রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) আবাসিক হলগুলোর ডাইনিংয়ে প্রাণ ফিরেছে। পরিবেশিত হচ্ছে মানসম্মত খাবার। তবে খাবারের দাম কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, আবাসিক শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল ডাইনিংব্যবস্থা নিয়ে। সেখানে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। এর জন্য দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনাও করে প্রভোস্ট বডি।
একপর্যায়ে হলগুলোর ডাইনিং পরিচালনার দায়িত্ব নেন শিক্ষার্থীরা। তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নতুন ছন্দে ফিরেছে হলের ডাইনিং। আগের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ মিল (খাবার) বিক্রি হচ্ছে। আবাসিক শিক্ষার্থী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সেখানে খাবার খেতে আসেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল রয়েছে তিনটি। একটি মেয়েদের, অপর দুইটি ছেলেদের। গত এক নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের দিয়ে প্রথম পরিচালিত হয় শহিদ মুখতার ইলাহী হলের ডাইনিং। এরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ডাইনিং পরিচালনার দায়িত্ব নেন ছেলেরা।
গত ১৭ নভেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী আবাসিক হল পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। পরে খাবারের মান যাচাইয়ে শহিদ মুখতার ইলাহী হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে রাতের খাবার খান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রভোস্ট বডিকেও উপাচার্যের সঙ্গে খেতে দেখা যায়।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর রশিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগদানের পরপরই গত ৭ নভেম্বর হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খেতে আসেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, প্রভোস্টসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও হলে খেতে আসেন।
একাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী খবরের কাগজকে জানান, শিক্ষার্থীরা হল পরিচালনা নেওয়ার পর খাবারের মান বেড়েছে। এখন অনেকেই হলের ডাইনিংয়ে খান। ভর্তুকি দিয়ে যদি খাবারের দাম ২৫-৩০ টাকার মধ্যে আনা যায়, তা হলে সবাই ডাইনিংয়েই খাবেন। কেউ রান্নাবান্না করে আর সময় নষ্ট করবেন না।
ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, ‘আগের চেয়ে হলের খাবার উন্নত হয়েছে। টাকা অনুযায়ী খাবার ভালো হচ্ছে। ভর্তুকি দিয়ে দাম কমালে ভালো হয়। অনেকের কাছে এক বেলা খাবারের দাম ৪০ টাকা বেশি হয়ে যায়। দুই বেলা খেতে ৮০ টাকা লাগে। খাবারের সঙ্গে পিঁয়াজু বা ভর্তা নিলে দুই বেলা ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এই বিষয়গুলো প্রশাসনের সুনজর আশা করছি।’
শহিদ মুখতার ইলাহী হলের ডাইনিং পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জেন্ডার ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী কাওসার আহমেদ বলেন, ‘আগে ৪০ টাকার মধ্যে যেই খাবার দেওয়া হতো, সেই তুলনায় আমরা আরও ভালো খাবার দিচ্ছি। আগে খাবারের স্বাদ পাওয়া যেত না। সবারই কম-বেশি অভিযোগ ছিল। সেই তুলনায় এখন ভালো রিভিউ পাচ্ছি। এখন খাবারের গুণগতমানের দিকে খেয়াল রাখছি। আমরা চাই এই ধারা অটুট থাকুক।’
শহিদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘হলের খাবার নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনেক অভিযোগ ছিল। সে জন্য আমরা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মধ্যেই পরিচালনার দায়িত্ব দিই। ফলে এখন খাবারের মান অনেক বেড়েছে।’
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি সময় পেলে শিক্ষার্থীদের দেখতে আবাসিক হলগুলোতে যাই। তাদের সমস্যাগুলো শুনি। তাদের মাঝে হলের ডাইনিংয়ের খাবার নিয়ে অনেক অভিযোগ ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ডাইনিং পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খাবারের মান বেড়েছে। আমি নিজেও খেয়ে দেখেছি। তবে তাদের মেস সিস্টেম চালু করার কথা বলেছি। তা হলে খাবারের মান বাড়বে, একই সঙ্গে খরচও কমবে।’