চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ৭ দফা দাবিতে ৯ শিক্ষার্থীর ৫২ ঘণ্টার আমরণ অনশন ভাঙালেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. ইয়াহইয়া আখতার।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীরা’ ব্যানারে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য আলোচনার প্রস্তাব দিলেও অনশনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. ইয়াহইয়া আখতার শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় শিক্ষার্থীদের জুস খাইয়ে অনশন ভাঙান।
অনশনে অংশ নেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল চবির সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির, সাংগঠনিক সম্পাদক রাম্রা সাইন মারমা, রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক আহমেদ মুগ্ধ, দপ্তর সম্পাদক নাইম শাহজাহান, নারী অঙ্গনের সংগঠক সুমাইয়া শিকদার, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সংগঠক ঈশা দে, পিসিবি সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র।
শিক্ষার্থীরা যে দাবিগুলো তুলেছেন তার মধ্যে রয়েছে- ৩০ আগস্ট শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আহতদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ; শিক্ষার্থীদের জন্য ভ্রাম্যমাণ আবাসন ব্যবস্থা; নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির পদত্যাগ।
অনশনকারী শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র বলেন, 'আমরা বুঝতে পারছি, আমাদের যে সপ্তম দাবি-প্রক্টোরিয়াল বডির পদত্যাগ এটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরই অভিযোগ রয়েছে। আমি এখানে নিজে বসে আছি, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এখানকার কেউ দলীয় অ্যাজেন্ডা নিয়ে অনশনে বসেনি। গত ১১ মাসের প্রক্টোরিয়াল বডির কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে, ৩০ তারিখের ঘটনায় হাজারো শিক্ষার্থীর রক্ত ঝরার জন্য মূলত তারাই দায়ী। শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছে, এ প্রক্টোরিয়াল বডির কাছে তারা নিরাপদ নয়।
তাছাড়া, তারা নারী বিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করে এবং ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দিতেও ব্যর্থ হয়।'
শুক্রবার বিকেলে অনশনস্থলে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইয়াহইয়া আখতার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি তিনি দিতে পারবেন না, তবে আশ্বস্ত করেন যে শিক্ষার্থীদের সব দাবি আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
উপাচার্যের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আস্থা প্রকাশ করেন। পরে তিনি সবাইকে জুস খাওয়ালে প্রায় ৫২ ঘণ্টা পর তারা অনশন ভাঙেন। একই সঙ্গে তারা আগামী রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য অনশন ভাঙাতে গিয়ে ব্যর্থ হন। অনশনকারীরা তখন জানিয়েছিলেন, প্রক্টোরিয়াল বডির পদত্যাগ ছাড়া তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সর্বশেষ ৩১ আগস্ট সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় চার ঘণ্টা পর প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আল আরাফ/রিফাত/