ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ও বিভিন্ন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্দোলন জোরালো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থীরা এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করেছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার পর তারাও এই দাবিতে আন্দোলনে নামছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্র সংসদ না থাকায় তাদের দাবি-দাওয়া জানানোর নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যম নেই। ফলে তারা ‘অমুক ভাই-তমুক ভাই’-এর কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রকৃত নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না।
তাদের মতে, ছাত্র সংসদ না থাকায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা যায়। হলে সিট পাওয়া, জোর করে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া, রুম দখলসহ নানা সমস্যার সমাধান করতে ছাত্র সংসদ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, অধিকার আদায়ের জন্য ছাত্র সংসদের কোনো বিকল্প নেই।
বরিশালের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিএম কলেজে দুই যুগের বেশি সময় ধরে বাকসু নির্বাচন হয়নি। অথচ এখান থেকেই বহু জাতীয় নেতা তৈরি হয়েছেন।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ বিএম কলেজ শাখার সভাপতি জিয়াউর রহমান নাইম বলেন, ‘বিএম কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাকসু নির্বাচন বন্ধ। ফলে শিক্ষার্থীরা সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগও হারাচ্ছেন। এটা শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক বঞ্চনা।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও বিএম কলেজের শিক্ষার্থী মো. সাব্বির রহমান বলেন, “ছাত্র সংসদ না থাকায় আমাদের কোনো অভিভাবক নেই। সমস্যার সমাধানে ‘ভাইদের’ কাছে যেতে হয়। এটা কাম্য নয়। দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন চাই।”
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ছাত্র সংসদ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা অসাধারণ বৈচিত্র্য ফিরে এসেছে।
ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচিত ছাত্র সংসদগুলো তাদের কার্যকর তৎপরতা শুরু করেছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী ছাত্র সংসদ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ববি শাখার সভাপতি হাসিবুল হোসেন বলেন, ‘ছাত্র সংসদ ক্যাম্পাসে ছাত্রদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যা সংসদের প্রতিনিধিদের জানাবে, আর তারাই তা সমাধানের চেষ্টা করবে। এটাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হওয়া উচিত।’
সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর সভাপতি গাজী মুহাম্মাদ রেদোয়ান বলেন, ‘এই কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়েন। তারা শুধু পড়াশোনা নয়, নেতৃত্ব ও নৈতিক গুণাবলি নিয়েও আগ্রহী। ছাত্র সংসদ না থাকলে তাদের সেই বিকাশ থেমে যায়।’
তবে ছাত্রদল বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে। তাদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। সেভাবেই ছাত্রদলকে হারানো হয়েছে। এখন বাকসু নির্বাচন হলেও একই ঘটনা ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি বলেন, ‘আমরা বাকসু নির্বাচনের বিপক্ষে নই। কিন্তু ডাকসু-জাকসুতে যা হয়েছে, তা সবাই জানে। এখনো নির্বাচন উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়নি। ভোটে অংশ নিয়ে প্রহসনের শিকার হওয়া আমাদের জন্য অসম্মানজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি প্রশাসন নিশ্চিত করে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না, শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন, তাহলে ছাত্রদল অবশ্যই অংশ নেবে।’