পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) র্যাগিংয়ের অভিযোগে সাত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। র্যাগিংয়ের শিকার তিন শিক্ষার্থীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (২৪ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে যান। পাশাপাশি তাদের চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ সময় তিনি র্যাগিংয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আহত শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেন।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে এম কেরামত আলী হলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মুহাম্মাদ ইমাদুল হক প্রিন্স।
এ সময় আহত শিক্ষার্থীদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষের (২০২৩-২৪ সেশন) শিক্ষার্থীদের গণরুমে এসে মোবাইল ফোন জমা নেয়। পরে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন তারা। এ সময় তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষার্থীদেরকে কান ধরে ওঠবস করা, জানালায় ঝুলিয়ে রাখা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, সিগারেটের ধোঁয়া দিয়ে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করাসহ বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
এ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন ও সহকারী প্রক্টর মো. আব্দুর রহিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় প্রাথমিক তদন্তে ২০২২-২৩ সেশনের সাত শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদেরকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এ বিষয়ে পবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, “র্যাগিং বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করার পরও এ ধরনের ঘটনা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। প্রাথমিক পর্যায়ে সাতজনকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও সতর্ক থাকবে।”
হাসিবুর রহমান/সাদিয়া নাহার/