রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো হয়ে গেল তিন দিনের আন্তর্জাতিক বায়োসায়েন্স কনফারেন্স ও কার্নিভাল। এতে দেশি-বিদেশি ৩৫০ জনের বেশি বিজ্ঞানী ও গবেষক অংশ নেন। এ কনফারেন্স দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় দিক-নির্দেশনামূলক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের।
‘বায়োসায়েন্স ও বায়োসিকিউরিটি উদ্ভাবন এবং সহযোগিতা: একটি টেকসই স্বাস্থ্যসেবা এবং কৃষি দৃষ্টিকোণে অনুসন্ধান’ প্রতিপাদ্যে এবারের আসরের আয়োজক ছিল রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
শুক্রবার (১৬ মে) থেকে রবিবার (১৮ মে) তিন দিনের এ আয়োজনে বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন সেশনে দেশি বিদেশি ৩৫০ জনের বেশি বিজ্ঞানী ও গবেষক অংশ নেন। কনফারেন্সে স্থান পায় শিক্ষাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক ও শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক গবেষণা প্রজেক্ট। ছিল কর্মশালা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পোস্টার প্রদর্শনী এবং বৈজ্ঞানিক আলোচনা।
বৈচিত্র্যময় বায়োসায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণগুলোর মধ্যে পশুসম্পদ ও কৃষিতে ইমার্জিং ও রিইমার্জিং রোগ, কৃষিতে ইকোলজিক্যাল ডাইভার্সিটি, পশুসম্পদে সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে উপস্থাপন, আলোচনা করা হয়। ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল রোগ, বন্য ও পোষাপ্রাণীদের সংক্রামক রোগ, ক্যানসার-ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ ও ওষুধ শিল্পের উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, হাসপাতালের বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থাপনা, বঙ্গোপসাগরের মেরিন ফিশারিজ ব্যবস্থাপনা নিয়েও উপস্থাপন ও আলোচনা হয়। এ ছাড়া শিপব্রেকিং শিল্প, ওষুধের বিকল্প পণ্য ও ঐতিহ্যবাহী ভেষজ ওষুধ শিল্প ইত্যাদি বিষয় উপস্থাপন, আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থী এবং বিজ্ঞানীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
আয়োজনে অংশ নিতে পেরে নিজেদের গবেষণা ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অবারিত সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা অংশগ্রহণকারীদের। আয়োজন থেকে নতুন স্বপ্ন নিয়ে ফিরেছেন তরুণ গবেষকরা।
রবিবার দুপুরে কনফারেন্সে অংশ নেওয়া গবেষক ও শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রিয়া কর্মকার বলেন, ‘এখানে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত। বড় বড় বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও আইডিয়া এখানে উপস্থাপন হয়েছে। আমাদের চোখ খুলে গেছে। আমরা চাইলে অনেক দূর যেতে পারি। ফান্ড পেত পারি। আমরা আলোকিত হয়েছি।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘এই কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে আমাদের কানেক্টিভিটি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের চিন্তা করার পরিধিও বেড়েছে। পাশাপাশি সবার গবেষণাও আমরা জানতে পেরেছি।’
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আহমেদ হোসাইন জিননুরাইন জিন্নু বলেন, ‘মেডিকেল ফিল্ডে রিসার্চ সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে দেশের মানুষ ধীরে ধীরে গবেষণার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রিসার্চ কতটা ইফেক্টিভ, এই কনফারেন্সে এসে বুঝতে পরেছি।’
শুক্রবার (১৬ মে) রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সে এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। পরবর্তী দুই দিনের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে রাবিপ্রবির নিজস্ব ক্যাম্পাসে। রাবিপ্রবি ও বাংলাদেশ বায়োসেইফটি ও বায়োসিকিউরিটি সোসাইটির (বিবিবিএস) যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই আয়োজন।
রাবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও এই পাহাড়ি এলাকার মানুষের সঙ্গে এই গবেষণাগুলোর সংযোগ তৈরিতে সহায়তা করতে বিজ্ঞানীদের এই সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’