আইন অমান্য করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কম্পিউটার সরবরাহ কাজের টেন্ডার একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)। বিপিপিএ জানায়, ওই টেন্ডারে মূল্যায়ন কমিটি স্বচ্ছতার পরিচয় দেয়নি। এর ফলে সরকারের ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এই টাকা কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য হবে।
জানা গেছে, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর কম্পিউটার সরবরাহের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সফট টেক, স্মার্ট টেকনোলজি (বিডি) লিমিটেড, ক্রিয়েচার কম্পিউটারস, গ্লোবাল ব্র্যান্ড লিমিটেডসহ মোট সাতটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার জমা দেয়। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ৪৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৫০ টাকায়, সফট টেক ৫৫ লাখ ৯১ হাজার ৯০০ টাকায়, স্মার্ট টেক ৫৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯০০ টাকায়, ক্রিয়েচার কম্পিউটার ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকায় এবং গ্লোবাল ব্রেন্ড প্রায় ৫৯ লাখ টাকায় কম্পিউটার সরবরাহের কথা জানায়। আইন অনুযায়ী ওয়ালটন সর্বনিম্ন দরপত্র দাখিল করায় কাজ তাদের পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের না দিয়ে টেন্ডারটি দেওয়া হয় সর্বনিম্ন দরপত্রদের মধ্যে তিনে থাকা স্মার্ট টেকনোলজিকে।
এ নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি ওয়াল্টন ডিজি-টেকের চিফ বিজনেস অফিসার মো. তৌহিদুর রহমান বিপিপিএ বরাবর একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ এপ্রিল রিভিউ প্যানেল-৩-এর চেয়ারপারসন মো. আলী কদর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, এই টেন্ডার প্রসঙ্গে মূল্যায়ন কমিটি স্বচ্ছতার পরিচয় দেয়নি। এর ফলে সরকারের ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা ক্ষতি হয়েছে। আর এই ক্ষতি কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য হবে।
রায় অনুযায়ী, আপিলকারী পিপিআর বিধিমালা, ২০০৮-এর ৬০ (৩) (৫) বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের ক্রয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকতে এবং মূল্যায়ন কমিটি গঠনের সময় আবশ্যিকভাবে বহি সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আপিলকারীর নিরাপত্তা জামানত ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিক ব্যাপারে ওয়ালন ডিজি-টেকের চিফ বিজনেস অফিসার ও অভিযোগকারী তৌহিদুর রহমান রাদ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ সংবিধানের নীতিমালা অনুযায়ী সিপিটিইউ বরাবর অভিযোগ দিই। কিন্তু তাদের কাছ থেকে (বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন) আমরা কোনো রিপ্লাই পাই না। তারপর অটোমেটিক্যালি সিপিটিইউর যে সর্বোচ্চ একটা আইন আছে, সেটা অনুযায়ী তারা চেয়ারপারসনের নেতৃত্বে একটা আদালত গঠন করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আদালত গঠন করার পরে সবাই ডকুমেন্টস দাখিল করে। এতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০ লাখের মতো জরিমানা করা হয়েছে।’
তবে কুবির টেন্ডার দেওয়া-সংক্রান্ত ‘কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি’ ও ‘দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি’র সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে তারা একজন আরেকজনের ওপর দায় চাপিয়ে দেন।
কারিগরি মূল্যায়ন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও আইসিটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাইফুর রহমান এবং সদস্য হিসেবে আছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ। এ ছাড়া দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, সদস্য হিসেবে আছেন আইসিটি সেলের প্রোগ্রামার এএমএম সাইদুর রশিদ। এ ছাড়া এই টেন্ডারের প্রকিউরমেন্ট এনটিটি হিসেবে আছেন আইসিটি সেলের প্রধান মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘নিয়ম অনুয়ায়ী লেখা ছিল যে ইন্টারন্যাশনালি রেপুটেড প্রতিষ্ঠান। ওয়ালটন দেশীয় কোম্পানি বলে বাদ দিয়েছে, আবার ওয়ালটন দাবি করেছে তারা ইন্টারন্যাশনালি রেপুটেড। এখন রায় হয়ে গেছে। তিনজন মনে হয় কমিটির মেম্বার, এই টাকা তাদের পকেট থেকে দিতে হবে। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় টাকা দেবে না।’