রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
এ নির্বাচনে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা অনিয়মের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, ভোটার যাচাই থেকে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ, অধ্যাপক এনামুল হকসহ কমিশনের অন্য সদস্যরা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আমাদের লক্ষ্য একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। তাই প্রতিটি ধাপে নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত রাখতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।’
নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ক্যাম্পাসে ২ হাজার পুলিশ সদস্য, ১২ প্লাটুন র্যাব ও ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।’
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ভোটে কারচুপি ঠেকাতে আমরা তিন স্তরের যাচাইব্যবস্থা নিয়েছি, যেটিকে আমরা বলছি থ্রি ডাইমেনশনাল সিকিউরিটি। প্রথমত, ভোটারদের শিক্ষার্থী আইডি যাচাই করা হবে; দ্বিতীয়ত, প্রতিটি ভোটারের জন্য দেওয়া ইউনিক আইডি পরীক্ষা করা হবে এবং সর্বশেষ ধাপে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা থেকে মিলিয়ে নিশ্চিত করা হবে। কোনো সন্দেহ দেখা দিলে বিশেষ কিউআর কোডের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে। ফলে কোনো অবস্থাতেই জাল ভোট দেওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফলাফল প্রস্তুতে ৪৩ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। আমরা ডাকসু ও জাকসুর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছি। রাকসু নির্বাচনে কোনো তাড়াহুড়ো নয়, বরং নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য ফলাফল প্রকাশে আমরা বদ্ধপরিকর।’
কমিশন জানায়, ভোট গ্রহণ শেষে সব ব্যালট বাক্স সিলগালা করে বিশেষ নিরাপত্তায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আনা হবে। ওএমআর মেশিনে স্ক্যান করে ফলাফল প্রস্তুত করা হবে এবং সর্বোচ্চ ১৭ ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল প্রকাশের আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন পরিচালনায় ১৭ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ১৯৫ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ মোট ২১২ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশন ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে একাধিক দফা সভা করেছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন, প্রার্থী ৮৬০ জন। সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি ৫টি পদে ৫৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৯টি অ্যাকাডেমিক ভবনে স্থাপিত ১৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে রাকসু নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১০ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করব এবং কোনো প্রকার কারচুপি হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং কোনো কেন্দ্রেই যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করা।’
লড়াই হবে সাত পদে
রাকসুর সাত পদে হবে তুমুল লড়াই। এই পদগুলোতে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের অনেকেই ক্যাম্পাসে আলোচিত ও পরিচিত মুখ। ফলে নির্বাচনে জিতে শেষ হাসি কারা হাসবেন, তা এখনই বলা কঠিন।
সহসভাপতি (ভিপি) পদে আলোচনায় এগিয়ে আছেন চারজন প্রার্থী। তারা হলেন ছাত্রদল-সমর্থিত প্রার্থী শেখ নুর উদ্দিন আবীর, ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, সাবেক সমন্বয়ক ও প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ-সমর্থিত প্রার্থী মেহেদী মারুফ।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে এগিয়ে থাকা তিন প্রার্থী হলেন ছাত্রদল-সমর্থিত নাফিউল জীবন, ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থী ফাহিম রেজা ও সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে এগিয়ে থাকা পাঁচজন হলেন ছাত্রদল প্যানেলের জাহিন বিশ্বাস এষা, শিবিরের প্যানেলের সালমান সাব্বির, জুলাইয়ের সম্মুখসারির যোদ্ধা শাহ পরাণ, সাবেক সমন্বয়ক মাহায়ের ইসলাম ও ছাত্র অধিকার পরিষদের আল শাহরিয়ার শুভ।
ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে চারজনের মধ্যে লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা হলেন ছাত্রদল-সমর্থিত মোছা. নার্গিস খাতুন, সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের শীত কুমার উরাং, ছাত্রশিবির-সমর্থিত মো. হামিদুল্লাহ নাঈম ও সাবেক তিন সমন্বয়কের প্যানেলের মো. ইয়াসিন আরাফাত বিজয়।
সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক পদে লড়াই হতে পারে তিনজনের মধ্যে। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও গানের দলের পরিচালক কাজী শফিউল কালাম, ছাত্রশিবিরের জায়িদ হাসান জোহা ও ছাত্রদলের মো. আবদুল্লাহ আল কাফী। বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদের গোপাল রায়, ছাত্রশিবিরের ইমরান মিয়া লস্কর, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মামুনুজ্জামান স্নিগ্ধ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম সন্ধি। এ ছাড়া ৫৫ জন নির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ১৩ জন প্রার্থী আলোচনায় আছেন।