ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
Nagad desktop

স্বল্প খরচে পড়াশোনা শেষে স্থায়ী হওয়ার দারুণ সুযোগ স্পেনে

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৫, ০৭:৩২ পিএম
আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৫, ০৭:৩৬ পিএম
স্বল্প খরচে পড়াশোনা শেষে স্থায়ী হওয়ার দারুণ সুযোগ স্পেনে
টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মাদ্রিদ ছবি: সংগৃহীত

বিচিত্র সংস্কৃতি আর উন্নত অর্থনীতির দেশ স্পেন অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কাছে স্বপ্নের দেশ। আর হবেই না বা কেন, যেখানে খোদ আমেরিকা থেকে শিক্ষার্থীরা যেখানে যায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে আশা করি আর কিছু বলার প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন দেশের স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীদের মতো আপনারও যদি স্বপ্ন থাকে স্প্যানিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার, স্পেনে ঠাঁই পাওয়ার, তবে আজকের এই লেখা আপনার জন্য। 

কেন স্পেনে পড়তে যাবেন?
ইউরোপের দেশ স্পেনের রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। পশ্চিম ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশ স্পেনের ভাষা স্প্যানিশ, মুদ্রা ইউরো আর রাজধানী মাদ্রিদ। সারা বিশ্বে পৃথিবীর অন্যতম উন্নত অর্থনীতির দেশ স্পেন। তাই এ দেশ আপনাকে এনে দিতে পারে সাফল্য।   

কোর্স খোঁজা ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
প্রতি বছর সারা বিশ্বের হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্পেনের মোট ৭৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে আসেন। স্পেনের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে। দেশটিতে শুধু স্প্যানিশ ভাষায় পড়ানো হয় এমন না, ইংরেজি ভাষায়ও পাঠ দান করা হয়ে থাকে। ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি সব প্রোগ্রামই ইংরেজি ভাষায় করার সুযোগ আছে। কিন্তু যদি আপনার স্প্যানিশ ভাষা জানা থাকে তাহলে আপনার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মোচন আরও সহজ হবে।
 
স্পেনে পড়তে যাওয়ার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা
স্পেনে ব্যাচেলর পড়তে যাওয়ার জন্য এইচএসসি পাস, মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য ব্যাচেলর ডিগ্রি এবং পিএইচডি করার জন্য থাকতে হবে মাস্টার্স ডিগ্রি। এরপর আপনার দরকার হবে ভাষাগত দক্ষতার। আপনি ইংরেজি ভাষায় কোর্স করতে চাইলে আপনাকে IELTS-এ ন্যূনতম ৫.৫/৬.০ স্কোর পেতে হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে এই স্কোর পরিবর্তিত হয়। আর আপনি যদি স্প্যানিশ ভাষায় কোর্স নিতে চান তাহলে আপনাকে স্প্যানিশে আপনার B1/B2 বা DELE (Diploma of Spanish as a Foreign Language) Intermediate বা DELE B1/B2 থাকতে হবে।
উল্লেখ্য যে, স্প্যানিশ ভাষায় সরাসরি ব্যাচেলর প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীকে স্প্যানিশ ভাষায় ভর্তি পরীক্ষায় পাস করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
স্পেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীরা তিন ধাপে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তির আবেদন করতে পারে।
প্রথম ধাপে স্নাতক কোর্সে ভর্তি নেওয়া হয়, যা সাধারণত বছরের শুরুর (ফেব্রুয়ারি-জুন) দিকে ভর্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপে স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি নেওয়া হয়, যা সাধারণত বছরের মাঝখানের (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) দিকে ভর্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়।
তৃতীয় ধাপে গবেষণামূলক/PhD কোর্সে ভর্তি নেওয়া হয়, যা সাধারণত এপ্রিল-অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়।
স্পেনে দুই ধরনের মাস্টার্স কোর্স আছে: একটি অফিসিয়াল মাস্টার্স, যা স্পেনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনুমোদিত আর দ্বিতীয়টি হলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত ও অফার করা মাস্টার্স প্রোগ্রাম, যা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। মাস্টার্স প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে আপনার ব্যাচেলরের মার্ক্স স্পেনের সমতুল্য স্কেলে রূপান্তর করিয়ে নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য যেসব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস দরকার পড়বে তার তালিকা নিচে দেওয়া হলো-
১। সব একাডেমিক সার্টিফিকেট এবং মার্কশিট (স্পেনের স্কেলে রূপান্তর করা) 
২। মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার
৩। সিভি
৪। পাসপোর্টের কপি ও ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
৫। আবেদন ফি পরিশোধের প্রমাণ

