখে চমক শেষটায় মেসি-রোনালদোর প্রথম দ্বৈরথ দেখা যাবে? নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু আজ আশার প্রদীপ ডেভিড মরক্কো শিবিরে বড় ধাক্কা, নেইমারকে নিয়ে এখনো দোলাচলে ব্রাজিল গোলের চেয়ে লাল কার্ড বেশি, লজ্জার ইতিহাস ৪০ বছর বয়সেও অদম্য জিকো মাঠে উল্লাস, বাইরে মৃত্যু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ লাল কার্ড, জয়ে শুরু মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ফুটবল ও গাজাবাসীর বাস্তবতা কানাডার স্বপ্নযাত্রা নাকি বসনিয়ার চমক? রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হলেন মরিনিও পেনাল্টি শূন্য ম্যারাডোনা কুইনোনসের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে মেক্সিকো ৬০০ ভক্তের যাতায়াত খরচ দেবেন জার্মানির ফুটবলাররা ‘ফিফা বিশ্বের রাজা নয়’ শাকিরার সুরের মূর্ছনায় বিশ্বকাপের বর্ণিল উদ্বোধন দর্শকের ভালোবাসাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি: সূচরিতা বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দলে তাওহিদ-রবিউল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা বাংলাদেশের খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস পরাশক্তিরা যেদিন মাঠ ছেড়েছিল কান্নাভেজা চোখে দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত আবারও রক্তাক্ত কাশ্মীর, সংঘর্ষে নিহত ১৬ সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক
Nagad desktop

সরকারি চাকরির বয়স ৩২ ও ৪ বার বিসিএস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০৯ পিএম
সরকারি চাকরির বয়স ৩২ ও ৪ বার বিসিএস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে চাকরিপ্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। গত আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আন্দোলনটি আরও জোরদার হয়। এরপর তারা বিভিন্ন কর্মসূচিসহ শাহবাগ অবরোধও করে। চলমান ইস্যুতে গত ২৪ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ এবং তিনবারের বেশি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এই ইস্যুতে আন্দোলন করে আসা শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি রাজপথে চলছে আন্দোলন-অবরোধও। গত ৩০ অক্টোবর সচিবালয় অভিমুখে মিছিল নিয়ে এগোতে থাকলে আন্দোলনকারীদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছোড়ে পুলিশ। এরপর গত ৩১ অক্টোবর এক বিজ্ঞপ্তিতে চারবার বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানায় অন্তর্বর্তী সরকার। তবে চারবার বিসিএস নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। যারা ইতোমধ্যে চারবার বিসিএস দিয়ে ফেলেছেন, তাদের ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি। এমন সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন ৩৫ প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা। তবে অনেক শিক্ষার্থী সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদও জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। আজকের প্রতিবেদনে এ ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরছেন খালিদ ফারহান


এনামুল হক
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সেশন: ২০১৭-১৮

বাংলাদেশের বিসিএস এর প্রেক্ষাপট বর্ণনায় টুয়েলভথ ফেইল সিনেমার মনোজ (কেন্দ্রীয় চরিত্র) আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আর্থসামাজিক দিক ও বিসিএস সম্পর্কে বাংলাদেশের তরুণদের একটা দিক মনোজ প্রতিনিধিত্ব করে। উন্নয়নশীল দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের ৭০ ভাগ জনগোষ্ঠী কৃষির উপর নির্ভরশীল। সেই কৃষি পরিবার বা নিম্নবিত্ত অন্যান্য পেশার সাথে জড়িত থাকা পরিবার থেকে যখন কেউ উচ্চশিক্ষা লাভ করে তখন স্বাভাবিকভাবেই সে চেষ্টা করে তার পরিবারের উন্নতির জন্য অথবা নিজেকে শিক্ষিত হিসেবে সম্মানজনক পেশায় দেখার জন্য।

