বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস” উপলক্ষ্যে ঐক্য ও বিজয় ফিস্টের (বিশেষ ভোজ) খাবারে পাওয়া গেছে ফড়িং, পোকা ও কাচা মাংসসহ স্বাদহীদ মোরগ পোলাও। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল সমালোচনা।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এ ফিস্টের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতি শিক্ষার্থী থেকে ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তারপরেও এ ধরনের খাবার সরবরাহ করা প্রশাসনের উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ। তারা দায়িত্ব পালনের নামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তামাশা করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, 'বরিশাল শহরের হুমাহুম ও নাজেমসের রেস্টুরেন্ট থেকে এই খাবার সংগ্রহ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। এর মধ্যে হুমাহুম রেস্টুরেন্টের খাবার নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেশি অভিযোগ পাওয়া যায়। ঐ রেস্টুরেন্টের খাবারে কেউ ফড়িং, কেউ মাছি পেয়েছেন। কারো খাবারের মুরগির মাংস আধা সেদ্ধ। কারো খাবারের মাংসে তাজা রক্ত লেগে আছে।'
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানজিল হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী লেখেন, ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থী থেকে ৫০ টাকা করে নিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়েছে। পোলাও কিংবা মুরগি কোনোটিতেই স্বাদ ছিল না। এর মধ্যে আবার মুরগি ঠিকমতো রান্না করা হয় নাই। কাঁচা, রক্ত মেশানো খাবার দেওয়া হয়েছে। এক বেলা খাবার খাওয়াতে যদি এত ব্যর্থতা থাকে, তাহলে এই প্রশাসন ভবিষ্যৎ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কতটা সফল হবে এটা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম। প্রশাসনের উচিত হবে যত দ্রুত সম্ভব হুমাহুম এর বিরুদ্ধে অভিযোগটা আমলে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নতুবা এটা বর্তমান প্রশাসনের একটা বড় ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হবে।’
আরেক শিক্ষার্থী ওলিউল্লাহ লেখেন, ‘খাবারে পোকা, প্রশাসন কীভাবে হুমাহুম এর মতো একটা নিম্নমানের রেস্টুরেন্টে থেকে খাবার অর্ডার করতে পারে?’ এটা সত্যিই লজ্জাজনক। টাকা দিয়ে এমন নিম্নমানের খাবার প্রত্যাশা করিনি।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঐক্য ও বিজয় ফিস্ট বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের বিজয় ভোজের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। খাবারের জন্য বরিশালের সবচেয়ে ভালো দুটি রেস্টুরেন্ট বাছাই করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে চারহাজার শিক্ষার্থীর জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। একটি রেস্টুরেন্টের পক্ষে এতগুলো খাবারের প্যাকেট সরবরাহ করা সম্ভব নয়, তাই আমরা দুটি রেস্টুরেন্টে অর্ডার দিয়েছি। খাবারের অর্ডার দেওয়ার আগে আমরা খাবার যাচাই করে দেখেছি, কিন্তু এতগুলো খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু কিছু প্যাকেটে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। যেহেতু এতগুলো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘আমি খাবারের সময় বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়েছি। তারা খাবারের মান ভালো বলে জানিয়েছে। তবুও এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে আমি দেখব।’
হুমাহুম রেস্তোরাঁর ম্যানেজার সাইদুর রহমান বলেন, 'আমরা চেষ্টা করি সবসময় ভালোমানের খাবার সরবরাহ করতে। আমাদের কিচেনে সবজায়গায় ক্যামেরা রয়েছে। আমরা সবসময় তদারকি করি কোনোভাবেই যেন নিম্নমানের খাবার সরবরাহ না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকের খাবারগুলো আমরা নিজ দায়িত্বে থেকে প্যাকেট করিয়েছি। স্যারেরা এসে খাবার খেয়ে অর্ডার করেছেন। আমাদের খাবারে পোকা, মাংসে কাঁচা রক্ত এবং নিম্নমান নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।'
জাকির/মেহেদী/