বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৮৪ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার জন্য ৭৩ জন আর এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় ১১ জনসহ মোট ৮৪ জনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। আরও তদন্ত করে যদি গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পান তাহলে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার চত্বরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহিদ ও আহতদের স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স, হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিন কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ড. কামাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করার জন্য তাদের ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে। কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে বহিষ্কারাদেশ বাতিল করা হবে।’
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফের সঞ্চালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন পর্ষদের পরিচালক ও প্রশাসকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১৪ জুলাই রাতে আর ১৫ জুলাই দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছিল। একই দিন কেন্দ্রীয় সহসমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদকে শাটল ট্রেন থেকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের মুঠোফোন তল্লাশি চালিয়ে মারধরের অভিযোগও উঠেছিল। এ ছাড়া ৩১ জুলাই এক শিক্ষকের বাসায় বোমা হামলা ও ক্যাম্পাসে কর্মরত দৈনিক পূর্বদেশ-এর সাংবাদিক শাহ রিয়াজকে মারধরের অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।
এমএ/