ফলশ্রুতিতে, লেখাপড়া শেষ করেই খুব দ্রুতই একটি চাকরি পাওয়া আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যার জন্য দেখা যায়, পাবলিক বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশিই চাকরির প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে। সেই শুরু থেকে যদি চক্রাকারে ঘুরতে-ঘুরতে ২৪ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত চলে যায়, অথবা এই ১১ বছরে ৭-৮টি বিসিএস দিয়ে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় পর্যবসিত হয়, তখন তা রাষ্ট্র বা সমাজের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে দারুণভাবে অপচয় করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সরকারি চাকুরিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর একটি অযৌক্তিক ভাবনা বলে আমি মনে করি। ৩৫ বছরে পাশ করে একজন ব্যক্তির চাকরিতে জয়েন করতে বয়স হবে ৩৭ বছর-যা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে খুবই বেশি। কেননা যেখানে ২৫ লাখের উপর বেকার তরুণ চাকরি পাচ্ছেনা অথবা বছরের পর বছর সরকারি চাকরির পিছনে পড়ে থাকছে, তখন এর প্রভাব পুরো সমাজেই পড়ছে। ৩০ বছর বয়সেই চাকরি না পেয়ে প্রচন্ড হতাশায় আত্মহত্যার খবরও আমরা দেখেছি, তাই ৩৫ বছর পর্যন্ত সরকারি চাকরির জন্য পড়ে থাকা মেধার অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। যার জন্য করোনা বা অন্যান্য অসুবিধা সাপেক্ষে ৩২ বছর-ই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য যথাযথ মনে করি। আর এই সময়ের মধ্যে একজন ব্যক্তি ৩-৫ বার বিসিএস পরীক্ষায় বসতে পারাটাই যৌক্তিক মনে করি। দিনের পর দিন অসংখ্যবার বিসিএস পরীক্ষার জন্য বসে থেকে হতাশ হওয়ার চেয়ে একটা টাইম ফ্রেম বেঁধে দেয়াটাই যৌক্তিক মনে করি। 

এরপরও কতবার বিসিএস দেয়া যাবে এই বিষয়টি আরো বিস্তারিত আলোচনা বা পর্যালোচনার দাবি রাখে। কিন্তু বয়সের ব্যাপারটি ৩৫ আমি অযৌক্তিক ই বলবো।

এন এম রাসেল
সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
সেশন: ২০১৭-১৮

সরকারি চাকরির মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের প্রথম পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে বিসিএস ক্যাডার। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের চারবার বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমার মতো সদ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করা প্রার্থীদের অনেকে হতাশ করেছে। 

একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি মূলত অনেকেই বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, যার দরুন এত ভালো প্রস্তুতি নেওয়াটা অনেকের পক্ষেই প্রায় সম্ভব হয়ে ওঠে না। তার জন্য অনেকেই প্রথমবার বিসিএস দিলে এতটা প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারে না। অনেক বড় ভাই-আপুর থেকে জানতে পাই যে, তাদের কেউ কেউ ৫/৬/৭ বার পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডার হতে পেরেছিলেন। এ দেশের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক সংকটের জন্য নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই বহন করেন। সেক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষাকে সীমাবদ্ধতায় রাখা ঠিক হবে কি?- আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখলাম। স্বপ্নে যদি সীমাবদ্ধতা থাকে তাহলে স্বপ্ন শিকড়েই নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের মতো যারা টিউশন অথবা ক্লাস শেষে আলাদা কাজ করে অর্থ জোগান দিয়ে পড়াশোনা চালান, তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত হতাশা সৃষ্টি করবে। আশা রাখি, বর্তমান সরকার আরও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তে উপনীত হবে।

শাহরিন জান্নাত নীরা
তৃতীয় বর্ষ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ কতবার বিসিএস দিতে পারবেন- এমন সময় বেঁধে দেওয়ার দিকে মনোযোগ না দিয়ে বরং এক একটা বিসিএসের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াকাল (প্রিলি-রিটেন-ভাইভা, ভেরিফিকেশন ও গ্যাজেট প্রকাশের সময়কাল) কী করে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্য সম্পন্ন করা যায়, তার দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়াটা জরুরি বলে আমি মনে করি।

