বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অন্যতম সমন্বয়ক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানকে অশ্লীল ও কুৎসিত ভাষা প্রয়োগে মানহানির অভিযোগ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতি।
রবিবার (১৭ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর এক স্মারকলিপিতে এ অভিযোগ করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির কার্যালয়ে অফিসার সমিতির উদ্যোগে রাবি সহায়ক কর্মচারী সমিতি, পরিবহন টেকনিক্যাল সমিতি, সাধারণ কর্মচারী ইউনিয়নের সমন্বয়ে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গত ১৫ নভেম্বর সালাহউদ্দিন আম্মারের পোষ্য কোটা নিয়ে করা ফেসবুক পোস্টকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের সন্তানদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার, মানহানীকর ও অসম্মানের উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে অভিযুক্তের কর্মকাণ্ডকে শিষ্টাচার বহির্ভূত উল্লেখ করে নিন্দা জ্ঞাপন করা হয় । সকল সমিতির পক্ষ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতিকে বক্তব্য দানকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পত্র প্রদানের পর দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অফিসার সমিতি, অন্যান্য সমিতি ও ইউনিয়নের যৌথ সভায় পরবর্তী কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে বলেও জানায় তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাবি অফিসার সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, ‘সালাউদ্দিন আম্মার তার একটি ফেসবুক ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের সন্তানদের ‘হিজড়া’ বলেছেন। যা একটি শিষ্টাচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড। তিনি আমাদের আত্মসম্মানে আঘাত করেছেন। এর প্রতিবাদস্বরূপ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন করেছি। তবে তিনি যদি এর সমাধান দিতে ব্যর্থ হন তাহলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, ‘আমার উদ্দেশ্য কোনোভাবেই মানহানি করা নয়। মেধার বিপরীতে পোষ্যকোটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি নিজেদের সুবিধাবঞ্চিত মনে করেন তবে তাদের বেতন বাড়িয়ে দেওয়া হোক। তাদের যদি কোটার দরকার হয় তাহলে প্রতিবন্ধী কোটার মত একটা যৌক্তিক কোটার ব্যানারে চলে আসুক। এই কথা তাদের কাছে যদি মানহানিকর মনে হয়ে থাকে তাহলে আমরা আশা করছি তারা এই কথায় লজ্জিত হয়ে পোষ্যকোটা বাতিলের বিরুদ্ধে একমত হবে।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব জানান, স্মারকলিপিটি আমরা হাতে পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যান্য সকলের সাথে পরামর্শ করে বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করবো।
উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর সালাউদ্দিন আম্মার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পোষ্যকোটা বাতিলের জন্যে দুই দিনের আলটিমেটাম দেন। পোস্টের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, “যদি এই কোটা থাকে তবে ১. রাজশাহীর ৩ জন শহিদের জীবন ফিরিয়ে দিতে হবে। ২. শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সন্তানদের কোটার নাম ‘বিশেষ তৃতীয় লিঙ্গ’ দিতে হবে।”
এস আই সুমন/মাহফুজ/এমএ/