আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও ২১টি হল সংসদ নির্বাচনে ৩৪০টি পদের জন্য ৬২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এদের যার মধ্যে ৪৪৮ জন পুরুষ ও ১৭২ জন নারী রয়েছেন। প্রত্যেক ভোটার ৪০টি পদে (জাকসুর ২৫টি ও হল সংসদের ১৫টি) ভোট দেবেন।
জাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে ১৩টি পদে নারী-পুরুষ উভয় ভোটার ভোট দিতে পারবেন। এই ১৩টি পদে ৯৫ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১১ জন নারী। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে কোনো নারী প্রার্থী নেই, তবে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত তানজিলা হোসাইন বৈশাখী একমাত্র নারী প্রার্থী।
১০টি হলের ২০ জন নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপে তারা জানান, তারা লিঙ্গ সমতা ও নারী ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রার্থীদের সমর্থন করবেন।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুশরিকা আদ্রি বলেন, ‘যারা সন্ধ্যার কারফিউ ফিরিয়ে আনতে চায় বা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির সঙ্গে আছে, তাদের ভোট দেব না।’
সাংবাদিকতা বিভাগের জেরিন তাসনিম বৈশাখী বলেন, ‘নারীদের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার। যারা নারীবিদ্বেষ ছড়ায়, তারা সমাজকে পিছিয়ে নেয়। যারা নারীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করবে, এমন প্রার্থীদের ভোট দেব।’
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে প্রার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘মৌলবাদী শক্তি পরাজিত না হলে নারী শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়া বাড়বে।’
আরেক প্রার্থী ফারিয়া জামান নিকি বলেন, ‘নারীদের স্বাধীনতা সীমিত করতে চায়, এমন দল নির্বাচিত হলে ক্যাম্পাসের অন্তর্ভুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নারী ভোটাররা তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে আশা করি।’
নারী প্রার্থী ও ভোটারদের ভূমিকা
জাকসু ও ২১টি হল সংসদের ৩৪০টি পদের জন্য ৬২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ৪৪৮ জন পুরুষ ও ১৭২ জন নারী। প্রত্যেক ভোটার ৪০টি পদে (জাকসুর ২৫টি ও হল সংসদের ১৫টি) ভোট দেবেন। জাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে ১৩টি পদে নারী-পুরুষ উভয় ভোটার ভোট দিতে পারবেন। এই ১৩টি পদে ৯৫ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১১ জন নারী। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে কোনো নারী প্রার্থী নেই, তবে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত তানজিলা হোসাইন বৈশাখী একমাত্র নারী প্রার্থী।
১০টি হলের ২০ জন নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপে তারা জানান, তারা লিঙ্গ সমতা ও নারী ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রার্থীদের সমর্থন করবেন। নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুশরিকা আদ্রি বলেন, ‘যারা সন্ধ্যার কারফিউ ফিরিয়ে আনতে চায় বা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির সঙ্গে আছে, তাদের ভোট দেব না।’
সাংবাদিকতা বিভাগের জেরিন তাসনিম বৈশাখী বলেন, ‘নারীদের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার। যারা নারীবিদ্বেষ ছড়ায়, তারা সমাজকে পিছিয়ে নেয়। আমি নারীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করবে, এমন প্রার্থীদের ভোট দেব।’
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে প্রার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘মৌলবাদী শক্তি পরাজিত না হলে নারী শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়া বাড়বে।’
আরেক প্রার্থী ফারিয়া জামান নিকি বলেন, ‘নারীদের স্বাধীনতা সীমিত করতে চায়, এমন দল নির্বাচিত হলে ক্যাম্পাসের অন্তর্ভুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নারী ভোটাররা তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে আশা করি।’
প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ৫,৮১৭ নারী ভোটারের মধ্যে ৩,০০০-এর বেশি ভোট দিলে একাধিক পদের ফলাফল নির্ধারিত হবে।
চারবারের নির্বাচিত সাবেক জাকসু নেতা অধ্যাপক মোস্তফা এন. মনসুর বলেন, ‘নারী ভোটাররা নির্বাচনের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে।’
সাধারণ সম্পাদক পদের দৌড়ে তানজিলা হোসাইন বৈশাখী একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে নিজেকে রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘নারীদের জন্য রাজনীতি কঠিন। আমি দেখাতে চাই, যোগ্যতা থাকলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোনো যায়।’
তার প্রতিদ্বন্দ্বী অনন্যা ফারিয়া ভোটের দুদিন আগে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে লিঙ্গ সমতা, ১৯৭১-এর চেতনা ও ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানানোয় বৈশাখীর সম্ভাবনা বেড়েছে।
অন্যান্য জিএস প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের মাজহারুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরামের তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম, সম্প্রীতির ঐক্যের শারণ আহসান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাকিল আলী।
শিক্ষার্থীদের মতে, মাজহারুল কলা, সমাজবিজ্ঞান ও চারুকলা অনুষদে নারী ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে জীববিজ্ঞান ও বিজ্ঞান অনুষদে তিনি কিছু নারী ভোট পেতে পারেন। তার দলের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের সাইবারবুলিংয়ের অভিযোগ থাকলেও, ডানপন্থি সমর্থক ও জীববিজ্ঞান-বিজ্ঞান অনুষদের ভোটে তিনি বৈশাখীর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তৌহিদ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়েছেন, আর শরণ এহসান নারী ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য। সিয়াম ও শরণ বৈশাখীর ভোট ভাগ করে নিতে পারে, যা মাজহারের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।
ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু, যিনি গত বছরের জুলাই আন্দোলনে উঠে এসেছেন, নারী হলগুলোতে জনপ্রিয়। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত আরিফুজ্জামান ও ছাত্রদল সমর্থিত শেখ সাদী হাসান। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কয়েকজন নেতাও আরিফুজ্জামান উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন, তারা বলছেন আরিফুজ্জামান নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন, তিনি আসলে ডানপন্থি রাজনীতিতেই বিশ্বাস করেন। এজন্য তিনি ডানপন্থি ও জীববিজ্ঞান ও বিজ্ঞান অনুষদের নারী ভোট পেতে পারেন। সাদী উত্তরাঞ্চলের (রাজশাহী ও রংপুর) ভোটারদের সমর্থন পেলে ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারেন।
ইশতেহারে নারীবান্ধব প্রতিশ্রুতি
প্রার্থীদের ইশতেহারে নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন উঠে এসেছে। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল নারীদের জন্য সিসি ক্যামেরা, আলাদা নামাজ কক্ষ, যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল ও নারী চিকিৎসক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সম্প্রীতির ঐক্য হল সংস্কার ও নারী নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছে। ছাত্র ফ্রন্ট র্যাগিং বন্ধ ও নিরাপত্তা চৌকি বাড়ানোর কথা বলেছে। ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট নারী নিরাপত্তা, ডে-কেয়ার ও কমনরুমের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী লাল লম বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন নিশ্চিত করাই প্রার্থীদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’
অর্থনীতি বিভাগের তৈমুর খান তূর্য বলেন, ‘ইশতেহারে বাস্তবায়নযোগ্য দিক আছে, প্রার্থীরা শিক্ষার্থীবান্ধব হোক।’
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘৩৩ বছর পর ভোট দিতে যাচ্ছি। নির্বাচিত প্রার্থীরা অধিকার আদায়ে কাজ করবেন।’
আমানউল্লাহ খান/সুমন