তাছাড়া প্রথমে পিএসসির পূর্ণ সদস্য গঠন করে আগের ঝুলে থাকা নিয়োগগুলো সম্পন্ন করা উচিত, যাতে পরবর্তী বিসিএসগুলোয় এই সুদীর্ঘ কালক্ষেপণ কমিয়ে আনা যায়। 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিসিএস ক্যাডার হওয়া বেশির ভাগেরই স্বপ্নের পেশা। সেক্ষেত্রে শুরুতেই এভাবে এত কম সময় (চারবার) বেঁধে দেওয়ার কারণে যারা পূর্বেই কয়েকবার পরীক্ষা দিয়ে ফেলেছেন- এমন প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যারা একদমই নতুন, তারা টিকে থাকতে না পেরে বৈষম্যের শিকার হবে বলে আমি মনে করি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ছয়বার আইসিএস দেওয়ার নিয়ম চালু রয়েছে। 

যেহেতু চাকরির বয়স ৩২ করা হবে, বাংলাদেশে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ কতবার দিতে পারবেন তা একান্তই বেঁধে দিতে হলে ন্যূনতম পাঁচ থেকে সাতবার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি।


মো. আমান উল্লাহ খান 
পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 
সেশন: ২০১৬-১৭

বাংলাদেশের বৃহৎ যুবসমাজকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। তবে দেশে সরকারি এবং বেসরকারি চাকরির বাজার বৃদ্ধি করে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই নতুন বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।  
সরকারি চাকরিতে বয়সের প্রবেশসীমা বৃদ্ধিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কারও মতে, এতে যুবসমাজ উপকৃত হবে। আবার কেউ দাবি করছেন বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে বেকারত্ব হারের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

বয়স নির্ধারণে পৃথিবীব্যাপী যে প্যারামিটারকে প্রাধান্য দেওয়া হয় তা হলো, সে দেশের নাগরিকদের গড় আয়ু এবং তাদের শারীরিক সম্ভাবনার গড় অবস্থা। সেই হিসাবে বাংলাদেশে সরকারি চাকরির বয়স বৃদ্ধি করে ৩২ বা ৩৫ করা অযৌক্তিক নয়। তবে চারবার বিসিএস পরীক্ষাদানের সীমাবদ্ধতা নাগরিক অধিকারের ওপর চরম হস্তক্ষেপ। ফলে রাষ্ট্রকে বয়স থাকাকালীন সরকারি চাকরিতে নাগরিকদের সুযোগ প্রদানের সীমাবদ্ধতা নির্ধারণের মধ্য দিয়ে নাগরিক জীবনের ওপর হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে রাষ্ট্র তার সক্ষমতার প্রমাণ দিক, নাগরিকের ওপর অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করে নয়।

জান্নাতুন নাঈম 
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
১৭ ব্যাচ (দ্বিতীয় বর্ষ)

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের নতুন সিদ্ধান্তে ৩৫ প্রত্যাশী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট নয়। তাদের দাবি, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ (পুরুষ) এবং ৩৭ (নারী) করার পাশাপাশি অন্তত আটবার বিসিএসে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হোক। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এ দাবি সরকার মেনে নিলে সেটি দীর্ঘ মেয়াদে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

প্রথমত, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ালে অবসরের বয়সসীমাও বাড়াতে হবে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে বেকারত্ব কমার পরিবর্তে বাড়বে। স্বাভাবিকভাবে একজন ৩২ বয়স্ক এবং ষাটোর্ধ্ব চাকরিজীবীর কর্মক্ষমতা ও সৃজনশীলতা অসমান হবে।

দ্বিতীয়ত, একাধিকবার বিবিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলে চাকরিপ্রার্থীদের নতুন কোনো সুযোগ না খুঁজে সরকারি চাকরি না হওয়া পর্যন্ত বিসিএস এবং সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রবণতা থেকে যাবে। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের একটা দীর্ঘসময় বেকার থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। 