আপনার ডকুমেন্টস সবকিছু ঠিক থাকলে, দু-এক মাসের মধ্যে আপনাকে মেইল করে জানিয়ে দেওয়া হবে। অ্যাকসেপ্টেন্স লেটার আপনার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর আবেদন কনফার্ম করার জন্য টিউশন ফির পুরোটা বা আংশিক অংশ বিশ্ববিদ্যালয়রে প্রদত্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিতে হবে। টিউশনের ফির কতটুকু অংশ জমা দিতে হবে, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভিন্ন হতে পারে। এই টিউশন ফি (আংশিক/ পূর্ণ) জমা দেওয়ার পরে, বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে অ্যাকপ্টেন্স লেটারের হার্ডকপি ও ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র পাঠাবে।

পড়াশোনার খরচ ও বৃত্তি
স্পেনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাইলে আপনার বার্ষিক ফি দিতে হবে ৬,০০-১,২৮০ ইউরো। আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হলে বার্ষিক ফির পরিমাণ হবে ৫,৫০০-১৮,০০০ ইউরো পর্যন্ত।
বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স ভেদে এই টিউশন ফির তারতম্য হয়ে থাকে। ইউরোপের বাইরের দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি ক্রেডিট ৫৫-৮০ ইউরো হয়ে থাকে আর মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে প্রতি ক্রেডিটের ফি হয়ে থাকে ২২-৩৬ ইউরো। 
স্পেনের পাবলিক ও প্রাইভেট সব বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে বৃত্তির সুবিধা। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেটে বৃত্তির খবরা-খবর জেনে নেওয়া ভালো। 

স্পেনের আবাসন ব্যবস্থা
স্পেনে আপনি কোথায় আছেন সেটার ওপর নির্ভর করবে আপনাকে আবাসন বাবদ কত খরচ করতে হবে। মাদ্রিদ বা বার্সেলোনার মতো শহরে থাকতে আপনাকে ৩৫০-৯০০ ইউরো দিতে হতে পারে শেয়ারড ফ্ল্যাটের জন্য। কিন্তু আপনি যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরে সালামাঙ্কা, স্যান্টিয়াগো ডি কম্পোসটেলা ও গ্রানাডা শহরে থাকেন আপনি ৩০০ ইউরোতে আপনার ফ্ল্যাট পেয়ে যাবেন। শুধু তাই নয়, অন্যান্য খরচও এখানে কম। আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলেও আবেদন করতে পারেন। দ্রুত আবেদন করলে আপনার হোস্টেলে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। আপনি যেখানেই থাকেন না কেন, ভিসার জন্য আপনাকে সংগ্রহ করতে হবে হাউজিং কন্ট্রাক্ট ডকুমেন্টস।

ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
স্পেনের ভিসা পেতে আপনার সময় লাগবে তিন মাসের বেশি, তাই আগে থেকেই আপনাকে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভিসা পাওয়ার প্রথম ধাপে আপনাকে ঢাকা স্পেনের দূতাবাস থেকে ভিসা প্রাপ্তির জন্য আবেদন করতে হবে। এজন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে নিচের ওয়েবসাইটে ভিজিট করে- 
http://www.exteriores.gob.es/embajadas/dhaka/es/Paginas/inicio.aspx
আপনি সব কাগজ নিয়ে সময়মতো এম্বেসিতে উপস্থিত হয়ে ডকুমেন্টস দাখিল করবেন। যদি সব ডকুমেন্টস ঠিক থাকে, তাহলে ভিসা ফি ব্যাংকে জমা দিয়ে রসিদসহ সব ডকুমেন্টস জমা দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের লিস্ট নিচে দেওয়া হলো-
১। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো অফার লেটার
২। সব সত্যায়িত ডকুমেন্টস, মার্কশিট ও সনদ
৩। পাসপোর্ট ও ফটোগ্রাফ
৪। সিভি, মোটিভেশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন বা রেফারেন্স লেটার
৫। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আর্থিক সচ্ছলতার ডকুমেন্টস
৬। IELTS / DELE B1-B2-এর সনদ
৭। হাউজিং সার্টিফিকেট/ ডকুমেন্টস  
১১। ফ্লাইট বুকিং টিকিট
১২। স্কলারশিপের পেপার (যদি থাকে)

খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ
স্পেনে একজন বিদেশি শিক্ষার্থী সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ পান। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, খণ্ডকালীন কাজের টাকায় নিজের খরচ চালানো সম্ভব হলেও টিউশন ফি দেওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।

