শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বাসের সংখ্যা কম থাকায় শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। আসনের চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে বাসগুলোকে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে। এ কারণে প্রতিদিনই শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে এবং দরজার সামনে ঝুলে যাতায়াত করতে হয়।
কখনো-বা বাসে ঝোলারও জায়গা মেলে না। ওই সময় নিরুপায় হয়ে বেছে নিতে হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সেখানে ভাড়া বেশির পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় শিক্ষার্থীদের। তবে এ নিয়ে প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা আট হাজার ৫৭ এবং তাদের জন্য বরাদ্দ বাস ৯টি। প্রতিটি বাসে মোট সিট আছে ৫২টি। সে অনুযায়ী বাসের মোট সিট সংখ্যা ৪৬৮টি। হিসাব করে দেখা গেছে, প্রায় ৮৯৫ শিক্ষার্থীর জন্য ১টি বাস এবং প্রায় ১৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি সিট বরাদ্দ আছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে থাকেন। পর্যাপ্ত বাস না থাকায় ক্লাস শেষে তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় ফিরতে হয়। এ ক্ষেত্রে ভাড়ার সমস্যা তো আছেই, এর মধ্যে চালকদের বাজে ব্যবহারের পাশাপাশি মেয়ে শিক্ষার্থীরা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া আমাদের অর্থ ও সময় নষ্ট হচ্ছে। তাই বাস সংখ্যার পাশাপাশি শিডিউল বাড়াতে হবে। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় বাস চললে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’
সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে যাতায়াতের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়া এখন প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘প্রতিদিন ক্লাস শেষে ভিড়ের মধ্যে বাসে যাতায়াত করতে হয়। মাঝে মাঝে দাঁড়ানোর জায়গাও হয় না। এ দিকে আবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যার পর রাত ৮টা পর্যন্ত কোনো বাস থাকে না। ওই সময় কোনো উপায় না পেয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত সিএনজিচালিত অটোরিকশার ড্রাইভারের খারাপ ব্যবহার এবং বখাটেদের ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এ সমস্যার সমাধানের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক এ এফ এম জাকারিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছি। যদি নতুন বাস কেনা সম্ভব না হয় তাহলে বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করার ব্যাপারে আলোচনা চলছে।’
এ দিকে বেশ কিছুদিন ধরে মেয়েদের জন্য আলাদা একটি বাসের দাবি করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে অধ্যাপক এ এফ এম জাকারিয়া বলেন, ‘এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে। যদি পর্যাপ্ত বাসের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে মেয়েদের জন্য একটি আলাদা বাসের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাসসংকটের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত নতুন বাস কেনা সম্ভব হচ্ছে না, ততদিন পর্যন্ত বাস ভাড়া নিয়ে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করা হবে।’