সেক্ষেত্রে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ এবং বিসিএস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ চারবার অংশগ্রহণ নির্ধারণ করে দেওয়া যৌক্তিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে।

হাসান

আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিশেষ আবাসন বৃত্তি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৯ হাজার টাকা করে বৃত্তির চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১৫তম ব্যাচ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ২০তম ব্যাচ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১২৪ জন শিক্ষার্থী এ বিশেষ বৃত্তির আওতায় এসেছেন। উদ্বোধনী দিনে প্রতীকীভাবে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির সৌজন্যে প্রথম কিস্তির ৯ হাজার টাকার চেক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বৃত্তির অর্থ বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “চলতি সপ্তাহেই বৃত্তির অর্থ বিতরণের মূল পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। বৃত্তির অর্থ বিতরণের সার্বিক পদ্ধতি নিয়ে আগামীকাল বৃত্তি কমিটির একটি জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে আমাদের প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের কথা বিবেচনা করেই এই বিশেষ বৃত্তির অর্থ দ্রুত বিতরণের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। শুধু বৃত্তিই নয়, আমাদের মেগা প্রজেক্ট অর্থাৎ দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণকাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আমি নিজেই খুব দ্রুত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাবো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা সবসময় কাজ করে যাব।

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব
গুলশানে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ক্যাম্পাসে মৌসুমি ফল উৎসব। ছবি: খবরের কাগজ

দেশীয় ফলের ঐতিহ্য ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী ‘মৌসুমি ফল উৎসব’।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকাল ১১টায় উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আগ্রহে এ ফল উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিবারই আমাদের নবান্ন উৎসব, বৈশাখের আয়োজন করে থাকি। সব সময়ের মতো এবারও শিক্ষার্থীরা অনেক আগ্রহের সঙ্গে উপভোগ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম খান নাঈম, স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর আবুল কালাম, স্কুল অব ল’র ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড অ্যাডমিনের পরিচালক আফরোজা হেলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. জাহেদুর রহমান, প্রক্টর মো. আনিছুর রহমান, স্ট্র্যাটেজিক অপারেশন্স অ্যান্ড স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ও হেড মুশফিকুর রহমান ধ্রুব, এবং পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ও হেড জাহিদ হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির বলেন, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উপস্থিতিদের মধ্যে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন প্রজন্মকে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকুক এই প্রত্যাশা রাখছি।  

শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। আম, জাম, লিচু, কাউ, কাঁঠাল, লটকনসহ বিভিন্ন দেশীয় রসালো ফলের সমারোহ ও সুবাসে মুখরিত ছিল পুরো ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের ছাদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।  

সাগুফতা/এসএন

পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম
রাবি অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম কনক। ছবি: সংগৃহীত

একাডেমিক কাজের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম কনক।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে রেজিস্ট্রার দপ্তর বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, সম্প্রতি আমার একাডেমিক কাজ এবং গবেষণার কাজের ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছে। ছাত্র উপদেষ্টার মতো পদে থেকে যদি শিক্ষার্থীদেকেই সময় দিতে না পারি তাহলে এই পদে থাকার মানে হয় না।

তিনি আরও বলেন, গতকাল (বুধবার) এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি। সেই শিক্ষার্থী আমার সঙ্গে একবার কথাও বলেনি। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় না এই পদে আমি আর থাকতে পারি।

পদত্যাগপত্রে তিনি বলেছেন, একাডেমিক এবং গবেষণামূল কাজের ব্যস্ততার কারণে বর্তমানে আমার পক্ষে ছাত্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা সম্ভবপর নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল ইসলাম মাসউদ বলেন, পদত্যাগপত্র আমি পেয়েছি। বিষয়টা উপাচার্য স্যারকে  মৌখিকভাবে জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

