শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়টি খোলার তৃতীয় দিন মঙ্গলবারও (৬ মে) ক্লাসে যাননি শিক্ষকরা। এতে এখনো শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা শুরু হয়নি।
এদিকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থী। এরই মধ্যে দুই দফায় ক্ষমা চেয়েছেন তারা। কিন্তু শিক্ষকরা সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় কবে থেকে আবার ক্লাস শুরু হবে তা এখনো অনিশ্চিত।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘কুয়েটে আগে থেকেই দেড় বছরের সেশনজট রয়েছে। তার ওপর আড়াই মাস ধরে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। আমরা ইতোমধ্যে ভুল-ত্রুটির জন্য শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। আমরা দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যেতে চাই।’
জানা গেছে, কুয়েটে যোগদানের পর থেকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে নিয়োগ পাওয়া অন্তর্বর্তী ভিসি ড. মো. হযরত আলী দফায় দফায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলাদাভাবে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সার্বিক অবস্থার জন্য শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চাইতে অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কিছুটা নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানান। তবে এসব পদক্ষেপেও সংকটের নিরসন হয়নি।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই। শিক্ষকদের লাঞ্ছিত এবং কটূক্তি করা শিক্ষার্থীদেরও শাস্তি দিতে হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে শাস্তি নিশ্চিত না হলে শিক্ষকরা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক সব কাজ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভিসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় আমরা আমাদের দাবি তুলে ধরেছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে যাব না বলে তাকে জানিয়েছি।’
ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি নিয়ে কর্মসূচিতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক আহত হন। ওই দিন কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী তৎকালীন ভিসিসহ কয়েকজন শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং গালাগাল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।