স্পেনে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
স্পেনে উচ্চশিক্ষারত বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্চশিক্ষা সমাপ্তির পর স্পেনে একটি চাকরি খোঁজার জন্য অথবা নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রকল্প তৈরি/ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে সর্বোচ্চ ১২ মাস স্পেনে থাকার অনুমতি পান। এখানে পাঁচ বছর থাকার পর অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকে। তবে এজন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে যেমন- সফলভাবে স্পেনে কোর্স শেষ করতে হবে, স্বাস্থ্যবিমা থাকতে হবে এবং চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত চলার মতো আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণপত্র থাকা লাগবে। আর টানা ১০ বছর থাকার পর, আপনি স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সূত্র: studyspice.com

লেখক: শিক্ষার্থী, স্পেন

/রিয়াজ

আইইউবির কোষাধ্যক্ষ ওয়াছিম জাব্বার

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
আইইউবির কোষাধ্যক্ষ ওয়াছিম জাব্বার
মো. ওয়াছিম জাব্বার

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-এর (আইইউবি) কোষাধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. ওয়াছিম জাব্বার।

বুধবার (৩ জুন) তারিখে তিনি এ পদে যোগ দেন। 

তিনি খন্দকার মো. ইফতেখার হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
 
আইইউবিতে যোগদানের আগে জাব্বার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারে ৩২ বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। 

এ সময়ে তিনি জনপ্রশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনা ও নীতি বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
 
সর্বশেষ তিনি ইতালির তুরিনে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং সেন্টারে (আইএলও-আইটিসিআইএলও) ডিজিটাইজিং ইমপ্লিমেন্টেশন মনিটরিং অ্যান্ড পাবলিক প্রকিউরমেন্ট প্রজেক্ট–ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্রফেশনালাইজেশন (ডিআইএমএপিপিপি-সিডিপি)-এর ডেপুটি টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
 
এর আগে তিনি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (বিপিআই) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (বিয়াম) পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা), এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
 
জাব্বার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং (ইউএসটিসি) থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এক্সিকিউটিভ এমবিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। 

তিনি যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই (সিআইপিএস) থেকে প্রকিউরমেন্ট ও সাপ্লাই বিষয়ে ডিপ্লোমা, অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমা ও প্রফেশনাল ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন।

তিনি ২০১৭ সাল থেকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়াও, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিষয়ক জাতীয় প্রশিক্ষক হিসেবেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। তিনি সিআইপিএস ইউকে-এর সদস্য এবং ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস বাংলাদেশের আজীবন সদস্য।

বিজ্ঞপ্তি/

১ জুলাই উদযাপিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
১ জুলাই উদযাপিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস
ছবি: খবরের কাগজ

১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হবে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে অনুষ্ঠিত এক সভায় দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টায় উপাচার্য ভবন সংলগ্ন স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ জমায়েত হবেন। সেখান থেকে সকাল পৌনে ১০ টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখস্থ পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হবে। সকাল ১০টায় পায়রা চত্বরে জাতীয় পতাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা উত্তোলন করা হবে। 

এসময় জাতীয় সংগীত ও উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করা হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে একটি বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে তোরণ নির্মাণ করা হবে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এসময় অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রক্টর এবং অফিস প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯২১ সালের পহেলা জুলাই ৬০০ একর জমির ওপর পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশ সরকারের পরিত্যক্ত ভবনগুলো এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনগুলোর সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশ গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার এই দিনটি প্রতিবছর ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

নেচার ইনডেক্স র‌্যাংকিংয়ে দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবি

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
আপডেট: ০১ জুন ২০২৬, ১০:২৫ এএম
নেচার ইনডেক্স র‌্যাংকিংয়ে দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবি
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক গবেষণা মূল্যায়ন প্ল্যাটফর্ম ‘নেচার ইনডেক্স ইনস্টিটিউশনাল র‌্যাংকিংয়ে’ বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)।

সামগ্রিকভাবে দেশের সব গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইইউবির অবস্থান পঞ্চম এবং দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আইইউবি তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান (ফিজিক্যাল সায়েন্সেস) গবেষণার ক্ষেত্রেও এই র‌্যাংকিংয়ে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে আইইউবি।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধের ওপর ভিত্তি করে এই বিখ্যাত বৈশ্বিক র‌্যাংকিং তৈরি করা হয়। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণাকর্মের ওপর ভিত্তি করে এবারের মূল্যায়নটি করা হয়েছে। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় মোট চারটি গবেষণা প্রবন্ধ থেকে আইইউবির নেচার ইনডেক্স শেয়ার স্কোর দাঁড়িয়েছে ০.৬৩।

আইইউবির সেন্টার ফর কম্পিউটেশনাল অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সেসের (সিসিডিএস) কম্পিউটেশনাল ফিজিক্স উইংয়ের পরিচালক ও ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. জুয়েল কুমার ঘোষের দুটি গবেষণা প্রবন্ধ এবারের র‌্যাকিংয়ে ভূমিকা রেখেছে। 