উল্লেখ্য, তিনি ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।

শাকিবুল হাসান/নাঈম

মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা হবে এলইডি স্কিনে

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা হবে এলইডি স্কিনে
ছবি: খবরের কাগজ

‎আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা বড় পর্দায় দেখানোর ব্যবস্থা করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) প্রশাসন। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৮ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হচ্ছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে স্থাপিত এই স্ক্রিনে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি প্রদর্শন করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারেন এবং ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলামের উদ্যোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, খেলাধুলাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। ফুটবলের পাশাপাশি অন্যান্য খেলাধুলা, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

‎এর আগে,  শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে খেলা দেখার ব্যবস্থা করার দাবিতে মাভাবিপ্রবি ছাত্রদল উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়। গত ৯ জুন এ স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বড় পর্দার মাধ্যমে বিশ্বকাপের খেলা উপভোগের দাবি জানানো হয়। পরে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে বড় পর্দায় বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুযোগ তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। প্রশাসনের এ উদ্যোগে তারা আনন্দিত। তাদের মতে, একসঙ্গে খেলা দেখার আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করবে। 

‎এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অনেক শিক্ষার্থী উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্বকাপ ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের দল ও তারকা খেলোয়াড়দের ছবি নিয়ে থিমভিত্তিক ডিসপ্লেরও ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা স্মৃতিচারণমূলক ছবি তোলার সুযোগ পাবেন।

জুয়েল রানা/খাদিজা রুমি/

জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামের নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর তাদের পদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অধ্যাদেশ অনুসারে তাদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান আর বহাল নেই। তবে তারা এখনও জাকসুর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রি অর্ডিন্যান্সের ৬.১ ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ব্যর্থ হলে বা উত্তীর্ণ না হলে কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না। বিভাগীয় সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে একবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা জানান, নিয়মিত মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়তে হয়। এরপর তারা আর নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচিত হন না। প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি ও বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবেদা সুলতানাও একই কথা বলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নিয়মিত মাস্টার্স ২০২২-এ একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুসারে নিয়মিত মাস্টার্সে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বৈধ ভোটার হিসেবে বিবেচিত হন। কিন্তু নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচে) এর মাস্টার্স পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রত্বের বৈধতা হারিয়েছে জাকসু ভিপি জিতুর।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, “ইনস্টিটিউটের নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচ) পরীক্ষা শেষ হয়েছে। জিতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাকে বিধি অনুসারে বিশেষ পরীক্ষা দিতে হবে।”

অন্যদিকে জিএস মাজহারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থী। তবে তিনি একবছর ড্রপ দেওয়ায় গত মাসে অর্থাৎ মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে ছাত্রত্ব শেষ করেন জাকসু জিএস মাজহার। বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, জাকসুর জিএস মাজহার তার একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করেছে। এখন ফলাফল প্রকাশ করা বাকি রয়েছে।

জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জাকসুর সদস্য হওয়ার নীতিমালা সুস্পষ্ট থাকলেও নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষে পদ ছাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তবে আমি নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী কার্যনির্বাহী সভায় নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর পদত্যাগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব আনা হবে।”

ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “জাকসুর কারা প্রার্থী হতে পারবে তা উল্লেখ থাকলেও কারো ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলে তখন কী হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। যেহেতু গঠনতন্ত্রে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ নেই, তাই পদে থাকা না থাকা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।”

নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ এ জিতু পরীক্ষায় অংশ নেননি জানিয়ে বলেন, তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলেও অনিয়মিত হিসেবে এখনো শিক্ষাজীবন আছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।”

উল্লেখ্য যে, জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো কারণে জাকসুর ভিপি ও জিএস এর পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠ কার্যনির্বাহী সদস্য ও জ্যৈষ্ঠ সহসাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে ভারপ্রাপ্ত ভিপি ও ভারপ্রাপ্ত জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন  

আমানউল্লাহ খান/এসএন