রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন–২০২৫-এর খসড়া ভোটার তালিকায় ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির ১১ জনের মধ্যে সাতজনের নাম নেই। নিয়মিত শিক্ষার্থী না হওয়ায় তারা ভোটার হিসেবে বিবেচিত হননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এবার রাকসু নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ১২৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৫ হাজার ৪৪০ জন এবং ছাত্রী ৯ হাজার ৬৮৭ জন।
নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, শুধু স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে নিয়মিত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাই ভোটার হতে পারবেন। সান্ধ্যকালীন বা স্বল্পমেয়াদি কোর্সে অধ্যয়নরতরা এর আওতায় আসেন না।
ছাত্রদলের যেসব নেতার নাম খসড়া ভোটার তালিকায় রয়েছে, তারা হলেন সহ-সভাপতি জান্নাতুন নাঈম তুহিনা (লোকপ্রশাসন, ২০১৯–২০), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষা (সংগীত, ২০২০–২১), সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু (আইসিই, ২০১৫–১৬; বর্তমানে ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে নতুনভাবে ভর্তি), ও দপ্তর সম্পাদক নাফিউল জীবন (আরবি, ২০১৭–১৮; বর্তমানে মাস্টার্সে)।
তবে কমিটির সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী (ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, ২০০৯–১০), সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল (সংগীত, ২০১১–১২), সিনিয়র সহ-সভাপতি সাকিলুর রহমান সোহাগ (ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ২০১২–১৩), সহসভাপতি মেহেদী হাসান (ভূগোল, ২০১২–১৩), সাবিহা আলম মুন্নি (আইন, ২০১৪–১৫), সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক (হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা, ২০১২–১৩) ও যুগ্ম সম্পাদক তাহের রহমান (ফারসি, ২০১৬–১৭) এ সাতজনের ছাত্রত্ব না থাকায় তারা ভোটার নন।
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল বলেন, ‘আমাদের কমিটি চলমান। আমরা আরও সদস্য অন্তর্ভুক্ত করব এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করব। আমাদের অনেক নেতা-কর্মী আছেন, তারাই নির্বাচনে অংশ নেবেন।’
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছাত্রদল আয়োজিত এক বিক্ষোভে সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ছাত্রদল কোনো ভুঁইফোড় সংগঠন না, এটা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় সংগঠন। যদি কেউ মনে করে রুয়ার মতো (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন) একতরফা বিনা ভোটে, জামায়াতের অনুগত হয়ে রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করবে তাহলে এতগুলো শিক্ষার্থী, ছাত্রদলের নেতা কর্মীর রক্তের উপর দিয়ে তাকে রাকসু নির্বাচন করতে হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায়, ‘‘অবৈধ তফসিল, মানি না মানব না’’, ‘‘ষড়যন্ত্রমূলক রাকসু, মানি না মানবো ন’’, ‘‘পাকিস্তানের রাজনীতি, চলবে না, চলবে না’’, ‘‘নকীব বাহিনীর রাজনীতি চলবে না, চলবে না’’ এমন সব স্লোগান দিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এনায়েত করিম/মাহফুজ