প্রবন্ধ দুটি হলো ‘স্কেল উইদাউট কনফর্মাল সিমেট্রি ইন হাইড্রোডায়নামিক্স’ এবং ‘হাইড্রোস্ট্যাটিক ইকুইলিব্রিয়াম ইন মাল্টি-ওয়েইল সেমিমেটালস’। এগুলো প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে ইউরোপিয়ান ফিজিকেল জার্নাল সি এবং জার্নাল অফ হাই এনার্জি ফিজিক্সে।
এছাড়া আইইউবির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসের (কাসা) সহযোগী সদস্য ড. আনোয়ার জামান সজীব “অ্যান অ্যাকিউরেট মেজারমেন্ট অফ দা স্পেকট্রাল রেজোলিউশন অফ দা জেডব্লিউএসটি নিয়ার ইনফ্রারেড স্পেক্টোগ্রাফ” শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধটিও এই র্যাংকিংয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। এটি প্রকাশিত হয়েছিলো অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রফিজিক্স সাময়িকীতে।

আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, অর্থবহ বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অনুসন্ধানভিত্তিক গবেষণা সংস্কৃতি প্রয়োজন। আইইউবি গত কয়েক বছরে সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতার ক্রমবর্ধমান পরিপক্বতার প্রতিফলন।

আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ. লুন্ড বলেন, নেচার ইনডেক্স বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিশ্বের স্বীকৃত শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাকে মূল্যায়ন করে। এই র‌্যাংকিংয়ে আইইউবির অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা ও মানকে তুলে ধরেছে।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা নেচার ইনডেক্সকে উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নেচার, সায়েন্স, নেচার ফিজিক্স, দা ল্যানসেট, সেল, জার্নাল অফ হাই এনার্জি ফিজিক্স এবং অ্যাস্ট্রোনমি ও অ্যাস্ট্রফিজিক্স-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ এই সূচকে বিবেচনায় নেওয়া হয়।

বেরোবিতে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
বেরোবিতে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
ছবি: খবরের কাগজ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

এই উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এক বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী। এ সময় তিনি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাসুদ রানা।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

দোয়া ও মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশের অগ্রগতি, শান্তি ও জনগণের কল্যাণে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

দোয়া মাহফিল শেষে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে তবারক বিতরণ করেন।

গাজী আজম/আমান

ঢাবিকে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর, বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি সাদা দলের

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
ঢাবিকে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর, বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি সাদা দলের
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) কোচিং সেন্টারের সাথে তুলনা করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। অন্যথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে, হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষ‌রিত এক বিবৃ‌তি‌তে তা জানানো হয়। বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের চরম অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানানো হয়। 

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গবেষণা ও প্রকাশনায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থানে রয়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া র‍্যাংকিং অনুযায়ী, এটি বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গবেষণা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে প্রায় ৫৬টি সক্রিয় ও বিশেষায়িত গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র এবং সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র অন্যতম। এমনকি প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্কোপাস এবং ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সড জার্নালে অসংখ্য গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে দু'টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে তুলনা করেছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়: এই বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, জন্ম এবং বিকাশের ইতিহাসের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত।’

এতে আরো বলা হয়, ‘রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা ও সীমিত বাজেটের মধ্যেও এ দেশের শিক্ষা ও গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদান রেখে চলেছে, তা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। সংক্ষেপে বলতে গেলে বাংলাদেশ মানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এমন একটি ঐতিহ্যবাহী ও জাতীয় আবেগ জড়ানো প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে একজন দায়িত্বশীল প্রতিমন্ত্রীর মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলো কোচিং সেন্টার- এই ধরণের বক্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

বক্তব্য প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর কর্মসূচিতে নামার হুঁশিয়ারী দিয়ে বলা হয়, ‘এই অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্যের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সর্বোপরি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস ও অবদানকে চরমভাবে অপমান করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল অবিলম্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের এই অবমাননাকর মন্তব্য অতি দ্রুত প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছে। অন্যথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’

এর আগে ইউটিউবে প্রকাশিত একটি পডকাস্টে সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টার বলি। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি যে গবেষণা করে তার কানাকড়িও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করে না। যেখানে ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টেট সাবসিডাইজ, একশোর উপরে তাদের মেজর রয়েছে; সেই জায়গা থেকে নর্থ সাউথ এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, দুটো প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি; তাদের ডিপার্টমেন্টই আছে ৬-৭টি। অনেক বেশি বাই মার্জিন ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে বেশি রিসার্চ করে।’

আরিফ জাওয়াদ/এসএন