চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। এর মধ্যে চবি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলামের ভাস্কুলার ইনজুরি হওয়ায় গত সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
অপর দুইজনকে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে থেকে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) একজনকে হাসপাতালের আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পার্কভিউ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েমের (২৪) অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার চিকিৎসায় গতকাল পার্কভিউ হাসপাতালে দুইজন নিউরো সার্জন, একজন নিউরো মেডিসিন, একজন মেডিসিন, একজন অর্থোপেডিক ও একজন আইসিইউ বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
বোর্ডের মতে, প্রথম সিটি স্ক্যানে মাথায় জমাট রক্ত দেখা গেছে। তাই আবারও সিটি স্ক্যান করা হবে। সেখানেও যদি রক্ত দেখা যায়, তাহলে অপারেশন করার দরকার হবে। এক্ষেত্রে রোগীর অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন। ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে থাকার কারণে মাঝে মধ্যে তার খিঁচুনি হচ্ছে। বর্তমানে তার জ্ঞানের লেভেল ৮-৯ এর মধ্যে আছে। অন্যদিকে, আহত আবদুল্লাহ আলম মামুনকে (২৪) আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। তার জ্ঞানের লেভেল ১৪।
পার্কভিউ হাসপাতালের অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, একজনের আবস্থা আশঙ্কাজনক। তার মাথায় রক্ত জমাট হয়ে আছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। তাই তার অপারেশন দরকার হবে। অপরজনের অবস্থা উন্নতি হওয়ায় তাকে কেবিনে নেওয়া হয়। তিনি এখন কথা বলতে পারছেন।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় চবির দুই শতাধিক আহত শিক্ষার্থী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিক এবং বাসায় চিকিৎসা নেওয়া আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা হাজার ছাড়াবে বলে শিক্ষার্থীদের দাবি।
মাহফুজ/


