ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মিটিংয়ে আওয়ামীপন্থি তিন সদস্যের নিমন্ত্রণ ও সিন্ডিকেটে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান ও প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ খানের সঙ্গে ছাত্রদলের হট্টগোলের অভিযোগ ওঠে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের দাবি এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রোডম্যাপের ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এ আলটিমেটাম দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহিন সরকার।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন ডাকসু নির্বাচনের পক্ষে কথা বলার পর থেকেই ছাত্রদল এবং অন্য যারা ষড়যন্ত্রকারী আছে তারা কথা বলা শুরু করেছে। আমরা চাই অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে যেন ডাকসু নির্বাচন দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে উপাচার্য স্যারকে মেরুদণ্ড সোজা রেখে ডাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা আহ্বান জানান। তার সময়সীমা মাত্র ৭২ ঘণ্টা। যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা না হয়, তা হলে কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচিতে যাব।’
এতে অন্যদের মধ্যে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, আরবি বিভাগের আবিদ হাসান রাফি, স্যার এএফ রহমান হলের এবি জোবায়ের, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মোহাম্মদ ইমরান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান আল ফাহাদ বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিক্ষোভকারী ‘এক দুই তিন চার, ডাকসু আমার অধিকার’, ‘টেম্পো না ডাকসু, ডাকসু ডাকসু’, ‘কবরস্থান না ডাকসু, ডাকসু ডাকসু’, ‘চাঁদাবাজ না ডাকসু, ডাকসু ডাকসু’, ‘সন্ত্রাস না ডাকসু, ডাকসু ডাকসু’, ‘গেস্টরুম না ডাকসু, ডাকসু ডাকসু’, ‘গণরুম না ডাকসু, ডাকসু ডাকসু’, ‘চাঁদাবাজের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
ডাকসু নিয়ে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, দাবি ছাত্রদলের
ছাত্রদল ডাকসু চায় না, ছাত্রদল ডাকসু দেরিতে হোক- ছাত্রদলকে নিয়ে প্রচারিত এমন বক্তব্য ভিত্তিহীন বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদল। ওই দিন রাত ১টা ৫০ মিনিটে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ছাত্রদল ডাকসু চায় না, ছাত্রদল ডাকসু দেরিতে হোক- এ রকম বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও মনগড়া শিরোনামে সংবাদ প্রচার করা নিতান্তই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হীন একটি চক্রান্তের অংশ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।’ এমতাবস্থায় সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ারও আহ্বান জানানো হয় এতে।
তিন হলের চার ছাত্রদল নেতা শোকজ
জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সিনেট ভবনের সামনে ছাত্রদলের মানসুর রাফি, আবিদুর রহমান মিশুসহ একদল নেতাকর্মী উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খানের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। মিশু উপাচার্যকে উদ্দেশ করে বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রদল এখনো রাজনীতি শুরুই করতে পারেনি। অস্থিতিশীল এক পরিবেশে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ব্যানারে রাজনীতি করছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষের চাপের মুখে অনির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্যদের সভায় এখনই ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
এদিকে এ ঘটনায় ঢাবি শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন হলের চার ছাত্রদল নেতা শোকজ করা হয়। শোকজ পাওয়া নেতারা হলেন- বিজয় একাত্তর হলের দপ্তর সম্পাদক সাকিব বিশ্বাস, একই হলের সহ-দপ্তর সম্পাদক সাদমান সিদ্দিক, মাস্টারদা সূর্য সেন হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবিদুর রহমান মিশু ও হাজী মোহাম্মদ মুহসীন হলের প্রচার সম্পাদক মনসুর আহমেদ রাফি।
ওই চার শোকজে বলা হয়, ‘দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে আগামী শনিবার (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত ব্যাখ্যা সশরীরে উপস্থিত হয়ে জমাদান ও উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন আজ এই নির্দেশনা প্রদান করেন।’
আরিফ জাওয়াদ/জোবাইদা/